কৃষ্ণাঙ্গ বলে নামিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ; মামলা করেছিলেন ক্রিকেটার

0
389

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে বর্ণবাদ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। বর্ণবাদের মতো এই নিকৃষ্ট প্রথা বহুকাল ধরে চলে আসছে। প্রায় শত বছর আগে বর্ণবাদের শিকার হয়ে ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার সময় হোটেল ছাড়তে হয়েছিল নামকরা ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার লেরি কন্সট্যানটাইনকে। হোটেলের বিপক্ষে টর্ট আইনে মামলা করে প্রতিকারও পেয়েছিলেন তিনি।

কৃষ্ণাঙ্গ বলে নামিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ; মামলা করেছিলেন ক্রিকেটার
 সাবেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার লেরি নিকোলাস কন্সট্যানটাইন

১৯৪৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে লন্ডনে গিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার কন্সট্যানটাইন। ত্রিনিদাদের এই ক্রিকেটারের সাথে ছিল তার পরিবারও। লন্ডনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পুরো সময়টা তাদের লন্ডনের ইমপেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করার কথা ছিল। হোটেলে তাকে সপরিবারে সাদরে গ্রহণ হবে বলে জানলেও হোটেলে পা রাখার পরেই তিনি জানতে পারেন এক রাত পরেই তাকে এই হোটেল ছেড়ে দিতে হবে।

Advertisment

কন্সট্যানটাইন ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার। তারা দাদা ছিলেন একজন কৃতদাস। তিনি যখন ইমপেরিয়াল হোটেলে ওঠেন তখন সেই হোটেলে ছিলেন আমেরিকান আর্মির কিছু ব্যক্তি। তাদের আপত্তি ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে একই হোটেলে থাকতে। তারা বলেছিলেন, ‘আমরা নিগ্রদের সাথে একই হোটেলে থাকতে পারব না’।

আমেরিকানদের সেই কথা মেনে নিয়ে কন্সট্যানটাইনকে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছিল তাদেরকে পরেরদিনই এই হোটেল ছেড়ে দিতে হবে। তারা কন্সট্যানটাইনকে অন্য আরেকটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এই ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার সাথে সাথে ক্ষেপেও গিয়েছিলেন কন্সট্যানটাইন। তিনি প্রথমে হোটেলের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনেন। কিন্তু বর্ণবাদী আচরণের জন্য চুক্তি ভঙ্গের কোনো নির্দিষ্ট আইন তখন ব্রিটেনে ছিল না। তখন কন্সটানটাইন ইমপেরিয়াল হোটেল লিমিটেডের বিরুদ্ধে টর্ট আইন মামলা করেন।

উল্লেখ্য, টর্ট আইন হলো এই প্রকারের আইন যেখানে লিপিবদ্ধ কোনো অপরাধ বা প্রতিকার নেই; এই আইনে মূলত কোনো ভুল কাজের শিকার ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এটাকে অপরাধ না বলে বরং ভুল কাজ বলা যায় এবং প্রতিকার হিসাবে শাস্তি বা জরিমানা না করে দোষী ব্যক্তির কাছে শুধু ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেওয়া হয়।

চুক্তি আইনে যেতে না পেরে টর্ট আইনে মামলা করে প্রতিকার পান কন্সট্যানটাইন। ইমপেরিয়াল হোটেল থেকে নামিয়ে দেওয়ায় এই ক্রিকেটার ও তার পরিবারের প্রকৃত কোনো ক্ষতি না হলেও আইনগত ক্ষতিসাধন হয়েছিল। ফলে বিচারক বিরকেট কন্সট্যানটাইনের পক্ষে রায় দেন এবং হোটেল ইমপেরিয়ালকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৯৪৪ সালে পাওয়া সেই রায়ে কন্সট্যানটাইনকে মাত্র ৫ গিনি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

এই ক্রিকেটার পরে ক্রিকেট ও ব্রিটেনে বর্ণবাদী আচরণের বর্ণনা দিয়ে একটি বই লিখেছিলেন যার নাম কালার বার (১৯৫৪)।

কন্সট্যানটাইন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ১৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। যেখানে এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ৬৩৫ রান ও বল হাতে ৫৮টি উইকেট শিকার করেছিলেন। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯৯ ম্যাচে ৪৪৭৫ রান ও ৪৩৯টি উইকেট আছে তার নামের পাশে।

ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণ করা এই ক্রিকেটার মৃত্যুবরণ করেন ইংল্যান্ডে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছেড়ে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত এবং তখনই বিভিন্ন অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয় তাকে। কন্সট্যানটাইনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল আইনে এবং পরবর্তীতে রাজনীতিতেও পা রেখেছিলেন ক্রিকেট মাঠের এই অলরাউন্ডার।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।