কেন পারছেন না নাসির-বিজয়?

ত্রিদেশীয় সিরিজে সমর্থক-গণমাধ্যম বা টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা যে কজন ক্রিকেটারের উপর বেশি ছিল, তাদের অন্যতম দুজন এনামুল হক বিজয় ও নাসির হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুজনের কেউই জাতীয় দলে নিয়মিত নন। সুযোগ পাওয়ার পর তাই তাদের উপর চাপ কাজ করাটা স্বাভাবিক।

চাপেই চিঁড়েচেপটা বিজয়-নাসির?

Advertisment

তবে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করে দুজনের কেউই এখনও ভালো পারফরমেন্স প্রদর্শন করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার ফাইনালের আগে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের দৃষ্টিকটু ব্যর্থতার পর কাঠগড়ায় উঠল এই দুজনের পারফরমেন্সই। সেই সাথে উঠল প্রশ্ন, চাপেই কি দৈন্যদশা বিজয়-নাসিরের ব্যাটিংয়ে?

সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে মাশরাফির জবাব, ‘হতে পারে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপ হয়তো তারা নিতে পারছে কি না, আরেকটা হচ্ছে টেম্পারমেন্ট।’

মাশরাফি বলেন, ‘তারা দ্রুত রান তুলতে পছন্দ করে। উইকেটে সময় কাটানোর চেয়ে রান দ্রুত এলে তারা থিতু হয়ে যেতে পারে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদি দেখেন তিন-চার উইকেট পড়ার পরও ওদের স্ট্রাইকরেট ১০০ থাকে। ওয়ানডেতে কখনো কখনো উইকেট পড়ে গেলে অল্প সময়ে উইকেটে সেট হয়ে রান করার অভ্যাসটা সহজাতভাবে আমাদের একটু কম আছে।’

ব্যাটে রান না থাকায় বিজয়-নাসিরের মধ্যেও যে খারাপ লাগা কাজ করছে, সেটি অনুধাবন করে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের ভাষ্য, ‘একটা ঘাটতি থাকতে পারে। আমার মনে হয় ওরা নিজেরাও খারাপ ফিল করছে আমার থেকেও। আমার মনে হয় ওরা নিজেরাও খারাপ অনুভব করছে। আমি চাই ফাইনালের আগে এটা নিয়ে তারা চিন্তা করুক। ফাইনালের আগে আমার মনে হয় না ডিটেইলসে যাওয়া উচিৎ। আমি তাদের উপর কমপ্লেইন করতে পারতাম যদি তারা হার্ডওয়ার্ক ও চেষ্টা না করতো। তারা যে চেষ্টাটা করছে একটা-দুইটা ইনিংসে রান না করে ওখান থেকে বের হয়ে আসাটা কঠিন।’

তবে একদিকে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার স্বস্তি ও অন্যদিকে সিনিয়রদের ব্যর্থতার দিনে বৃহস্পতিবার বিজয়-নাসিরদের সামনে ছিল ভালো করার সুবর্ণ সুযোগ। সেটিও মেনে নিচ্ছেন মাশরাফি, ‘আজকে হয়তো বা তাদের জন্য আরও ভালো কিছু করার ছিল। উইকেটে আরও সময় কাটাতে পারত। ২০-২২ ওভারে অলআউট হয়েছি। যে সময়টা পেয়েছি… যদি আজকে স্ট্রাইক রেট কমও হতো তাহলেও কেউ প্রশ্ন আনতো না। আমার কাছে মনে হয় তাদের জন্য আজকে একটা ভালো সুযোগ ছিল।’

আরও পড়ুনঃ মোটেও অবাক হননি গুনাথিলাকা