কে এই নাঈম হাসান?

0
6188

শুক্রবার সকালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের বাংলাদেশ দল ঘোষণার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন- কে এই নাঈম হাসান? অখ্যাত এই ক্রিকেটার এতদিন ছিলেন প্রাদপ্রদীপের আলোর বাইরে। যাও একটু নাম শোনা গেছে, সেটি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার সময়। শুক্রবার নাইমের কাছে যখন পৌঁছে গেছে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর, তখন ভারতের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে তার দল প্রস্তুতি নিচ্ছে যুব বিশ্বকাপকে বিদায় জানিয়ে দেশে ফিরে আসার।

কে এই নাইম হাসান?

Advertisment

২০০০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া নাঈম হাসান মাহবুবুল আলম এবং মমতাজ বেগম দম্পতির পুত্র। ৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘকায় এই ক্রিকেটার পেস বোলিং দিয়েই শুরু করেছিলেন তার ক্রিকেট-নেশা। তবে একটা সময় আগ্রহ খুঁজে পান স্পিন বোলিংয়ে, আর শেষমেশ একেই বেছে নিয়েছেন নিজের পেশা হিসেবে।

সাকিব আল হাসানকে অনুসরণ করে চলা এই তরুণ ক্রিকেটারের উঠে আসা চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার মাধ্যমে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা দলের হয়ে আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েও বিভাগীয় দলে সুযোগ পাননি। জেদ চেপে যায় তখনই। ২০১৫ সালে জেলা দলের হয়ে একইসাথে সর্বোচ্চ রান এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে যান। এরপরই ডাক আসে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৮ দলে। ঐ দলের হয়ে ৬ ম্যাচে ২১ উইকেট ও ১৬৯ রান ঝুলিতে রেখে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে পোক্ত করা হয় সম্মানের জায়গাটি।

নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম ছিলেন একজন ফুটবলার। তবে ক্রিকেটের প্রতিও ছিল অনুরাগ, আর তাই ছেলের বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন থেকেই সুযোগ করে দিয়েছিলেন ক্রিকেট মাঠে বিচরণের। তামিম ইকবাল কিংবা আফতাব আহমেদদের দেখে একটা সময় মাহবুবুল আলমের শখ জাগে, ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন। এরপর বাবার ভালোবাসা আর সমর্থনে এতদূর এসেছেন নাঈম।

সর্বশেষ বিপিএলে নাঈম ছিলেন চিটাগং ভাইকিংসে। ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুব একটা হয়নি। তবে তারকাবহুল দলের সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করে অনেককিছু শিখেছেন। সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়েছেন যুব বিশ্বকাপে। এবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে, নতুন করে শেখার পাশাপাশি এখন পুরনো শিক্ষা কাজে লাগানোর পালা। নাঈম কি পারবেন আরেকজন সাকিব আল হাসান হয়ে উঠতে?

আরও পড়ুনঃ শুরুতে উইকেট হারানোকেই দায়ী করছেন সাইফ