ক্রিকেটের জন্য জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছি : বিজয়

যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আবির্ভাব, চোখেমুখে তখন তারুণ্য ঠিকরে পড়ার মত অবস্থা। এনামুল হক বিজয় এখন সংসার করে আরও গোছালো হয়েছেন, কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে এক মেয়ে সন্তানও। ক্রিকেটের জন্য জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকারের দাবি করা বিজয় মেয়ের জন্য হতে চান আরও ভালো, আরও স্বনামধন্য ক্রিকেটার।

ক্রিকেটের জন্য জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছি বিজয়

Advertisment

২৮ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান নন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় দলগুলোর নিয়মিত মুখ বিজয় বিডিক্রিকটাইমকে আত্মপ্তত্যয়ী কণ্ঠে ব্যাখ্যাও দিলেন নিজের ধারণার।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো খেলোয়াড়কে বড় দল দলভুক্ত করার উদ্দেশ্য হল সে দলটাকে জেতাবে। কোচরা আমাকে নেয়, আমাকে সবসময় চ্যাম্পিয়ন দলে খেলতে হয়। কারণ আমি দলকে জেতানোর জন্য শতভাগ দেই, উজাড় করে দেই।’

ক্রিকেটের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার কথা উল্লেখ করে বিজয় বলেন, ‘ক্রিকেটের জন্য আমার জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছি। কখনও টাকার পেছনে দৌড়াইনি, টাকার চিন্তা করিনি। আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি, দেশের জন্য খেলতে চাই, যেভাবেই হোক আমার সেরাটা দিতে চাই। আমার মধ্যে যে কোয়ালিটি আছে এটাকে আরও ভালো করে দেশকে সার্ভিস দিতে চাই। আমার কখনও কোনো কুচিন্তা ছিল না এখনও নেই। এখনও চিন্তা করি দেশের জন্য কী করা যায়।’

‘আমি দলের জন্য কিপিং ত্যাগ করেছি। ভেবেছি আমি ভালো ফিল্ডিং করি, উইকেটরক্ষণ আরেকজন করতে পারে, তাহলে ফিল্ডিংয়ে কোনো ভুল না হোক। ক্রিকেটের জন্য, দলের জন্য আমি আমার জীবনের অনেক কিছু ত্যাগ করেছি।’

বিজয় জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৯ সালে। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখতে পারেননি, তাই জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন। বিজয় অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠতে চান ভালো বাবা।

‘এখন আমি পিছিয়ে পড়েছি, এটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এক্সট্রা অর্ডিনারি পারফর্ম করতে হবে। আগে চেষ্টা করতাম বড় রান করার, এখন চেষ্টা করি দলকে জেতাতেই হবে। এখন আমার মেয়ে আছে। আমার মেয়ে যেন টিভিতে দেখতে পারে আমার বাবা প্রতি ম্যাচে রান করছে। আমি সুপার ডেডি হতে চাই। এটা আমার খুবই বড় লক্ষ্য। এটা পূরণে যতটুকু পরিশ্রম করতে হয় আমি করবো। আগে পাঁচ ম্যাচে একটা শতক করতাম, এখন তিন ম্যাচে করার লক্ষ্য করব। আমি আমার দিক থেকে পজিটিভ।’– বলেন তিনি।