Scores

ক্রিকেটের প্রতি এই সমর্থন উপমহাদেশেও বিরল

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট নিয়ে ধারণা নেই। তবে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠে সেই কথার কোন প্রমাণ মেলেনি।

ক্রিকেটের প্রতি এই সমর্থন উপমহাদেশেও বিরল
ছবি : লর্ডসে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে কাপের ফাইনাল, ছবি : লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড

 

বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের সাথে দলকে সমর্থনের দিক দিয়ে তুলনা নেই কারো সাথে। বলা হয়ে থাকে ভারত ও বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি সমর্থন করা হয় ক্রিকেটকে। সমর্থনের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও মাঠে এর চিত্র ভিন্ন। ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টিতে দর্শক মাঠে থাকলেও ক্রিকেটের আদি ফরম্যাট টেস্টে দর্শক খড়ায় ভুগে বাংলাদেশের স্টেডিয়াম গুলো। বাংলাদেশের ঘরোয়া লীগে দর্শক নেই বললেই চলে। শূন্য স্টেডিয়ামেই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের লীগ খেলতে হয়। ক্রিকেটের এত জনপ্রিয়তার পরও টেস্টে ও ঘরোয়া লীগে দর্শক সংকটে ভুগে দলগুলো উপমহাদেশে।

Also Read - শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি অস্ট্রেলিয়ার


তবে ইংল্যান্ডে যেন এর উল্টো চিত্র। ক্রিকেট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব একটা হই হুল্লোড় না শোনা গেলেও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের টেস্ট, ওয়ানডে, টি টোয়েন্টি সব জায়গাতেই দর্শকদের উপচে পরা ভীড়।প্রতিবছর লর্ডস টেস্টের প্রথম কয়েকদিনের টিকেট কয়েকমাস আগেই শেষ হয়ে যায়। পৃথিবীর একমাত্র দেশই বলা যায় ইংল্যান্ডকে যেখানে প্রতিটি ভেন্যুতেই টেস্ট ক্রিকেটে উপচে পরা ভীড় দেখা যায় দর্শকদের।

সবচাইতে অবাক করা বিষয় হচ্ছে ইংল্যান্ডে জাতীয় দলের মতোই ক্লাব ক্রিকেটের দলগুলো বিপুল সমর্থন পায়। কোন কোন দিক দিয়ে ক্লাব জাতীয় দলের চেয়েও বেশি সমর্থন পায়। ইংল্যান্ডের ক্লাব গুলো ৩ ফরম্যাটেই যেই সমর্থন পায় দর্শকদের কাছে তা হয়তো উপমহাদেশের ক্লাব গুলো কল্পনাও করতে পারবেনা টি টোয়েন্টি ক্রিকেট ছাড়া।ইংল্যান্ডই একমাত্র দেশ যেখানে বর্তমানে একসাথে চার পাচটি ভিন্ন স্টেডিয়ামে আলাদা আলাদা ম্যাচ পরিচালনা করলেও সবগুলো দর্শকে পরিপূর্ণ থাকবে।

উদাহরণ হিসেবে গতকালকের কথাই বলা যায়। ওভালে চলছিলো ভারত নিউজিল্যান্ড প্রস্তুতি ম্যাচ, সেই ম্যাচের টিকিট সব আগেই শেষ হয়ে যায়। একই সময়ে সাউদাম্পটনে চলছিলো ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ, সেই প্রস্তুতি ম্যাচেও দর্শক উপস্থিতি ছিলো ১২ হাজারের মতো।

সবচাইতে অবাক করা বিষয় একই সময় ওভালের কাছের স্টেডিয়াম লর্ডসেই চলছিলো ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ৫০ ওভার টুর্নামেন্টের ফাইনাল।সেখানে ছিলোনা বড় কোন তারকার উপস্থিতি। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচেও স্টেডিয়াম ১৬ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলো। যা ছিলো একই সময়ে চলা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচের তুলনায় বেশি। ইংল্যান্ডের ওয়ানডে কাপের ফাইনালে লড়াই করে সমারসেট ও হ্যাম্পশায়ার। হ্যাম্পশায়ার সাউদাম্পটন শহরের ক্লাব যেখানে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ চলছিলো।

জাতীয় দলের খেলা চলার পরও লর্ডসের স্টেডিয়ামে দুই দলের হাজারো একনিষ্ঠ সমর্থক মাতিয়ে রাখে পুরোটা সময়। ফাইনালে অংশ নেওয়া দল সমারসেটের অবস্থান লন্ডন থেকে বেশ দূরে। যাতে ভক্তরা নিজের প্রিয় ক্লাবকে সমর্থন দিতে পারে ওয়ানডে ক্লাবের ফাইনালে তাই সমারসেট থেকে ভোর বেলা সকালে দশটি বিশেষ কোচ ছাড়া হয় লন্ডনের উদ্দেশ্যে। ভোর বেলা হাজারো সমারসেট ভক্ত ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড টনটনে জড়ো হয় একত্রে দলকে সমর্থন দিতে লন্ডন যাওয়ার জন্য। ছবিটি সমারসেট টুইটারে প্রকাশ করে। ম্যাচের টিকিটের মূল্য ছিলো ৩০ পাউন্ড করে। ক্লাবের ওয়ানডে খেলা দেখার জন্য এমন নজির বিরল এশিয়াতে।

এইরকম সমর্থন অনেক জাতীয় দলও পেয়ে থাকেনা। সমারসেট সমর্থকরা দিন শেষে হাসি মুখেই বাড়ি ফিরেছেন। হ্যাম্পশায়ারকে হারিয়ে ওয়ানডে কাপ জিতে নেয় সমারসেট। জয়ের পর গ্যালারিতে খুশির আনন্দে মেতে উঠেন সমারসেট ভক্তরা। কারো চোখে চলে আসে আবেগের অশ্রু।

শুধু ফাইনাল না, আঠারো দলের এই আসরের বেশিরভাগ ম্যাচেই বেশ ভালো দর্শক ছিলো টুর্নামেন্ট জুড়ে। একাধিক ভেন্যু একাধিক বার দর্শকে ভরে গিয়েছিল। কোনো ম্যাচই ফ্রি ছিলো এমন নয়, সবগুলোতেই টিকিটের প্রয়োজন ছিলো।

গত মাসে একই প্রতিযোগিতার অন্য ম্যাচে নটিংহ্যামে ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রতিযোগিতার রেকর্ড সংখ্যক ১৫ হাজার দর্শক উপস্থিত হয় মাঠে। সকল টিকেট ম্যাচের আগেই শেষ হয়ে যায়। ক্লাবের প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ গুলোও বেশ ভালো দর্শক পায় ইংল্যান্ডে। যা অনেক দেশের জাতীয় দল টেস্টেও পেয়ে থাকেনা।

এইবারই একদিনে ৩টি দর্শক পরিপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করেনি ইংল্যান্ড। ২০১৭ সালে একই দিনে ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট, নারী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের খেলা ও ৩-৪টি ভিন্ন খেলা চলছিলো ন্যাটওয়েস্ট টি টোয়েন্টি ব্লাস্টে। অবাক করা বিষয় ৫টি ভিন্ন স্টেডিয়ামে হলেও একই সময়ে টেস্ট, নারীদের ওয়ানডে, ক্লাবের টি টোয়েন্টি সবগুলোই দর্শকে পরিপূর্ণ ছিলো। এইরকম নজির অন্য কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে দেখতে পাওয়া সম্ভব কিনা সন্দেহ। মিডিয়াই যত কম আবেগই দেখাক না কেনো, ক্লাবের খেলাতেও বিপুল সংখ্যায় মাঠে উপস্থিত হয়ে ইংল্যান্ডের দর্শকেরা এখনো প্রমান করে যাচ্ছে ক্রিকেট তাদেরই খেলা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আইসিসিকে চিঠি

ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ!

কিউইদের হারিয়ে সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান

আনন্দবাজারের বিশ্বকাপ একাদশে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার