ক্রিকেটের বরপুত্র সাকিবের উত্থান

ক্যারিয়ারের সবথেকে সঙ্কটকাল পার করছেন এক যুগেরও বেশি সময় আগে ক্রিকেটাঙ্গনে অভিষেক হওয়া বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ১৩ বছর আগে ক্রিকেটাঙ্গনে অভিষেক হওয়া ক্রিকেটের এই বরপুত্র বাংলাদেশ ক্রিকেটকে করেছেন সমৃদ্ধ।

Advertisment

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান।  ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় সাকিবের। সে বছরই মে মাসে সাকিবের টেস্ট অভিষেক হয় ভারতের বিপক্ষে। অভিষেকটা স্বপ্নের মত না হলেও প্রতিভার কমতি ছিল না সাকিবের।

২০০৮ এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব।  এ সিরিজেই ওয়ানডেতে ১ হাজার রানের ল্যান্ডমার্ক অতিক্রম করেন তিনি। অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ এ নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ ট্যুরের আগ পর্যন্ত সাকিবকে বোলার নয়, ধরা হত ব্যাটসম্যান হিসেবে।

তবে বোলিংয়েও স্বপ্নাতীত ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে ওঠেন তিনি। ব্যাটে বলে সাকিবের পারফরম্যান্স তাকে নিয়ে যাচ্ছিল গ্রেটদের কাতারে। সাকিব তার উন্নতির প্রমাণ পান র্যাংকিংয়ে। ২০০৯ আইসিসির ওয়ানডে অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ে ১ নম্বরে উঠে আসেন তিনি। ফলে ২০১১ আইপিএলে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সুযোগ পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

২০০৯ এর জুনে মাশরাফিকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। সাকিবকে করা হয় সহ-অধিনায়ক। জুলাই মাসে বাংলাদেশ ওয়েস্ট-ইন্ডিজ সফরে যায়। প্রথম টেষ্টেই মাশরাফি হাটুঁর ইনজুরিতে আক্রান্ত হলে অধিনায়কত্ব করেন সাকিব। অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে সাকিব যেন নতুন রুপে জ্বলে উঠলেন। সেবার দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

সাকিব বাংলাদেশের শীর্ষ রানকারী এবং উইকেট শিকারী হন বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তিনি প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে একটি শতরান এবং একই টেস্টে ৫ উইকেট নেন। সিরিজের পর তিনি আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে ১ নম্বরে উঠে আসেন। ২০১২ সালের এশিয়া কাপে দুর্দান্ত খেলার জন্য সাকিব আল হাসান ম্যান অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হন।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আল হাসান এক দিনের আন্তর্জাতিকে ৪ হাজার রান সংগ্রহ করেন। ২০১৭ সালে মাশরাফি বিন মর্তুজা’র অবসরের পর সাকিব দ্বিতীয় বারের মত টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পান।  পরে মুশফিকুর রহিমকেও টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে সাকিবকে আবারও টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।