Scores

আইসিসির নজরদারিতে ‘৩’ বাংলাদেশি : ক্ষিপ্ত সোহাগ

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মানেই যেন জুয়ার আসর। আবুধাবি টি-টেন লিগ নামের বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত ১০ ওভারের লিগে জুয়াড়ির আনাগোনা যেন একটু বেশিই। বেশ কয়েকবার এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে উঠেছে ফিক্সিংয়ের বিতর্ক। এবার সেই টুর্নামেন্টে খেলা পাঁচ ক্রিকেটারকে নজরদারিতে রেখেছে আইসিসি। এতে নতুন করে হইচই বেঁধেছে ফিক্সিং-কাণ্ড নিয়ে।

আইসিসির নজরদারিতে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটার

সমকালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টি-টেন লিগের সর্বশেষ আসরে পারফরম্যান্স ও আচরণ যাচাই করে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ বা আকসুর নজরদারিতে রাখা হয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারকে। এই পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশের। তারা হলেন- পুনে ডেভিলসের মনির হোসেন এবং মারাঠা অ্যারাবিয়ান্সের মুক্তার আলী ও সোহাগ গাজী। প্রসঙ্গত, পুনে ডেভিলসের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের নাসির হোসেন এবং মারাঠা অ্যারাবিয়ান্সের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

Also Read - আইপিএল খেলতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলছেন না সাকিব


প্রতিবেদনটি জানিয়েছে, মনির পুরোপুরি ফিট না হওয়া সত্ত্বেও (হাতে ব্যথা নিয়ে) শেষ ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন, বোলিংও করেছিলেন। সোহাগ গাজী দল পেয়েছেন প্লেয়ার্স ড্রাফটে না থেকেই। এসব আচরণকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে আকসুর। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে তাদের এজেন্টের, ঘাঁটা হচ্ছে মুঠোফোন।

টি-টেনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সন্দেহের তীর মারাঠা অ্যারাবিয়ান্সের বোলিংয়ের দিকে। মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে এই দলে খেলেছেন মুক্তার আলী ও সোহাগ গাজী।

মনিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে সোহাগ গাজী দাবি করলেন, দলে থাকা অবস্থায় জুয়াড়ির সাথে যোগসাজশের কোনো সুযোগই নেই। বরং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগ ওঠার কারণে। একইসাথে তার পারফরম্যান্স যাচাইয়েরও আহ্বান জানিয়েছেন। আকসু বা দুর্নীতি দমন বিভাগের কেউই তার সাথে যোগাযোগ করেননি। তাই অভিযোগও অবান্তর বলে দাবি জাতীয় দলে খেলা এই অলরাউন্ডারের।

বিডিক্রিকটাইমকে সোহাগ গাজী বলেন, ‘আমাকে তো কোনো দিন জিজ্ঞাসাবাদই করা হয়নি, আকসুর পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি। তাহলে কেন অভিযোগ তুলছেন? আমরা ওখানে সারাক্ষণ বায়োবাবলে ছিলাম। না পেরেছি কোথাও যেতে, না পেরেছি বাইরের কারও সাথে কথা বলতে। দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা সাথেই ছিলেন। আকসুর সাথে কথা বলে মিটিং করে তারপর এখান থেকে খেলতে গিয়েছি। কিন্তু যেভাবে খবর প্রচার করা হচ্ছে তা তো উচিৎ নয়।’

গাজী জানান, ‘সন্দেহের তালিকায় কারা থাকে? যাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা এমন কিছুর জন্য ডাকা হয়। আমি ওখানে খেলেছি ৪টি ম্যাচ। এক ম্যাচে বোলিং-ব্যাটিং করা লাগেনি। বাকি ৩ ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখুন। কীভাবে এই অভিযোগ ওঠে?’

ভালোভাবে যাচাই না করেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং খবর প্রচার করা হচ্ছে দাবি করে গাজী আরও বলেন, ‘আকসু থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। গিয়েছি, খেলেছি, চলে এসেছি। আমাদের কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাহলে কেন অভিযোগ উঠবে? পারফরম্যান্স দেখেও তো বোঝা যায়। যদি এমন কিছু হত, আমাদের আগে আপনারাই জানতে পারতেন। যেভাবে খবর প্রচার করা হচ্ছে, মনে হয়েছে খবর প্রচারের আগে আমার সাথে ১ ঘণ্টা কথা হয়েছে। অথচ ১-২ মিনিট কথা হয়েছে কেবল। এসব করলে আমরা কীভাবে আপনাদের সাথে কথা বলবো?’

মুক্তারও সোহাগের মত দাবি করলেন, তাদের ব্যাপারে যে খবর বেরিয়েছে তা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘আকসু বা কেউই আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। খেলেছি, রুমেই ছিলাম বাকি সময়, এরপর চলে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ বা এরকম কোনো কিছুই তো হয়নি। আমি তো পারফরম্যান্স ভালো করেছি, একেবারে খারাপ করিনি। টি-টেন হিসেবে যাই করেছি খারাপ করিনি। তার উপর প্রথমবার খেলেছি।’

মুক্তার আরও বলেন, ‘আমি আর সোহাগ এক দলেই ছিলাম। এমন কোনো কিছুই আমাদের সাথে হয়নি। আকসু কিছু বললে এক কথা।’

আবুধাবি টি-টেন লিগ যেন ফিক্সিংয়ের আঁতুড়ঘর। অতীতেও ফিক্সিংয়ের কারণে একাধিকবার খবরের শিরোনাম হয়েছে এই টুর্নামেন্ট। সাকিব আল হাসানকে ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব দিয়ে ফাঁসিয়েছিলেন যে জুয়াড়ি, সেই দীপক আগারওয়াল এই টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে সিন্ধ দলের মালিক ছিলেন। যদিও ফিক্সিং সংশ্লিষ্টতায় তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এবার টি-টেন লিগে অংশ নিয়েছিলেন ৭ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার। তারা খেলতে যাওয়ার আগে স্বভাবতই তাই শঙ্কা জেগেছিল। তখন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বিডিক্রিকটাইমকে বলেছিলেন, ‘গাইডলাইন আমরা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে দিতে থাকি। যখন ওরা সিক্সটিনে, এইটিনে, নাইনটিনে খেলে- তখন থেকেই আমরা গাইডলাইনগুলো দিয়ে থাকি। এটা নিয়ে তাদের সবসময় ব্রিফ দেওয়া হয়। পা দিয়ে ফেললে এটা তাদের সমস্যা। আমাদের সমস্যা না। দায়দায়িত্ব শতভাগ তাদের।’

Related Articles

নিষিদ্ধ হলেন আরব আমিরাতের আরেক ক্রিকেটার

অলিম্পিকে দেখা যেতে পারে টি-১০ সংস্করণ

লকুহেতিগেকে ‘৮’ বছরের নিষেধাজ্ঞা দিল আইসিসি

৯টি ভেন্যুতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারতকে অলিম্পিকে খেলার অনুমতি দিল বিসিসিআই