Scores

খালেদ মাসুদ পাইলটের মুখে সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা

চোখের সামনে সন্ত্রাসী হামলা চলছে, রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষ পড়ে আছে—ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে এমন অবস্থায় পড়তে হবে, সেটি হয়তো কখনোই ভাবেননি তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহরা। একটু এদিক-সেদিক হলেই দেশে নেমে আসতে পারতো রাজ্যের শোক, চিরবিদায় নিতে পারতেন দেশের ক্রিকেটের পরিচিত মুখগুলো। সৌভাগ্যবশত নিরাপদে আছেন সবাই।

খালেদ মাসুদ পাইলটের মুখে সেই ভয়াবহ ঘটনারই বর্ণনা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নুরে হওয়া জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন মানুষ। হতাহতের শঙ্কা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ তালিকায় যুক্ত হতে পারতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। যারা ঘটনার সময় ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে।

Also Read - তামিমকে আফ্রিদির ফোন, কোহলির সমবেদনা


ক্রাইস্টচার্চে টিম হোটেলে বসে সেই ভয়াবহ ঘটনারই বর্ণনা দিয়েছেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট।

তিনি বলেন,

‘আমরা ভাগ্যবান, বাসে আমরা অনেকজন ছিলাম, ১৭ জনের মতো। এর মধ্যে সৌম্য সরকারও ছিল। আমরা সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। দুইজন (নাঈম হাসান ও লিটন দাস) শুধুমাত্র হোটেলে ছিল, বাকি সবাই আমাদের সঙ্গেই ছিল। আমরা খুবই কাছে ছিলাম। মসজিদ আমরা বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম। আমরা হয়তো ৫০ গজ দূরে ছিলাম। আমি বলব আমরা খুবই ভাগ্যবান, আর যদি তিন চার মিনিট আগে চলে আসতাম তাহলে আমরা মসজিদেই হয়তো থাকতাম।’

সেই ভয়াবহ মুহূর্তে দলের অনেকেই বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের দেখেছি বাসের মধ্যে, অনেকেই কান্নাকাটি করছিল, কি করতে পারে, কীভাবে কি করলে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এটা খুবই কঠিন। সবার ওপরেই মানসিক প্রভাব ফেলে। এটা খুবই স্বাভাবিক। যেকোনো মানুষেরই ভেঙে পড়ার কথা।’

বাসে বসে থাকার মুহূর্তগুলো কিছুতেই ভুলতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা মানুষ রক্তাক্ত অবস্থা বেরিয়ে আসছে। আমরা প্রায় ৮-১০ মিনিট বাসেই ছিলাম। সবাই মাথা নিচু করে ছিলাম যদি কোনো কারণে গুলি হতে থাকে।

পরে যখন বুঝলাম যে অস্ত্রধারীরা যদি বাইরে এসে এলোপাথাড়ি গুলি শুরু করে, তখন বাসের মধ্যে একসঙ্গে অনেককে পাওয়া যাবে, ঘটনার তীব্রতা আরও বেড়ে যাবে। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে পেছন দিক দিয়ে যে গেট আছে, সবাই গেট দিয়ে বের হয়ে যাবো।

তারপরই আমরা পার্কের মধ্য দিয়ে হেঁটে-দৌড়িয়ে চলে গেলাম ড্রেসিংরুমের ভেতরে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ আমরা ড্রেসিংরুমের মধ্যেই ছিলাম। আলোচনা হচ্ছিলো কীভাবে আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি।

আমার মতে খেলোয়াড়রা তখন সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বাস থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। পরে যখন আমরা ভিডিও দেখলাম, দেখতে পেলাম যে বাইরে এসেও গুলি করছিল।

সবকিছু মিলিয়ে, আমাদের দলের সবাই এখন হোটেলে আছে। সবাই ভালো আছে, সুস্থ্য আছে। বাংলাদেশে যারা দেখছেন বা দেখবেন সবাই চিন্তিত। তাদের বলতে চাই খেলোয়াড়রা সবাই সুস্থ্য আছে।

আমাদের পরিকল্পনাও করা হয়ে গেছে কীভাবে আমরা দেশে ফিরব। আমাদের লজিস্টিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে কীভাবে টিকিটগুলো কনফার্ম করে এখান থেকে আমরা চলে যেতে পারি।’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


Related Articles

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুক হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন টাইগাররা