খেলায় অংশগ্রহণ না করেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের গল্প
Scores

খেলায় অংশগ্রহণ না করেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের গল্প

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে আপাতত বন্ধ আছে সকল ধরনের ক্রিকেট। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিকেটের স্মরনীয় কিছু ম্যাচ ও খেলোয়াড়দের অর্জনের ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের গল্প অস্বাভাবিক এক ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কারের।

খেলায় অংশগ্রহণ না করেও টেস্টে জিতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার
ছবি : ক্রিস স্কট।

Also Read - করোনা মোকাবেলায় তহবিল গড়ছেন বিশ্বকাপজয়ী যুবারাও


ম্যান অব দ্যা ম্যাচ খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলত ম্যাচে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য বা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রাখার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরশকার। অনেক সময় শুধু জয়ী দলের খেলোয়াড়রা নয়, পরাজিত দলের খেলোয়াড়রাও পেয়ে থাকেন এ পুরস্কার। মূলত খেলায় অসাধারণ ভূমিকার জন্য ঘটে এমন ঘটনা।

যেমন বাংলাদেশের লিটন দাস পেয়েছিলেন এশিয়া কাপের ফাইনালে ম্যাচ হারার পরও। সাধারণত বেশিরভাগ সময় বড় রান বা খুব বেশি উইকেট পেলে দেওয়া হয় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। অনেক সময় ফিল্ডিং দিয়েও ম্যাচসেরার পুরষ্কার পেয়ে থাকেন অনেকে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্টি রোডস।

এসব ক্ষেত্রে অন্তত ম্যাচসেরা হতে খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন খেলোয়াড়েরা। খেলায় অংশগ্রহণ না করেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার বিরল নজিরও রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

২০০০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ। ইতোমধ্যে টেস্ট সিরিজ ২-০ তে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গের শেষ টেস্ট তাই ছিল অনুষ্ঠানিকতার। মান বাঁচানোর সেই লড়াইয়ে আবহাওয়া যেন নিউজিল্যান্ডের পক্ষে কথা বলতে চায়নি।

টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে ভেসে যায়। গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রাণপণ চেষ্টায় টেস্টের দ্বিতীয় দিন খেলা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা পুরো সিরিজের মতো এই ম্যাচেও নিজেদের দাপট বজায় রাখে। জ্যাক ক্যালিস, শন পোলক ও মাখায়া এনটিনির গতিতে কুপোকাতথয়ে প্রথম ইনিংসে ২০০ রানে গুঁটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের পক্ষে এনটিনি নেন ৩টি উইকেট। তাছাড়া ক্যালিস ও পোলক ২টি করে উইকেট নেন।

প্রথম দিনের মতো তৃতীয় ও চতুর্থ দিনেও দেখা দেয় একই অবস্থা। বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। টানা দুই দিন খেলা ভেসে যাওয়ায় ও শেষ দিন আবহাওয়া পূর্বাভাস আরো খারাপ থাকায় ম্যাচ পুনরায় মাঠে গড়ানো নিয়ে জাগে শঙ্কা।

তবে শেষ দিন আবহাওয়া কিছুটা ভালো হওয়ায় ও গ্রাউন্ডসম্যানদের সর্বোচ্চ চেষ্টায় অবশেষে খেলা গড়ায় মাঠে। দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো দিন ব্যাট করে সংগ্রহ করে ৩ উইকেটে ২৬১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে শতক করেন বোথা ডিপেনার। ম্যাচটি ড্র হয় ও সিরিজ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ম্যাচটির চমক তখনো বাকি ছিল। যে কারণে ম্যাচটি আজও স্মরণীয়  তা জানা যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন গ্রাউন্ডস ম্যান ক্রিস স্কট ও তার পুরো দল। তুমুল বৃষ্টির পরও ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার মতো মাঠ তৈরী করায় কোন খেলোয়াড়ের পরিবর্তে তার ভাগ্যে জুটে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

মাদক কারবারে আটক লঙ্কান পেসার

বিসিসিআই-আইসিসি দ্বন্দ্ব, কড়া ভাষায় ই-মেইল চালাচালি

‘টয়লেট বিরতি’ নিষিদ্ধ করল আইসিসি

কোহলিকে উদ্ধারে বিশেষ দল পাঠানোর প্রস্তাব নাগপুর পুলিশের!

করোনা টেস্টে ‘পজিটিভ’ সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান