গৌরবকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ফতুল্লা

newswala-i-bangladeshi-cricket-fan-with-a-tiger-stripes-painted-on-face-ahead-of-icc-world-cup-2015-pt-1

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

৯ বছর আগের কথা… ক্রিকেট তখন এদেশে শুধুই একটা খেলা, আবেগ বা ভালোবাসা হিসেবে প্রবলভাবে স্থান করে নিতে পারেনি মানুষের মনে। টানা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরের ১ম টেস্ট। পাঁচ দিনের ম্যারাথন ম্যাচ। গ্যালারিতে দর্শক তেমন নেই। সিমেন্ট-সিঁড়ির গ্যালারির যাও কিছু ভরা আছে, সেগুলোর সিংহভাগও যে হেইডেন-পন্টিং-গিলক্রিস্টদের দেখতে, সেটা না বললেও চলে। বাংলাদেশের জাবেদ ওমর, হাবিবুল বাশাররা তখন স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করেছেন, বাস্তব হিসেবে দেখাতে পারেননি খুব একটা। অবাক করা ব্যাপার, সেই ম্যাচে নিজেদের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় ধরাশয়ী করে ফেলেছিল বাংলাদেশ! প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হারতে হয়েছিল টেস্টের শেষ দিকের পরিপক্বতার অভাবে।

Also Read - দুশ্চিন্তার কারণ ফতুল্লার উইকেট


অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়ে ঐ ম্যাচের পর বেশ প্রশংসার বাণী শুনেছিল বাংলাদেশ। অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার, হেরে গেলেও ফতুল্লার ঐ ম্যাচটিতে যে আত্মবিশ্বাস জোগাড় করেছিল বাংলাদেশ, সেটা প্রায় সমান হয়ে মিলে যাচ্ছে আসন্ন ভারত সিরিজে! ক্রিকেট প্রভু বড্ড রসিক। তা না হলে বাংলাদেশ-ভারত টেস্টের ভেন্যুও কেন ফতুল্লা হবে! জোর করে আরও মিল খুঁজতে চাইলে মজা করে বলা যায়, সেই ম্যাচের আড়াই মাস আগে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন; এবারের প্রতিপক্ষ ভারতও আড়াই মাস আগে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। হ্যাঁ, ক্রিকেট প্রভু বড্ড রসিক (ভারতীয়দের জন্য নিষ্ঠুর), এই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে ভারতের। তা না হলে, ২০০৬ সালের ৯ এপ্রিল ফতুল্লার জনশূন্য স্টেডিয়ামে মাঠে নামার আগে টাইগারদের যেমন মানসিক অবস্থা ছিল, তা মিলে যেত এবারো!

সবুজ ক্যাপ আর সাদা জার্সি-ট্রাউজার পরে বুধবার সকালে যে ১১ জন টাইগার ভারতকে মোকাবেলা করতে মাঠে ঢুকবেন, এদের কারোরই অভিজ্ঞতা নেই এই মাঠে টেস্ট খেলার। ভারতের তো নেই-ই। অর্থাৎ, ২২ জন ক্রিকেটারেরই ফতুল্লায় টেস্ট অভিষেক হচ্ছে বুধবার।

২২ জন ক্রিকেটারকে, নিজ নিজ দেশের ২২ জন স্বপ্ন বাহককে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ফতুল্লা। আজ থেকে ৯ বছর ৩ মাস আগে গৌরবময় টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে প্রথম যে পদার্পণ ঘটেছিল ফতুল্লায়, সেটি দ্বিতীয় পা ফেলছে বুধবার। একদিকে আছে ‘ধরে দেওয়ার’ প্রত্যয়, অপরটি বিতর্ক ঝেড়ে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার।

আগামী ১৪ জুন ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম কার মুখে হাসি ফোটাবে? সেই উত্তর সময়ের হাতে। প্রশ্ন ছাড়াই যে উত্তরটা আমরা সহজে দিতে পারি, তা হল- ১১১ মাস আগে, এমনই প্রেক্ষাপটে, এমনই এক টেস্ট ম্যাচে, খাঁখাঁ করা গ্যালারিটা, ১০ জুন থেকে ভরে উঠবে প্রাণের স্পন্দনে। যে প্রাণগুলো লাল-সবুজ আর ক্রিকেটের গল্প লিখে, স্বপ্ন দেখে…

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন