Scores

চট্টগ্রামে মারা সহজ, ওল্ডট্র্যাফোর্ডে গেলে মজা বুঝবে : পিটারসেন

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারনে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসিও তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিশাল ক্রিকেট বিরতিতে চলুন দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পুরনো কিছু সাফল্য ও ম্যাচের কথা। আজকে জেনে নেওয়া যাক ২০১০ সালে তামিম ইকবালের ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেনের বর্ষ সেরা হওয়ার গল্প।

২১ বছর বয়স্ক তামিম ইকবালের জন্য ২০১০ সালটা যেনো স্বপ্নের মতো ছিলো, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ঝলকের পর নিজেকে খুব একটা তুলে ধরতে পারেননি সাকিবের মতো অসাধারণ রূপে। তবে ২০১০ যেনো ছিলো তার ক্যারিয়ারের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এক বছর। বছরের শুরুটা ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। ঢাকা টেস্টে ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ ১৫১ রানের এক ইনিংস খেলেন। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যামিল্টনেও হাসে তামিমের ব্যাট।

Also Read - করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে এলেন সাকিব


সিরিজের একমাত্র টেস্টে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম করেন ৬৮ ও ৩০ দুই ইনিংসে। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড দল আসে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে। সেই সফর থেকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিমের দাপুটে পারফরম্যান্স শুরু। টেস্টে কোনটিতেই শতক পাননি তামিম। তবে শতক না পেলেও হেসেছিলো তামিমের ব্যাট। প্রথম টেস্টে ৮৬ ও ২য় টেস্টে খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ ২-০ তে হারলেও যৌথভাবে তামিম সিরিজ সেরাও হন।

তবে ২০১০ এর তামিমের ক্যারিয়ারের সবচাইতে বড় সাফল্যটা আসা তখনো বাকি ছিলো। ইংল্যান্ডে ফিরতি সফরে বাংলাদেশ দুইটি টেস্টই হারে। তবে সেই সিরিজে তামিমের পারফরম্যান্স এখনো চোখে লেগে আছে ক্রিকেট ভক্তদের। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের নাম লেখান তামিম।

প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করে আউট হয় ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে অনার্স বোর্ড দেখে তামিম সেখানকার এটেনডেন্টকে জিজ্ঞেস করেন, “এইখানে শুধু শতক যারা করেছে তাদের নাম কেনো? অর্ধশতক যারা করেছে তাদের নামও থাকা উচিত “। তখন এটেনডেন্ট তাকে জানান এটা সম্ভব নয়। শতক করলেই জায়গা মিলবে এখানে। তখন তামিম বলেন ” ঠিক আছে তাহলে, শতক না করে এখান থেকে যাচ্ছিনা”। তামিম তার কথা রাখেন, ২য় ইনিংসে শতক করে নিজের নাম উঠিয়ে নেন লর্ডসের অনার্স বোর্ডে। ”

চট্টগ্রামে মারা সহজ, ওল্ডট্র্যাফোর্ডে গেলে মজা বুঝবে
ওল্ডট্র্যাফোর্ডে শতকের পর তামিম। ছবি : পিএ, ক্রিকইনফো

ওল্ডট্র্যাফোর্ডে ২য় টেস্টে চ্যালেঞ্জ আরো বড় ছিলো। এক সাক্ষাৎকারে তামিম লর্ডসের শতক থেকে ওল্ডট্র্যাফোর্ডে ২য় টেস্টের শতককে বেশি স্পেশাল বলে উল্লেখ্য করেছিলেন। তামিম বলেন, “লর্ডসের শতকের সাথে কিছুটা আবেগ জড়িয়ে ছিলো , তবে ওল্ডট্র্যাফোর্ডের শতক বেশি স্পেশাল ছিলো। আমি এতো মনোযোগ দিয়ে কখনো ব্যাট করিনি। আমি নিজেই নিজেকে বলি আমি যদি মারাও যাই তবু আজ বড় রান করে যাবো। ওরা আমার ব্যাটিং দেখে তাদের বোলিং প্ল্যান কিছুটা পরিবর্তন করে। আমার জন্য সেই ইনিংসে সফলতা পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো “।

সেই ইনিংস খেলতে গিয়ে পুরোনো এক স্লেজিংয়ের কথাও মনে পরে তামিমের। তামিমের শতকের সময় মাঠেই ছিলেন কেভিন পিটারসেন। তামিম সেই ব্যাপারে উইজডেনকে জানান, “চট্টগ্রামে আমি যখন রান করছিলাম ভালো তখন পিটারসেন আমাকে বলে এখানে (চট্টগ্রাম) মারা সহজ, ওল্ডট্র্যাফোর্ডে আসলে মজা বুঝবে। তখন আমি জানতাম না যে সে কোনো এই কথা বলেছিলো। পরে আমি সতীর্থদের কাছে জানতে পারি আমাদের ওল্ডট্র্যাফোর্ডেও একটি টেস্ট খেলতে হবে ও এটি ইংল্যান্ডের দ্রুততম উইকেট “।

অসাধারণ এক বছর কাটান তামিম ব্যাট হাতে টেস্টে। তাই তার দল ২০১০ এ ৭টি টেস্টের একটিতেও জিততে না পারলেও ক্রিকেট বোদ্ধাদের রেটিংয়ে তামিম সেই বছর অসাধারণ পারফরম্যান্স করা বিরেন্দর শেবাগ ও গ্রায়াম সোয়ানকে টপকে উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

উইজডেন বর্ষসেরার তিনজনই নারী