চতুর্থ দিন শেষে বিপাকে বাংলাদেশ

0
588

প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনটি হতে পারতো বাংলাদেশের জন্য চলমান টেস্টে সবচেয়ে স্বস্তির দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিপাকে থেকেই দিনের খেলা শেষ করতে হলো টাইগারদের। ৫৬ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। দলকে দারুণ সূচনাও এনে দেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল।

Advertisment

উদ্বোধনী জুটিতে ৪৬ রান যোগ করার পথে তামিম ইকবালের ডাকে সাড়া দিয়ে দ্রুত বেগে এক রান পূর্ণ করতে গিয়ে উইকেট বাঁচাতে ডাইভ দেন ইমরুল কায়েস। কে জানতো এই একটি ডাইভই দিন শেষে বাংলাদেশকে ফেলে দিবে বিপাকে? রান আউট থেকে বেঁচে গেলেও ঠিকই হাঁটুতে চোট পান ইমরুল কায়েস। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উঠে দাঁড়ালেও মুহূর্তেই আবারো মাটিতে লুঁটিয়ে পড়েন কায়েস যার ফলে স্ট্রেচারে করে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ খেলতে থাকা এ ওপেনারকে। ইমরুলের অপ্রত্যাশিত ভাবে মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক।

এক প্রান্ত মুমিনুল আগলে রাখলেও অপর প্রান্ত থেকে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরে একের পর এক আউট হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সে চাপ থেকে সফরকারীদের বের করার বদলে দিনের শেষ বলে মিরাজ রান আউট হয়ে ফিরে গেলে চাপ কমার বদলে আরো বেড়ে যায় টাইগারদের। শেষদিনে তাই সতর্ক হয়েই মাঠে নামতে হবে মুমিনুলদের। তার উপর আবার মুশফিক, ইমরুলদের ইঞ্জুরি নিয়ে শঙ্কা তো থাকছেই।

এর আগে তৃতীয় দিনের ৩ উইকেটে করা ২৯২ রান নিয়ে দিন শুরু করে স্বাগতিকরা। দারুণ শুরুর পর দলীয় ৩৪৭ রানে নিকোলাসকে সাকিব ফিরালে চতুর্থ উইকেট হারায় কিউইরা। এরপর শুভাশিষ আঘাত হানেন। অভিষিক্ত শুভাশিষের বলে ১৪ রান করা গ্র্যান্ডহোম আউট হলে চাপে পড়ে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। দিনের শুরু চাপ কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চালায় নিউজিল্যান্ড, তবে সাকিব আবারো আঘাত হানে স্বাগতিকদের ইনিংসে। এবার তার ফাঁদে আটকা পড়েন নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ল্যাথাম। ১১ রান করা এ ওপেনারকে দলীয় ৩৯৮ রানের সময় ফেরান সাকিব।

এরপর ওয়াটলিংকে সাথে নিয়ে লড়তে থাকে স্যান্টনার। সপ্তম উইকেট জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে ভয়ংকর রুপ দান করার পথে আক্রমণে আসেন রিয়াদ। তার প্রথম ওভারে উইকেটের পিছনে ইমরুল কায়েসের বুদ্ধিদীপ্ত কিপিংয়ে অর্ধ-শতক থেকে এক রান দূরে থেকেই ফিরতে হয় ওয়াটলিংকে। দুই বল পর রিয়াদ আবারো আঘাত হানলে ৪৭৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। এরপর স্যান্টনারের ৭৩ ও ওয়াগনারের ১৮ রানের ইনিংসে ভর করে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৫৩৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশী বোলারদের পক্ষে রাব্বি তিনটি রিয়াদ, সাকিব, শুভাশিষ দু’টি করে উইকেট শিকার করেচন। তাছাড়া তাসকিন আহমেদ একটি উইকেট শিকার করেন।

-ইমরান হাসান, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম