Scores

‘চায়নাম্যান’ যেভাবে এল

শৈল্পিকতার ক্রিকেটে রিস্ট স্পিনারদের কদর বরাবরই খানিকটা বেশি। আর তা যদি হয় বাঁহাতের ঘূর্ণিবাজির কারিশমা, তাহলে তো কথাই নেই- পুরো জলসাঘর। তবে, এই বৈচিত্র্য এলো কবে, কার হাত ধরে? ‘চায়নাম্যান’ শব্দের সরল বাংলা দাঁড়ায় চীনের মানুষ। হ্যাঁ যুগান্তকারী এই কৌশলের উদ্ভাবক চীন বংশোদ্ভূত এক ত্রিনিদিয়ান ক্রিকেট তারকা, এলিস আচং।

'চায়নাম্যান' যেভাবে এল

ব্র‍্যাড হগ, কুলদীপ যাদবদের আদিপুরুষ আচং ১৯৩৩ সালের ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংলিশ ব্যাটসম্যান ওয়াল্টার রবিন্সকে ঘূর্ণির যাদুটোনায় কুপোকাত করেন। আচংয়ের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে করা একখানা বল ব্যাটসম্যান রবিন্স টার্নের সাথে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাঁকের মাত্রাটা বোধগম্য হয়নি তার। ফলে, ব্যাট আর প্যাডকে ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত করে লেগ স্ট্যাম্পে। মাঠে উপস্থিত আম্পায়ারদ্বয় এবং তৎকালীন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা অভিনব সেই কৌশলী ডেলিভারির নাম দেন ‘চায়নাম্যান’। কার্যত আচংয়ের শৈল্পিকতা এবং মুখমণ্ডলে পিতৃবৎসুলভ চীনাদের সমকক্ষতার ছাপের দরুন তার প্রতি কুর্নিশ করেই এমন নামকরণ করা হয়েছিলো।

Also Read - টাইম আউটের পহেলা বলি কে, কবে?






কুশলী আচংয়ের নাম চায়নাম্যানের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিতি পেলেও বাকবিতণ্ডার অতল সাগরে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ঢেউয়ের নাম মরিস লিল্যান্ড এবং বেক লিওলেন। ক্রীড়ালেখক বি, শ্রীরামের কলমে উঠে এসেছে লিল্যান্ডের নাম। আচংয়ের এই কীর্তির দু’বছর আগে হেডিংলিতে ইয়র্কশায়ার বনাম এসেক্সের ম্যাচে লিল্যান্ডের অচেনা এক ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যান ব্যারন নিকোলাসকে হতভম্ব হয়ে নিজের উইকেট হারাতে হয়। ডেইলি মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত লেখায় স্পষ্টত উল্লেখ ছিলো- ‘লিল্যান্ডের চায়নাম্যানে কুপোকাত নিকোলাস’। চায়নাম্যান শিল্পের পথচলা কি তবে লিল্যান্ড আর আচংয়ের হাত ধরেই? কিন্তু অতীত তো তাদের বিপক্ষে কথা বলছে!

আশির দশকের শেষভাগে নচেৎ নব্বই দশকের গোড়ার দিকে প্রোটিয়া স্পিনার বেক লিওলেন তার অঙ্গুলির যাদুটোনায় স্ব বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে কারসাজি আরম্ভ করেন, যার সাযুজ্য ছিলো চায়নাম্যানের সাথেই। কর্পদকশূণ্য অবকাঠামোর ক্রিকেট আমলে আহামরি কিছু না করলেও এই আফ্রিকান চায়নাম্যান বোলিং বিপ্লবে নিজের যোগদান রেখেছেন যে বেশ স্বার্থকতার সহিতই, সে কথা বলাই বাহুল্য। প্রবর্তক তকমার ক্ষেত্রে আগে-পরে নিয়ে বিবাদ থাকলেও স্বতঃসিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনের দৌরাত্ন্যে সকলেই কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে নিয়েছিলেন এই প্রাগৈতিহাসিক শিল্পকে। তবে সাফল্যের মানদন্ডে কল্পনাপ্রসূত চলমান চাতুর্য ধারার পথিকৃৎ বলা যেতে পারে আচংকেই। ক্যারিবীয় এই কীর্তিমানের সহযোদ্ধা নিকোলাস ‘ক্যারাবিয়ান লাইফ’ নামক গ্রন্থে সতীর্থ আচং এবং লেল্যান্ড প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি উভয়ের বোলিংই কাছ থেকে দেখেছি, তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আচংয়ের ধীরগতির চায়নাম্যানে স্বর্গের দেবতাও লোভাতুর হয়ে নিজের উইকেট খুইয়ে বসবেন।’






৮ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে বিবর্ণ আচং প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ছিলেন দূর্বার। দেশের হয়ে সাকুল্যে ৬ উইকেট পাওয়া এই ঘূর্ণি তারকা ত্রিনিদাদের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০.২৩ গড়ে ১১০ উইকেট আপন ঝুলিতে পুড়েছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে মাঠ মাতানো এই ক্যারাবিয়ানের সংগ্রহে আছে হাজারের উপরে উইকেট, যার মধ্যে একবার এক ইনিংসে দশ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।

ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্রের পোর্ট অফ স্পেনে ১৯০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন চায়নাম্যানের জনক। কচি বয়সে আগ্রহ ছিল ফুটবলে, সুদীর্ঘ ১৩ বছর ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর জার্সিতে খেলেছেন এই প্রথিতযশা ক্রীড়াবিদ। দলে তার ভূমিকা ছিলো লেফট উইংগার পজিশন সামাল দেওয়া। ১৬ বছরের কাউন্টি ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি দেশে ফেরেন ১৯৫১ সালে। পরের বছর ওয়েস্ট-ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাকে আম্পায়ারের বেশে দেখা যায়, তবে ঐ প্রথম আর ঐ শেষ। পরবর্তী জীবনে নিজের অভিজ্ঞতার থলে থেকে আদ্যোপান্ত নিঙড়ে দিয়েছেন ত্রিনিদিয়ান কিশোর ক্রিকেটারদের। ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর প্রধান কোচ থেকে নির্বাচকের পদেও ছিলেন তিনি। অবশেষে ১৯৮৬ সালের ৩০ আগষ্ট ৮২ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটে চায়নাম্যান স্রষ্টার।

লেখক : বিপ্রতীপ দাস

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে, বাড়ল অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা

আইপিএলের জন্য সিরিজ পেছাল ইংল্যান্ডও

আবারো সন্ত্রাসী হামলার শিকার পাকিস্তানের ক্রিকেট

শীঘ্রই দেশে ফিরছেন সাকিব

১১ নং ব্যাটসম্যানের নির্ভয় ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষেরও করতালি