Score

চেনা কন্ডিশনে সবচেয়ে ফেভারিট পাকিস্তান

সংযুক্ত আরব আমিরাত হল পাকিস্তানের হোম ভেন্যু। এখানকার মাঠগুলো যেন পাকিস্তানের জন্য পয়মন্ত। আসন্ন এশিয়া কাপে নিজের পরিচিত কন্ডিশনেই খেলবে পাকিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে হারানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন কাজ। চেনা কন্ডিশনের সুবাদে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে সবচেয়ে ফেভারিট বললেও ভুল হবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের রেকর্ড দুর্দান্ত। এখানে পাকিস্তান সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপরের তিনটি সিরিজের তিনটিতেই জিতেছে পাকিস্তান। ২০১৭ সালের অক্টোবরে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়েই দিয়েছিল পাকিস্তান। ৫-০ তে হোয়াইটোয়াশ করেছিল তাদের। এছাড়া পাকিস্তান সিরিজ জিতেছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

এ বছর এখন পর্যন্ত দুইটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। তবে একটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে নয়। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তাদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে।

Also Read - 'আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে আমরা এশিয়ার তৃতীয় সেরা দল'

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরেই খেলছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটরা। তাই উইকেটের আচরণ আঁচ করতে কিংবা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে না তাদের। এখানেই সরফরাজ ও তার সতীর্থরা পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। দল হিসেবেও বেশ শক্ত ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ী পাকিস্তান। তাই পাকিস্তান এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া যেকোনো দলের জন্যই এক কঠিন প্রতিপক্ষ।

ব্যাটিংয়ে ওপেনার ফখর জামান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন তুমুল ফর্মে। একটি ডাবল সেঞ্চুরিও হাঁকান ফখর জামান। পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তুলে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়ার ক্ষমতা আছে ফখর জামানের। সঙ্গী ইমাম-উল-হককে সাথে নিয়ে অনেক বড় জুটিও গড়েছেন অনেক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের ৩০৪ রানের জুটি পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ। যেকোনো দলের জন্যই হুমকি ফখর জামান আর ইমাম-উল-হকের জুটি।

ব্যাটিং অর্ডারে আরেক ভরসার নাম বাবর আজম। বাবর আজম, শোয়েব মালিক, আসিফ আলি, সরফরজ আহমেদদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং অর্ডারটা বেশ শক্ত।  তাই স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি গড়ার আশা করতেই পারে পাকিস্তান।

বোলিংয়ে দলের পেস আক্রমণে রয়েছেন মোহাম্মদ আমির, হাসান আলি এবং জুনায়েদ খান। এ তিন পেসারকে সামলানো যেকোনো দলের ব্যাটসম্যানের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আমিরাতের উইকেট কীভাবে কাজে লাগাতো হয় তাও ভালোই জানা পাক পেসারদের। লেগ স্পিনার শাদাব খানও হয়ে উঠেন ব্যাটসম্যানদের ভোগান্তির কারণ। সাথে আছেন পেসার মোহাম্মদ নাওয়াজ, উসমান খান শিনওয়ারি এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে প্রায়ই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় ব্যাটসম্যানদের। সেখানে পাকিস্তানের ধারানো বোলিং লাইন আপ যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য মৃত্যুফাঁদ।

১৬ সেপ্টেম্বর হং কংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর খেলবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে। ভারতকে ফাইনালে হারিয়েই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব অনায়াসেই অতিক্রম করে ফেলার কথা পাকিস্তানের।

সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার পাকিস্তান। শক্তিশালী দল আর চেনা কন্ডিশনের সুবিধা মিলিয়ে কাগজে-কলমে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। আমিরাতের মাটিতে এশিয়া কাপের যেকোনো দলকে উড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্যও রয়েছে তাদের।

এশিয়া কাপের জন্য ১৬ সদস্যের পাকিস্তান দল : সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফখর জামান, ইমাম-উল হক, শান মাসুদ,  বাবর আজম, শোয়েব মালিক, আসিফ আলি, হ্যারিস সোহেল, শাদাব খান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হাসান আলি, উসমান খান শেনওয়ারি, মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ।

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর সূচি-

১৫ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা – দুবাই
১৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তান বনাম হং কং – দুবাই
১৭ সেপ্টেম্বর – শ্রীলংকা বনাম আফগানিস্তান – আবুধাবি
১৮ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম হং কং  – দুবাই
১৯ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম পাকিস্তান – দুবাই
২০ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, আবুধাবি


আরো পড়ুনঃ আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে আমরা এশিয়ার তৃতীয় সেরা দল’


 

Related Articles

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি