Scores

ছাড় পাবে না অস্ট্রেলিয়াও!

Mashrafe-bdcricteam

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

ওয়ানডে রেংকিংয়ের ১ নাম্বার দল বনাম ৯ নাম্বার দল। পার্থক্যটা আরও পরিষ্কার হয়ে যায় টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে দুই দলের অবস্থান দেখলে। এক দল ‘ক্রিকেটের গদা’ দখলে রাখতে মশগুল, আরেক দল ব্যস্ত তলানি থেকে হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে। শক্তিমত্তার বিচারেই নয় শুধু, পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় টানা ৬ ওয়ানডে জেতা বাংলাদেশ।

Also Read - চতুর্থ রাউন্ডে কেবল খুলনার জয়


তবে জয়ী কে হবে, সেটা ভাবার আগে একটা চিন্তা মাথায় চলে আসে- বল মাঠে গড়াবে তো! বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারির ম্যাচ ভেন্যু ব্রিসবেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে প্রবল সম্ভাবনা আছে ম্যাচ বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ারও। সেক্ষেত্রে ভাগাভাগি করে প্রত্যেক দল পাবে ১টি করে পয়েন্ট। তুলনায় ছোট দল হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সেটা ভালোই, তবে মাশরাফির অধিনায়কোচিত কথায় সেরকম মনোভাবের আভাস পাওয়া গেল না, ‘ম্যাচ না হলে ১ পয়েন্ট পাওয়া যাবে- এরকম ভাবনা নেগেটিভ। আমরা পুরো ম্যাচ খেলতে চাই। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছু নেই।’ তবে বৃষ্টি হলে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতি হবে, অন্তত আমাদের নয়!

তবে ম্যাচ হবে এবং জিতবে- এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এখন পর্যন্ত একটিই, ২০০৫ সালে কার্ডিফে। দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের হাত ধরে এসেছিল মহাকাব্যিক সেই জয়। আশরাফুল বর্তমানে ক্রিকেটের বাইরে ফিক্সিংজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে। ১০ বছর আগে ৫ উইকেটের সেই জয় দেখেই নতুন করে অস্ট্রেলিয়া বধের তন্ত্রমন্ত্র জপছে বাংলাদেশ।

সেই জয়ের ম্যাচে দলে ছিলেন, এমন একমাত্র খেলোয়াড় অধিনায়ক মাশরাফি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে তাই মাশরাফি তাই স্থানীয় সাংবাদিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ ১০ বছরের অস্ট্রেলিয়াকে আর হারাতে না পারায় আক্ষেপ মাশরাফির কণ্ঠে, ‘২০০৫ সাল… অনেক দীর্ঘ সময়। এরপর তো আর অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারিনি আমরা। এ ছাড়া ভালো দলগুলোর বিপক্ষে খুব বেশি জিততে পারিনি। ওই জয় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর দিকে, আর অস্ট্রেলিয়া ছিল পূর্ণ শক্তির দল। ঐতিহাসিক জয়ে দেশের ক্রিকেটে পালে নতুন হাওয়া লেগেছিল।’ সেই ম্যাচকে পুঁজি করে আরেকটি জয়ের অপেক্ষায় মাশরাফি, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিতে আমি খেলেছিলাম। ওই দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে আমি ১১তম বিশ্বকাপ খেলছি। এটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। যদিও অনেক দিন আগের কথা। তার পরও ওই স্মৃতি আমাকে এখনো অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করায় বড় অবদান মুশফিকের। স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও। তিনিও আঁকছেন অস্ট্রেলিয়া বধের ছক। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এক নম্বরে আছে। ওদের হারানো সহজ হবে না, কিন্তু অসম্ভবও নয়। ওয়ানডেতে এক দল প্রতিদিনই জিতবে না। এই ক্রিকেটে যে কেউই জিততে পারে। কেউ কেউ ভাবছে অস্ট্রেলিয়া সহজেই জিতবে। তবে আমাদেরও প্রমাণের কিছু আছে। আমরা নিজেদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করবো।’

নিজেদের কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন জানিয়ে মুশফিক বলেছেন, নিজেদের উপর আস্থা রয়েছে তাঁদের, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আমরা। এখনো আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। তিন বিভাগেই আমাদের উন্নতি করতে হবে। সবারই নিজেদের ওপর আস্থা আছে। আশা করি, আমরা কিছু ভালো ম্যাচ খেলবো’

Related Articles

ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে মাশরাফি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ

দুদকের শুভেচ্ছাদূত হলেন সাকিব