নিজেকে প্রমাণের মঞ্চেও তাসকিনকে আগলে রাখতে ভুলেননি রিয়াদ

১৬ মাস পর টেস্ট দলে ফিরেছেন, তাও অনেক নাটকীয়ভাবে। দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হওয়া সত্ত্বেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে টেস্টের জন্য যথার্থ মনে হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টের। নির্বাচকরাও তাই রিয়াদকে ছাড়াই টেস্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে গেছেন দীর্ঘ সময়। সেই রিয়াদ প্রত্যাবর্তনেই করলেন বাজিমাত।

'জবাব' দেওয়ার ইনিংসেও তাসকিনকে আগলে রেখেছেন রিয়াদ

Advertisment

হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরেছে রিয়াদের দেড়শ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে রিয়াদ সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদকে। ব্যাটসম্যান না হয়েও রিয়াদকে দুর্দান্ত সমর্থন দেওয়া তাসকিন জানালেন, নিজেকে নতুন করে প্রমাণের মঞ্চে কীভাবে ইনিংসজুড়ে তাকে আগলে রেখেছিলেন রিয়াদ।

তাসকিন বলেন, ‘রিয়াদ ভাই সবসময় আমাকে কথা বলে বলে খেলাচ্ছিল। আমার মূল লক্ষ্য ছিল স্ট্যাম্পের বল যেন দেখে খেলি, বারবার রিয়াদ ভাই সেটা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। আমি আমার জোনের বল যখন পেয়েছি মারার চেষ্টা করেছি, বাউন্ডারি হয়েছে।’ 

তাসকিন ব্যাট হাতে পারদর্শী নন। ২৭০ রানে ৮ উইকেট পতনের পর এমন একজনকে নিয়ে ১৯১ রানের পার্টনারশিপ তো আর মুখের কথা নয়। রিয়াদ তাই তাসকিনকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন, কীভাবে খেলতে হবে। তাড়াহুড়া করা যাবে না, ঝুঁকি নেওয়া যাবে না- এসব বারবার তাসকিনকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by bdcrictime.com (@bdcrictime)

তাসকিন জানান, ‘এর আগে আন্তর্জাতিকে সেরা স্কোর ছিল ৩৩। ৪০ হওয়ার পর থেকে রিয়াদ ভাই বলছিল ফিফটির কাছাকাছি, এখন কোনো বাজে শট না, সোজা ব্যাটে খেল। ফিফটি হওয়ার পর যখন ৭০ পার হল তখন বললেন দেখ সোজা ব্যাটে খেলতে থাকলে ইউ নেভার নো একশও হতে পারে! রিয়াদ ভাই বারবার বলছিল, পরের বলটায় মনোযোগ রাখ।’ 

‘সবসময় রিয়াদ ভাই বলছিল উইকেট ভালো হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ যাতে বোলারদের সহায়তা হয়। বলছিল উল্টাপাল্টা না খেলতে, সোজা ব্যাটে খেলতে। সেটাই অনুসরণ করছিলাম। যেহেতু আমি বোলার আমার মাঝেমধ্যে মেরে খেলতে মন চাইতে পারে, তাকে সাপোর্ট দিতে বারবার নিজেকে মনে করাচ্ছিলাম আর উপদেশ অনুসরণ করছিলাম।’ 

রিয়াদ ও তাসকিন আরেকটু হলে গড়ে ফেলতেন বিশ্বরেকর্ড। নবম উইকেট জুটিতে সবচেয়ে বেশি রান বাউচার-সিমক্সের ১৯৫, যা ছোঁয়া হত আর ৪ রান পেলেই। তবে রেকর্ড না হলেও তেমন আক্ষেপ নেই তাসকিনের মাঝে।

তিনি বলেন, ‘আর কিছু রান হলে বিশ্বরেকর্ড হত এটা মাথায় ছিল না। তাও যখন দেড়শ রানের পার্টনারশিপ হয়েছে তখনই ভালো লাগছিল। তাছাড়া রিয়াদ ভাই কয়েক টেস্টে দলে ছিল না, এসেই মাশাআল্লাহ দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন। খুব ভালো লাগছিল যে রিয়াদ ভাইকে লম্বা সময় ধরে সাপোর্ট করতে পেরেছি। যেটা হয়েছে খুব ভালো আলহামদুলিল্লাহ।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।