জাতীয় লিগঃ চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনে বোলারদের আধিপত্য

ncl
শুরু হয়েছে জাতীয় লিগের চতুর্থ রাউন্ড। ঢাকা বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা মেট্রো, বরিশাল বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে খুলনা বিভাগ, রাজশাহী বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে ও রংপুর বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে সিলেট বিভাগ। প্রথম দিনে আধিপত্য দেখিয়েছেন বোলাররা।

ঢাকা মেট্রো বনাম ঢাকা বিভাগঃ ফতুল্লায় ঢাকা মেট্রোর মুখোমুখি হয় ঢাকা বিভাগ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬৬ রান করেই গুটিয়ে গিয়েছে ঢাকা মেট্রো। ওপেনিংয়ে সৈকত ও সাদমান ৩০ রানের জুটি গড়েন। ১৭ রান করে শাহাদাতের বলে আউট হন সৈকত। বড় স্কোর গড়তে পারেননি শামসুর রহমান। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে শামসুরকে (১৪) ফেরান পেসার শরীফ। ওপেনার সাদমান সঙ্গ পাননি অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবের কাছ থেকেও। ৮ রান করে মার্শাল শরীফের দ্বিতীয় শিকার হন। আশরাফুলকে সাথে নিয়ে সাদমান ৩০ রান যোগ করেন। ৩ রানের জন্য অর্ধশতক হয়নি সাদমানের। ১০৩ রানের মাথায় আউট হন নাজমুল ইসলামের বলে।

Advertisment

মেহরাবকে নিয়ে আরও ৩৫ রান যোগ করেন আশরাফুল। ৩৯ রান করে মিনহাজ খানের বলে আশরাফুল সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর ভেঙে পড়ে ঢাকা মেট্রো। দৃঢ়তার পরিচয় দেন মেহরাব জুনিয়র। ১২২ বলে করেন ২২ রান। তবে অন্যরা বলার মত কোনো রান করতে না পারায় ১৬৬ রানেই থামে ঢাকা মেট্রো। শরিফ শিকার করেন ৪ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ১৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়েছে ঢাকা বিভাগ। রানের খাতা খোলার আগে ফিরে যান জয়রাজ শেখ। পরের ওভারেই সৈকত আলী ফেরান আবদুল মজিদকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ঢাকা মেট্রো ১৬৬/১০ (সাদমান ৪৭, আশরাফুল ৩৯, মেহরাব ২২, শরিফ ৩৫/৪, নাজমুল ৪৬/৩)
ঢাকা বিভাগঃ ১৯/২ (মজিদ ৮, মিনহাজ ৮*, রকিবুল ২*, সৈকত ৫/১, শহিদুল৯/১)

বরিশাল বিভাগ বনাম খুলনা বিভাগঃ ফজলে মাহমুদের ৯৫ রানের ইনিংসের সত্ত্বেও ১৭১ রান করে গুটিয়ে যায় বরিশাল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৯ রানের মাথাতেই আউট হন সায়েম। শুরুর ধাক্কা সামলাতে পারেনি শাহরিয়ার নাফিসরা। ১০ রান করে নাফিসও ফিরে যান। বিবর্ণ ছিলেন সালমানও(১০)। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ফজলে।

তবে ফজলে সঙ্গ পাননি কারও। দেখেছেন সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল। আল-আমিন ২ রান করে, গাজী ০ ও মনির ৫ রান করে আউট হন। ১৫৮ রানের মাথায় আউট হন ফজলে। শতক থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থেকে বিদায় নেন তিনি। শাহীন ১৮ ও সালেহ আহমেদ শাওন করেন ১০। সর্বসাকুল্যে ১৭১ রান করে বরিশাল। তিনটি করে উইকেট পান জিয়াউর ও আশিকুর।

মেহেদি হাসানের অর্ধশতকে ভর করে বেশ শক্ত অবস্থানে আছে খুলনা। হাসানুজ্জামানকে সাথে নিয়ে প্রথম উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়েন মেহেদি। ২৪ বলে ২৩ করে বিদায় নেন হাসানুজ্জামান। এটিই ছিল বরিশালের একমাত্র সাফল্য। দিনশেষে খুলনার সংগ্রহ ১ উইকেটে ১০১।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বরিশাল বিভাগ ১৭১/১০ (ফজলে ৯৫, শাহীন ১৮, নাফিস ১০, জিয়াউর ২৯/৩, আশিকুর ৩৩/২)
খুলনা বিভাগ ১০১/ (মেহেদি ৫৫*, এনামুল ১৫*, সালমান ২৪/১)

রাজশাহী বিভাগ বনাম সিলেট বিভাগঃ ব্যাট হাতে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি কেউ। এর মাশুলও দিতে হয়েছে তাদের। ২০৪ রান করেই অলআউট হয়েছে তারা। মাত্র ৩ রানের মাথায় আবু জায়েদের বলে বোল্ড হন মাইশুকুর। এরপর জুনায়েদকে নিয়ে ৩৫ রান যোগ করেন মিজানুর। ৩১ বলে ২৬ রান করে আউট হন জুনায়েদ। মিজানুর ৩২ ও ফরহাদ ৩৫ রান সংগ্রহ করেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। আবু জায়েদের বোলিং তোপে বড়ে রাজশাহী। একাই ছয় উইকেট শিকার করেন এ বাঁহাতি ফাস্ট বোলার।

জবাবে প্রথম ওভারেই ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনকে হারায় সিলেট। ৩৩ বল খেললেও দুই অঙ্কের ঘরে পৌছাতে পারেননি জাকির। ৮ রান করে আউট হন তিনি। দিনশেষে সিলেটের সংগ্রহ ৪৩ রান। তবে দুই উইকেট শিকার করে নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে জহুরুল-জুনায়েদরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ রাজশাহী বিভাগ ২০৪/১০ (ফরহাদ ৩৫, মিজানুর ৩২, মুক্তার ২৯, জায়েদ ৪৮/৬, রাহাতুল ৩০/১)
সিলেট বিভাগ ৪৩/২ (সায়েম ৩০*, জাকির ৮, রেজা ২৬/২)

রংপুর বিভাগ বনাম চট্টগ্রাম বিভাগঃ অন্য ম্যাচগুলোড় চেয়ে এটি ছিল কিছুটা ব্যাতিক্রমধর্মী। ৭৬ ওভার ব্যাটিং করেই ৩০০ রান পার করেছে রংপুর। ওপেনার সায়মন ও লিটন দাস দলকে দারুণ সুচনা এনে দেন। ৬৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের জুটি ভাঙেন হোসেন আলি। এরপর মাহমুদুলকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়েন লিটন। তবে মাহমুদুল ও লিটন দুইজনকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন সাইফুদ্দিন। ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। নাঈম ও নাসির থিতু হলেও বড় স্কোর করতে পারেননি। নাঈম করেন ২২ আর নাসির ৩০। দুইজনই ফিরে যান হোসেন আলির বলে। শেষদিকে হাল ধরেন আরিফুল ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। দুইজনই তুলে নেন অর্ধশতক। ৫২ রান করে আরিফুল বিদায় নিলেও ৬২ রান করে অপরাজিত থাকেন শুভ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ রংপুর বিভাগ ৩১৫/৭ (লিটন ৭৩, শুভ ৬২*, আরিফুল ৫২, আলি ৬৪/৩, সাইফুদ্দিন ৬৮/২)

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম