Scores

‘জিতব যোগ্যতায়, প্রতারণা করে নয়’

অস্ট্রেলিয়ার বল টেম্পারিং নিয়ে হৈচৈ ক্রিকেট পাড়ায়। কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের, তৃতীয় দিনে পকেট থেকে হলুদ রঙের টেপ-জাতীয় কিছু একটা দিয়ে বল ঘষছেন ক্যামেরুন ব্যানক্রফট। বিষয়টি ততখনাৎ নজরে এসে যায় ব্রডকাস্টারদের। সাথে সাথেই দেখানো হয় টিভি ফুটেজে।

সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনায় মেতে আছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এমনকি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মাঠে এমন কাণ্ড ঘটাবেন সেটিও বিশ্বাস করতে পারছেননা অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরাও এতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য আইসিসি থেকে শাস্তি পেতে হয়েছে স্মিথ ও ব্যানক্রফটকে।

Also Read - ডিপিএলে রাজার ব্যাটে ঝড়, বড় সংগ্রহ গাজী গ্রুপের


অনেকের মতো মাঠে এমন কাণ্ডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উপর হতাশ উইন্ডিজ গ্রেট ফাস্ট বোলার ও বাংলাদেশ দলের কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। ক্রিকেটে এমন ঘটনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়ে কথা বলেন।

‘আমি শোকাহত। যখন জানলাম এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছে, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। তার পরে ফুটেজটাও দেখলাম। বিস্ময়কর! দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি, ক্রিকেটে এ রকম কিছু কখনও দেখতে হবে।’

নিজের সময়ে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ এর বড় ভক্ত ছিলেন বাংলাদেশের এই বোলিং কোচ। কখনো এই স্পিরিটের বাইরে যাননি কোচ। তাইতো ১৯৮৭ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে  শেষ ওভারে ওয়ালশ পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর নন স্ট্রাইকার এন্ড থেকে বেরিয়ে গেলেও রান আউট করেননি। ছিটকে গিয়েছিল উইন্ডিজ।

ক্রিকেটে বল টেম্পারিং নতুন কিছু নয়। ওয়াসিম, ওয়াকারদের মতো গ্রেটরাও এই ধরণের কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনেক সময় ম্যাচ জয়ের জন্য এই ধরণের সুবিধা নিয়ে থাকে বোলাররা। তবে এটির বিরুদ্ধে ওয়ালশ। জেতার জন্য এই অসাধু উপায় অবলম্বন করতে রাজি নন সাবেক উইন্ডিজ ফাস্ট বোলার। তার মতে চিট করে জেতার চেয়ে হেরে মাথা উচু করে হাঁটাও অনেক সম্মানের।

‘ক্রিকেট কেন, কোনও খেলাতেই এই ধরনের ঘটনার কোনও জায়গাই নেই। আমি সব সময়েই ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’-এ বিশ্বাস করে এসেছি। অবশ্যই জিততে চাই।  কিন্তু সঠিক মনোভাব, সঠিক পথে জিতব— এই ছিল আমার ক্রিকেট মন্ত্র।  কোনও দিন এর অন্যথা করার কথা ভাবিইনি। প্রতারণা করে জেতাটা আবার জেতা নাকি? তার চেয়ে মাথা উঁচু করে হার সহ্য করা অনেক সুখের। বল বিকৃতির ঘটনা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না।

বল টেম্পারিংয়ের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। তাদের কথার জের ধরেই শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। স্মিথকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ম্যাচ ফি’র শতভাগ জরিমানা এবং ব্যানক্রফটকে তিন ডিমেরিত পয়েন্ট ও ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে আজীবন নিষেধাজ্ঞা পেতে যাচ্ছেন স্মিথ। ওয়ালশের চোখে এটি বাড়াবাড়ি হবে মনে হচ্ছে এবং এই ধরণের ঘটনায় আরও কড়া শাস্তি আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি তবে অবশ্যই আজীবন নিষেধাজ্ঞা নয়।

‘আজীবন নির্বাসনটা বেশি কড়া হয়ে যাবে। সেটা চাইব না। তবে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি হওয়া দরকার। অধিনায়ক মানে তোমাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এ রকম ঘটনায় তুমি কী করে অংশীদার হতে পারো? আমার মনে হয় আইসিসির এইটা নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত এবং আরও কড়া শাস্তি আনা উচিত।’

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বল টেম্পারিং কাণ্ডে নড়েচড়ে বসেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তবে এমন ঘটনার সঙ্গে যে জড়িত ছিলেন ওয়াকার, ওয়াসিম আকরাম, মাইক আথারটন, শচীনদের মতো গ্রেটরা। মূলত বল থেকে বাড়তি সুইং, বাউন্স এবং সুবিধা পেতেই বল টেম্পারিং করা হয়। ওয়ালশ বলছেন বল রিভার্স সুইং করাতে বল টেম্পারিংয়ের প্রয়োজন হয়না, লাগে নিজের স্কিল।

‘এটা একটা বিশেষ ধরনের স্কিল। আয়ত্তে আনতে পারলে দারুণ অস্ত্র। তার জন্য বল বিকৃতি ঘটাতেই হবে, কে বলল! সমস্যাটা হচ্ছে, বলটাকে তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময় অন্যায় পথ ধরা হয়। শর্ট-কার্ট রাস্তা। ওদের বোধ হয় পুরনো কথাটা মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার পড়েছে যে, সাফল্যের কোনও শর্ট-কার্ট হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। রিভার্স সুইংকে ক্রিকেটের দরকার, বল বিকৃতির অপরাধকে নয়।’

আরও পড়ুনঃ আসল হোতা ওয়ার্নার?

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

পন্টিং-ওয়ার্নদের কোচিং করাবেন শচীন-ওয়ালশ!

অবশেষে চাকরি পেলেন ওয়ালশ, তবে ‘অস্থায়ী

বাংলাদেশে কাজ করে ‘শিখেছেন’ ওয়ালশ

নিজ ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ওয়ালশ!

ওয়াসিম আকরামকে অপমান, ওয়ালশের সমালোচনা