Scores

জিতেও কি লক্ষ্যপূরণ হলো পাকিস্তানের?

ক্রিকেটবিশ্বে পাকিস্তান একসময় আতঙ্কের নাম ছিল। শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই জের কাটাতে কম চেষ্টা করেনি পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড। কাজও হয়েছে কিছুটা। আইসিসির বিশ্ব একাদশের সাথে ম্যাচ, পিএসএলের ফাইনাল, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজ, আর সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফর মিলিয়ে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি পিসিবি। সদ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডেকে এনে হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর এই চেষ্টা কতোটা সফল হয়েছে তাতে?

সন্ত্রাসবাদে নীল হয়েছে পাকিস্তান, এটা বহু পুরনো খবর। কিন্তু ক্রিকেটের মতো ভদ্রলোকের খেলায়ও তার প্রভাব পড়ার ঘটনা ওই একবারই। সবাই জানে, ২০০৯ সালে লাহোরে টিম শ্রীলঙ্কার ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ রয়েছে। ওই দিন গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দলের ছয়জন খেলোয়ার আহত হন। নিহত হন ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং দু’জন সাধারণ মানুষ। সেই ঘটনার পর বহু চেষ্টা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবি। কিন্তু কোন দলকেই রাজি করানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ দলকেও অনেকবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইকে নিজেদের হোম ভেন্যু বানাতে হয়েছে তাদের। এমনকি ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ বা পিএসএল আয়োজনেও আরব দেশটির মুখাপেক্ষী হয়েছিল পিসিবি। এই কারণে বহু অর্থ লস করতে হয়েছে তাদের। অন্য দেশকে নিজেদের হোম ভেন্যু বানাতে হয়েছে। ফলে নিজেদের মাঠে খেলার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে।

পাকিস্তানে খেলতে গিয়ে যাদের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়েছিল সেই শ্রীলঙ্কা দলই পাকিস্তানের দিকে আবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। তিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে যায় শ্রীলঙ্কা। যদিও সেই সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন প্রধান কোচ নিক পোথাসসহ লঙ্কান দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা। পরে ক্ষয়িষ্ণু ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়ে ও নব্য ক্রিকেটশক্তি আফগানিস্তান তাদের ডাকে পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যায়। এই ঘটনায় আশ্বস্ত হয়ে পিসিবি অন্য অনেক দলকে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করেও আবারও ব্যর্থ হয়। তবে দীর্ঘ দিন পর সেই অবস্থা থেকে ফিরতে শুরু করেছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার সফর, পাকিস্তান সুপার লিগের দুটি প্লে-অফ ম্যাচ, ফাইনাল আর আইসিসির বিশ্ব একাদশের সাথে ম্যাচ দিয়ে যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো তাতে শেষ আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সফর থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডার, অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো, এভিন লুইস, সুনীল নারাইন, কাইরন পোলার্ড, কার্লোস ব্র্যাথওয়েটহীন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন ম্যাচের টি২০তে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করেছে সরফরাজ আহমেদের দল। এই সিরিজের মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য বিখ্যাত শহর লাহোরের পর করাচীতেও ফিরল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

Also Read - যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে আইপিএল


রেকর্ড গড়ে নিজভূমে পাকিস্তানের উড়ন্ত সূচনা

নিরাপত্তার কড়াকড়ি পাকিস্তানে অনেক বেশী। একজন প্রেসিডেন্টের জন্য যে ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় ঠিক তেমন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে বিদেশি ক্রিকেট দলের জন্য। কেননা, সন্ত্রাসী হামলার ভয় সেদেশে খুব সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ আশাবাদী পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। কোনরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ কয়েকটি সিরিজ আয়োজন সেই আশা আরও বেগবান করেছে। এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইংল্যান্ডকে আমন্ত্রণ করেছে। এর আগে বাংলাদেশ দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে সেই সফর বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। তবে বিশ্ব একাদশের হয়ে সেখানে খেলতে গেছেন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। পিএসএলে খেলেন আরেক বাংলাদেশি ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ফলে ক্রিকেটবিশ্বে পাকিস্তানের ইমেজ এখন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের বড় তারকাদের ছাড়াই সেখানে খেলতে গেছে তবু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটি আগের চেয়ে ভাল করেছে। এমনকি ‘পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার এখনই সময়’ এমন কথা বলেছেন উইন্ডিজের কোচ স্টুয়ার্ট ল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের অন্যতম মারকুটে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একজন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ’ এই রায় দিয়ে দিয়েছেন।

জয়-পরাজয় নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত সিরিজটি আয়োজন করে পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য ছিলো ক্রিকেট যে সে দেশে নিরাপদ, তা বিশ্বকে জানানো। এই কাজটা বেশ সফলভাবে শেষ করেছে দেশটি। তবে এখনও যেতে হবে অনেক দূর। বিশ্বের অন্য শক্তিশালী ক্রিকেটদল বিশেষ করে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এমনকি বাংলাদেশের মতো দলগুলোকে (অবশ্যই পূর্ণশক্তির) সে দেশে নিতে পারলেই কেবল সাফল্য পূর্ণ হবে। আর সেই লক্ষ্য এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটদলের চেষ্টার প্রশংসা করতেই হবে। ক্রিকেট ওই দেশেও তুমুল জনপ্রিয় খেলা। ফলে সেই দেশে ক্রিকেট ফিরলে ক্রিকেটের জন্যই মঙ্গল।

আরও পড়ুনঃ যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে আইপিএল

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

সাকিব বীরত্বে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

উইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা, ফিরলেন লুইস

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, সূচি প্রকাশ

ওয়ানডে সিরিজের উইন্ডিজ দল ঘোষণা, ফিরলেন ব্রাভো