Scores

জুনিয়র ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সুজন

দেশের তরুণ ও জুনিয়র ক্রিকেটারদের নিবেদন ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। সফল ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য পেশাদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শীঘ্রই ছন্দে ফিরবেন সাকিব, প্রত্যাশা সুজনের

ক্রিকেটারদের অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা দিতে এখন কোনো কার্পণ্য নেই বোর্ডের। হোম অব ক্রিকেট সবসময় ক্রিকেটারদের জন্য খোলাই থাকে। তবুও পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের পর ভরসা করার মত ক্রিকেটার তেমন উঠে আসেননি। যাদের নিয়ে প্রত্যাশা বেশি ছিল, নানা সময়ে হতাশ করেছেন তারাও।

Also Read - টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি


আর এর প্রভাব পড়ছে মাঠের পারফরম্যান্সেও। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছাড়া টাইগারদের পারফরম্যান্স বিবর্ণ। সুজন মনে করেন, ক্রিকেটার হিসেবে নিজেদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে খেলোয়াড়ি সত্ত্বাকে আরও পেশাদারীভাবে দেখা উচিৎ তরুণ ও জুনিয়র ক্রিকেটারদের।

বিডিক্রিকটাইমকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের ৩-৪ ঘণ্টার প্র্যাকটিসে আপনি কি বিরাট কোহলি বা শচীন টেন্ডুলকার হতে পারবেন? ওরা কঠোর অনুশীলনে ছিল সবসময়। প্র্যাকটিসের বিকল্প কিচ্ছু নেই। আপনি যত বড় খেলোয়াড়ই হন না কেন, সঠিক প্র্যাকটিসের বিকল্প কিছু হতে পারে না।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করায় এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষকের ভূমিকা সুজনের। তাই কাছ থেকেই দেখেছেন পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কতটা পরিশ্রম করেছেন নিজেদের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে।

সুজন বলেন, ‘বিসিবিতে অনেক সময় সকালেও আমার যাওয়া হয়। দেখেছি- মাশরাফি দৌড়াচ্ছে। কিংবা মুশফিক মাত্র নেট করে বের হল, মাঠে গিয়ে ক্যাচ ধরছে। একইভাবে রিয়াদ, তামিম সাকিব- সবাইকে দেখেছি যথেষ্ট কষ্ট করতে। সাকিব নিজের প্র্যাকটিস খুবই ভালো বোঝে। কোনোদিন অনেক বেশি অনুশীলন করে, কোনোদিন করেই না। ওর ক্রিকেটটা ও খুব ভালো বোঝে। প্রত্যেক সিনিয়র ক্রিকেটারকেই দেখেছি বাড়তি অনুশীলন করে।’

ক্রিকেটারদের করোনা মুক্ত রাখতেই ডিপিএল চান সুজন

সুজনের চাওয়া, তরুণরাও নিজেদের আরও ভালো করে তোলার ব্যাপারে সচেতন হবেন, ‘তরুণরা করে না, তা বলব না। তবে সেটা খুব কম আকারে। আমার কথা হল- মাঠে ওদের কাজ কী? (এখনকার খেলোয়াড়দের) ক্রিকেট ছাড়া কাজ কী? ওদের পেশাই তো হল ওরা ক্রিকেটার। আমার তো বাইরের কোনো কমিটমেন্ট থাকাই উচিৎ না। আমার তো সকাল নয়টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা উচিৎ। আমাকে মাঠে থাকতে হবে, ওখানেই ট্রেনিং করতে হবে, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং করতে হবে। আপনি ব্যাটিং করলেন কিন্তু ফিল্ডিং করলেন না, তখন ফিল্ডিংয়ে দুর্বল হয়ে যাবেন। ফিটনেস নিয়ে কাজ না করলে ফিটনেসে পিছিয়ে যাবেন। আপনি তো পেশাদার।’

সুজনদের খেলোয়াড়ি জীবনে ক্রিকেটে জীবিকার পূর্ণ নিশ্চয়তা ছিল না। কারও অস্বীকার করার সুযোগ নেই, এখন সেই নিশ্চয়তা আছে। তাই ক্রিকেটেই পূর্ণ মনোনিবেশ করার তাগিদ জানালেন তরুণ ক্রিকেটারদের, ‘আমাদের সময় আমরা পেশাদার ছিলাম না। ক্রিকেট খেলে কত টাকাই আর পেতাম। আমাদের তখন উদ্দেশ্য থাকত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি বা একটা কিছু তো করতে হবে। বাবা-মা ভয় পেত এসব (ক্রিকেট) নিয়ে। এখনকার ছেলে-মেয়েদের বাবা-মায়েরা তো ভয় পায় না। যে একবার জাতীয় দলে খেলে, যে ৫-৭ বছর ধরে খেলছে, সে তো যথেষ্ট টাকার মালিক হয়ে যায়। সেটা দিয়ে ব্যবসা করে সারা জীবন চলতে পারবে। আপনার চিন্তাটা (দুশ্চিন্তা বা পিছুটান) কোথায়?’

‘আপনার তো মাঠে থাকা উচিৎ। সকালে নাস্তা করে মাঠে আসবেন, লাঞ্চ মাঠে করবেন, বিকেলে ব্যাগ গুছিয়ে বাসায় ফিরে যাবেন।’

ব্যক্তিগত অনুশীলন করা ক্রিকেটারদের অনুশীলনের কার্যকারিতা সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন তিনি।

‘অনেক খেলোয়াড়কে দেখেছি ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করে। আপনি হয়ত টিম বয়ের সহায়তায় অনুশীলন করে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনাকে দেখার কেউ নেই। কোনো ভুল হচ্ছে, ভুল শট খেলছেন, সেটা দেখার কেউ নেই। একজন কোচ ছাড়া যখন ব্যক্তিগতভাবে ব্যাটিং করবেন এগুলোও চিন্তা করতে হবে।’

খালেদ মাহমুদ সুজন

‘ছেলেদের ট্রেনিংয়ে সময় বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ। স্কিলের কাজগুলো বাড়ানো উচিৎ। ফিটনেসের কাজ বাড়ানো উচিৎ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সহজ নয়। এটা অনেক কঠিন জায়গা। মাথার ওপর বল আসবে, সেটা সামাল দিতে হবে। কোমরের পাশ দিয়ে বল করবে, সেটা সামলাতে হবে। এগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে তো আপনাকে। এটা কোথায় করবেন? একমাত্র জায়গা হচ্ছে ট্রেনিং। সঠিক ট্রেনিং করতে হবে।’

বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করা সুজনের মতে, তরুণরা তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রম বাড়ালে উপকৃত হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ‘ছেলেদের আরও নিবেদিত হতে হবে। তাহলে আমরা আরও অনেক উন্নতি করতে পারব। ওদের তো সুযোগ-সুবিধা আছে। সুবিধা না থাকলে এক কথা। আমাদের সময় ছিল না। দুই ঘণ্টা অনুশীলনের পর অন্য আরেক দলের প্রস্তুতি। দুই ঘণ্টার বেশি চাইলেও অনুশীলন করতে পারতাম না। বাংলাদেশ জাতীয় দলে তো এই সমস্যা নেই। আপনাদের জন্য ইনডোর দেওয়া আছে, আউটডোরে উইকেট থাকে, নেট বোলার চাইলে নেট বোলার দিবে… প্র্যাকটিস করুন! আপনার আর কী কাজ আছে?’

‘আমার যদি অধ্যবসায় থাকে, অবশ্যই আমি পারব। এটা তো রকেট সাইন্স না যে আমি পারব না। ব্যাট বলের খেলা, কষ্ট করলে শিখরে অবশ্যই পৌঁছাবেন।’– বলেন তিনি।

Related Articles

ডমিঙ্গোকে ‘বলির পাঁঠা’ না বানানোর আহ্বান সুজনের

তাসকিনের নিবেদন দেখে মুগ্ধ সুজন

এক বছর ড্র করতে পারলে টেস্ট ম্যাচ জেতা শিখব : সুজন

কোয়ারেন্টিনের ভালো দিকও দেখছেন সুজন

আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ