SCORE

সর্বশেষ

জয় দিয়ে শুরু করতে চান রিয়াদ

শনিবার সন্ধ্যায়ও তিনি ব্যস্ত ছিলেন পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলায়। ম্যাচ শেষ করে তড়িঘড়ি করে দেশের বিমানে চড়ে বসলেন। যদিও কথা ছিল দুবাই থেকেই নিদাহাস ট্রফির উদ্দেশে শ্রীলঙ্কা যাত্রার। তবে পিএসএলের আরও তিন বাংলাদেশি সারথি তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমান এই কাজ করলেও মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ আগে পা রাখলেন দেশে। এরপর দলের অন্যদের সঙ্গে ধরলেন শ্রীলঙ্কার বিমান। অধিনায়কের দায়বদ্ধতা থেকেই হয়ত!

বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন রিয়াদ

দেশ ছাড়ার আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিদাহাস ট্রফির শুরুটা করতে চাইলেন ভালো। জয় দিয়ে আসর শুরু করে দলে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা তার।

Also Read - 'আমি তামিমের বড় ভক্ত!'

রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে রিয়াদ বলেন, ‘আমাদের শুরুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবসময়ই বিশ্বাস করি- শুরুটা যদি ভালো হয়, তাহলে আমরা ছন্দ পাই। মোমেন্টাম চলে আসে। আমার মনে হয় একটা ম্যাচই আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট। প্রথম ম্যাচটা যদি জিততে পারি, ইনশাআল্লাহ দল উজ্জীবিত হবে, অনুপ্রাণিত হবে। আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। যা পরের ম্যাচগুলোয় ভালো করার প্রেরণা যোগাবে।’

ইনজুরির কারণে এই সিরিজেও খেলতে পারছেন না বেশ কয়েকদিন ধরে মাঠের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসান। সাকিবের অনুপস্থিতিই রিয়াদের মাথায় চড়িয়েছে অধিনায়কের টুপি। সেই সাকিব না থাকাকে দলের জন্য ক্ষতি হিসেবে দেখছেন রিয়াদ, ‘সাকিবকে অবশ্যই মিস করবো। সাকিবের না থাকা অবশ্যই দলের জন্য ক্ষতিকর। সে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়, অপরিহার্য পারফর্মার। তার অভাব অনুভূত হবেই। সেটা কাটিয়ে ওঠাও খুব কঠিন।’ তবে সাকিবের না থাকাকে অন্যদের জন্য সামর্থ্যের প্রমাণ রাখার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি, ‘সাকিব না থাকার অর্থ, আমাদের সবার ভালো কিছু করে দেখানোর সুযোগ।’

টি-২০’তে অন্য দুই ফরম্যাটের মতো এখনও নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপরও বাংলাদেশ অধিনায়কের লক্ষ্য ট্রফি জেতাই। সেই সাথে প্রমাণ করতে চান টি-২০’র বাংলাদেশ দলকেও। রিয়াদ বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য ভালো করে দেখানোর একটি সুযোগ। টুর্নামেন্ট জেতা প্রথম লক্ষ্য। একই সাথে আমার মনে হয় আমাদেরও অনেক কিছু করার বাকি আছে এবং অনেক কিছু প্রমাণ করার বাকি আছে, যে আমরা কতটুকু ভালো দল হতে পারি এই ফরম্যাটে।’

আর এজন্য তার প্রত্যাশা সবার সেরা পারফরমেন্স, ‘সবারই যদি ব্যক্তিগত সেরাটা আদায় করে নিতে পারি, আমার মনে হয় আমাদের খুব ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ঘরের মাটিতে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছিল বাংলাদেশ। এমনকি সাফল্য এসেছে দেশের বাইরেও। টানা সাফল্যে দলকে অনেকেই হারতে দেখতে অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, ত্রিদেশীয় সিরিজ বা ঘরের মাটিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে হোম সিরিজে ব্যর্থতা এসেছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত হয়ে।

তবে সবকিছু ভুলে শ্রীলঙ্কার উপমহাদেশীয় পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভালো করার প্রত্যয় বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ বলেন, ‘মাঝে ঘরের মাটিতে আমরা খুব ভালো খেলছিলাম, তাই আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমরা হয়তো শেষ সিরিজে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারিনি। তবে যেহেতু উপমহাদেশের পরিবেশ, বেশ অনেকবার আমরা খেলেছিও শ্রীলঙ্কায়। ইনশাআল্লাহ, আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।’

নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভারত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্যই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, যেখানে দুর্দান্ত পারফরমেন্স প্রদর্শন করে রীতিমতো উড়ছে লঙ্কানরা। অন্যদিকে ভারত বিগত কয়েক বছর ধরেই আছে বিধ্বংসী ফর্মে। বিশেষ করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট টি-২০’তে দলটি যেন একেবারেই অপ্রতিরোধ্য। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে ভালো খেলার চিন্তাই রিয়াদের, ‘আসল ও শেষ কথা হলো ভালো খেলা। আপনি যার বিরুদ্ধেই খেলেন, আপনাকে ভালো খেলতেই হবে। প্রতিপক্ষ নিয়ে তাই চিন্তা করে লাভ নেই। যে কোনো প্রতিপক্ষই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আসল কাজ হলো ভালো খেলা।’

আরও পড়ুনঃ দলকে সামর্থ্যের ১২০ ভাগ দিবেন তাসকিন

Related Articles

রুবেল হোসেনের সমস্যা কোথায়?

নিদাহাস ট্রফি থেকে ৪৮২ শতাংশ লাভ!

অসুস্থ রুবেল, দোয়া চাইলেন সবার কাছে

যেখান থেকে শুরু ‘নাগিন ড্যান্স’ উদযাপনের

‘খারাপ করছি দেখেই বেশি চোখে পড়ছে’