Scores

জয়-পরাজয় দুটোরই স্বাদ পেলেন মাশরাফি

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে সোমবার হোম অব ক্রিকেটে ম্যাচের দৃশ্যপট অনুযায়ী ব্যাট-বল হাতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে আসন্ন প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা। এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দলে ডাক না পাওয়া একাধিক ক্রিকেটাররাও অংশ নিয়েছিলেন অভিনব পদ্ধতির এ অনুশীলন পর্বে।

ম্যাচ দৃশ্যপটের অনুশীলনে ক্রিকাটাররা।

দৃশ্যপট-১:

Also Read - রিয়াদের প্রশংসায় গেইল

৪ ওভারে ২০ রান তুলতেই নেই এক উইকেট, ম্যাচে এমন সমীকরণ হলে কীভাবে প্রথম ১০ ওভারে ব্যাট করবেন ব্যাটসম্যানরা? এর পরীক্ষা দিয়েই শুরু হয় বিশেষ অনুশীলনের পর্বটি। লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত যে পরীক্ষায় বেশ ভালোভাবেই উতরে যান।

৬ ওভার ব্যাট করে দুজনেই অপরাজিত থেকে এমতাবস্থায় স্কোরবোর্ডে ৪৯ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটসম্যান। যার মধ্যে ৩১ রান আসে শান্ত’র ব্যাট থেকে আর ১০ রান আসে লিটনের ব্যাট থেকে।

দৃশ্যপট-২:

শুরুর পরীক্ষার পর বদলে দেওয়া হয় দৃশ্যপট। ২৫ ওভারে সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০০ রান। বিপর্যয় কাটিয়ে এখান থেকে দলকে সামনে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব মুশফিকুর রহিম ও শান্ত’র কাঁধে এমন সমীকরণে খেই হারিয়ে সাজঘরে ফিরেন মুশফিক। তার উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহী। এরপর শান্ত’র সাথে ক্রিজে যোগ দেন মোহাম্মদ মিঠুন।

শুরু থেকে দারুণ ব্যাট করতে থাকেন মিঠুন। শান্ত এ দৃশ্যপটে ২১ রান যোগ করে পা দেন স্কোয়াডে না থাকা সত্ত্বেও অনুশীলনে ডাক পাওয়া জুবায়ের হোসেন লিখনের লেগ-স্পিনে। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান আউট হলেও মোসাদ্দেককে সাথে নিয়ে বাকিটা সময় খেলে যান মিঠুন। দৃশ্যপটে সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে তার ব্যাট থেকেই।

রান সম্পন্ন করার সময় মাশরাফি ও মিরাজ।
রান সম্পন্ন করার সময় মাশরাফি ও মিরাজ।

দৃশ্যপট-৩:

এরপর শুরু হয় ইনিংসের শেষ ছয় ওভারের ব্যাটিং অনুশীলন। ৪৪ ওভারে দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫০, ক্রিজে আছেন আরিফুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন। আর দলের জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৩০১ রান। এমতাবস্থায় ম্যাচের দুই মেরু থেকে পরীক্ষায় সম্মুখীন হয় ব্যাটসম্যানদের সাথে বোলাররাও। ব্যাটসম্যানদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকে রান বাড়িয়ে নেওয়ার অন্যদিকে বোলারদের সামনে রান চেপে ধরার।

ম্যাচ জেতানোর পর মাশরাফিকে ঘিরে প্রধান কোচের উচ্ছ্বাস।
ম্যাচ জেতানোর পর মাশরাফিকে ঘিরে প্রধান কোচের উচ্ছ্বাস।

এমন সমীকরণে ২৪ রান করে আরিফুল আউট হলে ক্রিজে আসেন মাশরাফি মুর্তজা। এসেই দুর্দান্ত গতিতে তুলতে থাকেন রান। দুর্দান্ত ব্যাট চালিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। শেষ ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তুলে নেয় মাশরাফিরা। বোলারদের মধ্যে সৌম্য, কামরুল ও অপু প্রত্যকেই লাভ করেন একটি করে উইকেট।

শেষ ওভারের লড়াইয়ে দলকে ম্যাচ এতানোর পর মাশরাফির উদযাপন।
শেষ ওভারের লড়াইয়ে দলকে ম্যাচ জেতানোর পর মাশরাফির উদযাপন।

দৃশ্যপট-৪:

চতুর্থ দৃশ্যপটে আবারও অনুষ্ঠিত হয় শেষ ওভারের লড়াই। এবার লক্ষ্যমাত্রা ৩০১ এর জায়গায় করা হয় ৩১৪ রান। এ সমীকরণে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় মাশরাফি ও আরিফুলের কাঁধে। ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা প্রথম বলেই আরিফুল আউট হলে ক্রিজে আসেন মিরাজ। তবে এ যাত্রায় আর দলকে জেতানে পারেননি মাশরাফি।

ম্যাচ দৃশ্যপটের অনুশীলনের স্কোরকার্ড।
ম্যাচ দৃশ্যপটের অনুশীলনের স্কোরকার্ড।

দৃশ্যপট-৫:

চতুর্থ দৃশ্যপটে শেষের ওভারের লড়াইয়ে তেমন লড়াই করতে না পারায় ফের ৩০৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শেষ ওভারের লড়াইয়ে নামে ক্রিকেটাররা। টেল-অ্যান্ডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব। ব্যাট হাতে মিরাজ ও অপুর ব্যাটিং শুরুর পর আবু হায়দারের ওভারে অপু রান আউট ও মিরাজ আউট হলে আরও একবার শেষ ওভারে না জিততে পারার আক্ষেপে পড়ে টাইগাররা।

দৃশ্যপট-৬:

দৃশ্যপট পাঁচেও না জিততে পারায় ষষ্ঠ ধাপে আবারও শেষ ওভারের অনুষ্ঠিত হয় লড়াই। স্কোরবোর্ডে ৩০৬ রান, লক্ষ্যমাত্রা ৩০৯ রান অর্থাৎ শেষ ওভারে প্রয়োজন মাত্র ৩ রান। এমন সমীকরণে শরিফুলেরর বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আরিফুল হক। আগের কয়েক ধাপে ব্যর্থ হলেও তাই এবার শেষ ওভারের লড়াইয়ে জয়ের দেখা পায় টাইগাররা।

দৃশ্যপট-৭:

দিনের শেষ ধাপে একই সমীকরণে ব্যাট করতে নামেন মিরাজ ও শরিফুল। আবু জায়েদ রাহীর করা ঐ ওভারে আরিফুলের পথ অনুসরণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজও।


আরও পড়ুনঃ র‍্যাঙ্কিংয়ে কারান-মঈনের উত্থান

Related Articles

“অ্যান্ডারসনের বোলিং অ্যাকশন অনুসরণ করি”

সাউদিদের কাছ থেকে শিখছেন রাহীরা

বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০ উইকেট নেওয়া

রাহীর আশা ভালো করবে চিটাগং ভাইকিংস

উইলিয়ামসের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরেছে জিম্বাবুয়ে