Scores

টপ অর্ডারে বিপর্যয়, মিঠুনের ব্যাটে মান বাঁচাল বাংলাদেশ

ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এবার অবশ্য সিদ্ধান্তটা ছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েন কেন উইলিয়ামসন।

টপ অর্ডারে বিপর্যয়, মিঠুনের ব্যাটে মান বাঁচাল বাংলাদেশ

ক্রাইস্টচার্চের আবহাওয়া ছিল খানিক ঠান্ডা। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আকাশে জমে থাকা মেঘ জমল বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আকাশেও। শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট আর ম্যাট হেনরিকে সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছিল বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবালের। কিছুটা মন্থর শুরু করে বাংলাদেশ।

Also Read - দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


প্রথম আঘাত হানেন ট্রেন্ট বোল্ট। ট্রেন্ট বোল্টের বলে উড়িয়ে মারেন লিটন দাস। সেই মারে জোর ছিল না তেমন। মিড-অন থেকে হালকা দৌড়ে ক্যাচ নেন লকি ফার্গুসন। মাটি কামড়ে থাকার চেষ্টা করেছিলেন তামিম ইকবাল। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় ম্যাট হেনরির বলে এলবিডব্লিউ হলে। ২৮ বলে ৫ রান করে ফিরে যান।

নিজের ২০০ তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মুশফিকুর রহিম যখন ব্যাট হাতে নামেন তখন ১৬ রানে দলের নেই দুই উইকেট। সৌম্য সরকারকে সাথে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মুশফিক। প্রথম ওয়ানডের মত এ ম্যাচেও সৌম্য সরকার ফিরে গেলেন সম্ভাবনা জাগিয়ে। ২৩ বলে ২২ রান করে প্রথম স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল মুশফিকুর রহিমের। ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় টড অ্যাসলের হাত থেকে ক্যাচ ফসকালে জীবন পান তিনি। এরপর ১৪ রানের সময় তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন রস টেলর। তার এক ওভার পরে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচও তালুবন্দী করতে পারেননি রস টেলর।

দলীয় ৮১ রানের মাথায় লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। প্রথম ওয়ানডের মত বাইরের বল ইনসাইড এজ করে নিয়ে আসেন স্টাম্পে। ৩৬ বলে ২৪ রান করে সাঁজঘরে ফিরেন তিনি।

বেশিক্ষণ টিকেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টড অ্যাসলের বলে খোঁচা দিয়ে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ (৮ বলে ৭ রান)। এরপর সাব্বির রহমানকে নিয়ে হাল ধরেন মোহাম্মদ মিঠুন। প্রথম ম্যাচের মত ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হন মিঠুন। লকি ফার্গুসনের বল খেলতে গিয়ে খানিক চোটও পান মিঠুন। টড অ্যাসলের বলে চার আর ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। সাব্বির ও মিঠুন মিলে গড়েন ৭৫ রানের জুটি। সেই জুটিতে কিছুটা খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ।

মাইক্রোফোনের বদলে কফি দিয়ে ধারাভাষ্য দিতে যাওয়ার ভিডিও-

মিঠুনকে থামান টড অ্যাসলই। কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন মিঠুন। ৭ টি চার আর ১ টি ছক্কায় সাজানো ৬৯ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। একবার বল স্টাম্পে আঘাত করলেও বেল না পড়ায় আউট হননি তিনিই।

মেহেদি হাসান মিরাজ এসে ক্রিজে টিকেছেন ১৮ বল। ১৬ রান করে জিমি নিশামের বলে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগটা ভালোভাবে ঘটাতে পারেননি তিনি। সহজ ক্যাচ নেন হেনরি নিকোলস। অর্ধশতকের পথে এগিয়ে যাওয়া লকি ফার্গুসনকে ফেরান সাব্বির রহমানকে। ৭ চারে ৬৫ বলে ৪৩ রান করে সাব্বির রহমান সহজ ক্যাচ তুলে দেন জিমি নিশামের হাতে। সাব্বির-মিঠুনের জুটিতে লড়াকু স্কোরের আশা জাগলেও ২০৬ রানে ৮ উইকেটের পতন ঘটলে সেই আশা বিলীন হয়ে যায়।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফিরেন ১০ রান করে। ২১১ রানের মাথায় লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হন তিনি। শেষদিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ১৩ আর মুস্তাফিজুর রহমানের ৫ রানের পর ২২৭ রান করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তিন উইকেট পান লকি ফার্গুসন। জোড়া উইকেট শিকার করেন অ্যাসল ও নিশাম।

ভাগ্য বেশ কয়েকবার সহাওয় হয়েছে বাংলাদেশের। বোলিংয়ে শুরুর দিকে সুইং পেলেও অগোছালো ছিল নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। কলিন ডি গ্রান্ডহোম তার প্রথম ওভারে দেন পাঁচ ওয়াইড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ ২২৬/১০, ৪৯.৪ ওভার
মিঠুন ৫৭, সাব্বির ৪৩, মুশফিক ২৪
লকি ৩/৪৩, নিশাম ২/২১


আরো পড়ুন : প্রিমিয়ার লিগে ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

রিয়াদের ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশের লড়াকু সংগ্রহ

জাকির-রাব্বির ব্যাটে ‘এ’ দলের লড়াকু সংগ্রহ

হেটমেয়ারের শতকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল উইন্ডিজ