টাইগারদের বিপক্ষে লঙ্কানদের সহজ জয়

Sri Lanka v Bangladesh - 2015 ICC Cricket World Cup

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

Advertisment

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। মেলবোর্নে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল জিতেছে ৯২ রানে।

রৌদ্রজ্জ্বল দুপুরে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় মাঠ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো শুরু করতে পারত বাংলাদেশ, কিন্তু প্রথম দিকে স্লিপে লাহিরু থিরিমান্নের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন এনামুল হক বিজয়। মাশরাফির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিলশানের আরেকটি ক্যাচ ছুটে যায় উইকেটরক্ষক ও স্লিপ ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে। এর একটু পরই উইকেটে সেট হয়ে মারমুখো হয়ে উঠেন দুই ওপেনার দিলশান ও থিরিমান্নে।

হাফ সেঞ্চুরির পর থিরিমান্নে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। ৭৮ বলে ৫২ রানের ধীরগতির কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলার পর রুবেল হোসেনের বলে তাসকিনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন দিলশান।

দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারা মাঠে নামলে রানের গতি বেড়ে যায় লঙ্কানদের। দিলশানের সাথে সমানতালে চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের শেষ ওভারে মাত্র ৭৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন কুমার সাঙ্গাকারা। এর একটু আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা দিলশান পৌঁছে যান দেড়শ রানের ঘরে। ২২০ মিনিট উইকেটে টিকে থেকে ১৪৬ বলে ১৬১ রান করেন দিলশান। কোনো ছক্কা না মারলেও হাঁকিয়েছেন ২২টি চার। মাত্র ৭৬ বল মোকাবেলা করে সাঙ্গাকারা খেলেন ১০৫ রানের ঝড়ো ইনিংস। ইনিংসের একমাত্র ছক্কার পাশাপাশি তিনি হাঁকিয়েছেন ২৩টি চার।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে ভালো বল করলেও ইনিংসের শেষ অর্ধে রানের লাগাম আটকে রাখতে পারেননি। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তাসকিন আহমেদ, ১০ ওভার বল করে ১টি মেডেন পেলেও দিয়েছেন ৮২ রান। একমাত্র উইকেটটি শিকার করা রুবেল হোসেন ৯ ওভারে দিয়েছেন ৬২ রান। তুলনামূলক ভালো বল করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি, ১০ ওভারে দিয়েছেন ৫৩ রান, যদিও শুরুতে ইকোনোমি রেটটা ছিল অনেক ভালো।

শ্রীলঙ্কার ৩৩২ রানের জবাবে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩৩ রান। ওভারপ্রতি প্রয়োজন ৬.৬৪ রান- এমন সমীকরণকে সামনে রেখে চাপের মুখে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল (০)। যদিও প্রথমদিকে তামিমের অভাব বোধ করতে দেননি তরুণ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন সৌম্য। আরেক ওপেনার এনামুল হক আগলে রেখেছিলেন একপ্রান্ত। সৌম্যর ব্যাট থেকে নিয়মিতই বাউন্ডারি আসছিলো, কিন্তু ১৪ বলে ২৫ রান করার পর ম্যাথুসের বলে উইকেটের পিছনে সাঙ্গাকারাকে ক্যাচ দেন সৌম্য। এর আগে তিনি হাঁকিয়েছেন ৫টি চার।

সৌম্যর বিদায়ের একটু পর ফিরে যান নতুন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকও। ব্যক্তিগত ১ রানের মাথায় স্লিপে জয়াবর্ধনের ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি। মাত্র ৪১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ওপেনার এনামুল। দুজনে গড়েন ৪৩ রানের পার্টনারশিপ। ৮৪ রানে জুটিটি ভাঙে এনামুল ২৯ রানে আউট হলে। দলীয় ১০০ রানে ২৮রান করে ফিরে যান মাহমুদুল্লাহও।

স্কোরবোর্ডে ১০০ রান তুলতেই নেই ৫ উইকেট- চাপের পাশাপাশি তৈরি হয় অল্প রানে ইনিংস শেষ হবার আশঙ্কাও। কিন্তু তা হতে দেয়নি সাকিব-মুশফিক জুটি। ৬ষ্ঠ ইকেতে দুজনের ৬৪ রানের জুটি ব্যাকফুট থেকে ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। সাকিব ডাউন দ্যা উইকেটে ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে দিলশানের বলে মালিঙ্গার শিকার হয়ে ফিরে যান ৪৬ রান (৫৯ বল) করে।

এরপর সাব্বির রহমান ভালো খেলতে থাকলেও ৭ম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক (৩৯ বলে ৩৬) আউট হয়ে যান দলীয় ২০৮ রানে। আড়াইশো রান তখন সম্ভব মনে হলেও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের তাড়াহুড়োয় তা হয়ে উঠেনি।

৭ রান করে মাশরাফি ও শূন্য রানে তাসকিন বিদায় নিলে দলের আড়াইশোর পাশাপাশি কঠিন হয়ে যায় সাব্বিরের ফিফটিও। অবশ্য রুবেলকে সাথে রেখে সাব্বির তুলে নেন ফিফটি, খেলেছেন ৬২ বলে ৫৩ রানের ভালো একটি ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানও তাঁর। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মালিঙ্গার শিকার হয়ে সাব্বির আউট হলে ৩ ওভার বাকি থাকতেই ২৪০ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৩টি উইকেট শিকার করেছেন লাসিথ মালিঙ্গা। ২টি করে উইকেট দিলশান ও লাকমলের।

ব্যাট হাতে ১৬১ রান ও বল হাতে দুটি উইকেট নেওয়ার সুবাদে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিলকরত্নে দিলশান।

 

স্কোর-

টসঃ শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কাঃ ৩৩২/১ (৫০ ওভার)

দিলশান ১৬১*, সাঙ্গাকারা ১০৫*, থিরিমান্নে ৫২

রুবেল ৬২/১

বাংলাদেশঃ ২৪০/১০ (৪৭ ওভার)

সাব্বির ৫৩, সাকিব ৪৬

মালিঙ্গা ৩৫/৩, লাকমল ৪৯/২, দিলশান ৩৫/২

 

বাংলাদেশ একাদশ-

মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, এনামুল হক, সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ-

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), তিলকরত্নে দিলশান, লাহিরু থিরিমান্নে, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, দিমুথ করুনারত্নে, দীনেশ চান্দিমাল, থিসারা পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ, সুরাঙ্গা লাকমল, লাসিথ মালিঙ্গা।