Scores

টাইম আউটের পহেলা বলি কে, কবে?

আউট মানেই বেদনার, স্বপ্নভঙ্গের একরাশ যন্ত্রণা আর সে যদি কোন ব্যাটসম্যান উইকেটে এসে কোন বল মোকাবিলা না করেই আম্পায়ার কর্তৃক আউটের সংকেত দেখেন তাহলে তো প্রহসনের ষোলকলা দেখা হয়ে যায় সেই অভাগার। ক্রিকেট ইতিহাস বলে হাতে গোনা এমন কয়েকজন আছেন যারা এই কষ্টদায়ক ‘টাইম আউট’ নামক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। তবে, সর্বপ্রথম কে এই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন সেকথায় আজ জানাবো পাঠকদের।

টাইম আউটের পহেলা বলি কে, কবে?

 

Also Read - ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আম্পায়ারদের '৫' ভুল, টুইটারে নিন্দার ঝড়


বিগত ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ভারতীয় ক্রিকেটার হিমুলাল যাদব প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে টাইম আউটের বলি হয়ে শিরোনামে আসেন। বাউন্ডারি লাইনের ওপারে থেকেও ইচ্ছাকৃত ভাবেই তিনিই মাঠে প্রবেশ করেননি বলে জানা যায়, তবে এমন হটকারিতার অন্তরায় কি উদ্দেশ্য ছিলো তাও আজো অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে বটে! এমন বিচিত্রধর্মী আউটের নিকট নিজের উইকেট হারানোটাই বাস্তবিক অর্থেই পীড়াদায়ক।

তবে, পোর্ট এলিজাবেথে অ্যান্ড্রু জর্ডানের আউটটা দৃষ্টিকটু হয়ে রয়েছে ইতিহাসের আঙিনায়। জলাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করেই পায়ে হেটে রওনা দিয়েছিলেন মাঠের উদ্দেশ্যে, কিন্তু বিধিবাম! সঠিক সময়ে উইকেটে নামতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে হারতে হয় ‘টাইম আউট’ নামক নিয়তির গুগলির কাছে। এরই মাঝে অনেকের মনের ঈষান কোণে হয়তো দানাবেঁধেছে একখানা প্রশ্ন, মাঠে পৌঁছানোর মাধ্যম হাঁটাপথে কেন? জলের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবই বোধকরি ছিলো এই বিপত্তির অন্তরায়।

হ্যারল হেগেট অবশ্য পণ করেছিলেন স্বহস্তে ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের। ক্যারিয়ারের পরিধিটা লম্বা করতে পারেননি শরীরে জেকে বসা গাটের ব্যথার দরুন। ১৯১৯ সালে টনটনে সাসেক্স বনাম সামারসেটের ম্যাচটাকেই তার এই ক্ষেপাটে কীর্তির জন্য বেছে নিয়েছিলেন হেগেট। ম্যাচের অন্তীম ইনিংসে সেচ্ছায় ব্যাটিংয়ে নামতে অসঙ্গতি জানান তিনি। ফলশ্রুতিতে বাধ্যতামূলক তাকে ‘এ্যাবসেন্ট হার্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮০ সাল অব্দি ‘টাইম আউট’ এর কোন কড়া নিয়ম চালু ছিলো না ক্রিকেটীয় সংবিধানে, সর্বোপরি এমনধারা আউট বিবেচ্য বিষয় হিসেবেও ছিলো না ক্রিকেট ব্যাকরণে। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে জর্ডানের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংশোধন আসে নিয়মের প্যাটার্নে।

আমাদের আজকের সব জল্পনার পটভূমি কিন্তু হেগেটের এই উড়নচণ্ডী মূলক কর্মের ঠিক ৮ বছর পূর্বের অর্থাৎ ২৫ আগষ্ট, ১৯১১ সালে ঘটা ঘটনা কেন্দ্রিক। নিজেদের মাঠ হোভে সারেকে আতিথ্য দেয় সাসেক্স। একপেশে ম্যাচে ঘরের ছেলেরা প্রথম ভাগে গুটিয়ে যায় ১৪৮ রানেই। সারে দলপতি মরিস বার্ডের উইলো থেকে আসে ১৫১ রান, যার মধ্যে ১০০ রানই ছিলো চার-ছক্কার বদৌলতে। ১৬৫ মিনিট ক্রিজে থেকে দল তথা সকল দর্শকদের উপহার দেন প্রকৃত টেস্ট  ধাঁচের মন জুড়োনো এক ম্যারাথন ইনিংস। পাশাপাশি জ্যাক হোবসের ৭০, অ্যান্ডি ডাকেটের ৬৩ রানে ২৪৭ রানের লিড পায় বার্ড বিগ্রেড।
দ্বিতীয় ইনিংসেও একই প্রতিচ্ছবি সাসেক্স শিবিরে, খই-মুড়ির মতো উইকেট বিলিয়ে দেয় স্বাগতিক ব্যাটসম্যানেরা। এক পর্যায়ে ৮ উইকেট খুইয়ে বসা সাসেক্সের ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন হয় ১৩ রানের। বল এবং ব্যাট হাতে পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ সাসেক্স নিজেদের কারিশ্মা দেখায় এবারে, নবম উইকেটে জর্জ লিচ এবং নর্মান হোলওয়ে মিলে যোগ করেন ১০৩ রান। ইনিংস হার পাশ কাটালেও ৮ উইকেটের বিশাল পরাজয় সঙ্গী হয় সাসেক্সের।

আর পাঠকদের অপেক্ষার পরীক্ষা নিবো না, এবারে জানান দিবো সেই আলোচিত ঘটনার। ব্যাটসম্যানদের উইলোবাজির সৌজন্যে মসৃণতার সাথেই এগোচ্ছিলো সারের প্রথম ইনিংসের রানের চাকা। পথিমধ্যে অকেশনাল অফ স্পিনার ভ্যালেন্স জ্যাপের অকস্মাৎ আক্রমণে খেয় হারিয়ে ৩২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সারে। দ্রুতই ৩ উইকেট তুলে নেন জ্যাপ।

ষষ্ঠ উইকেটে নামেন সেদিনের সেই নাটকের জন্মদাতা রজার্স স্মিথ। অজ্ঞাত কোন কারণে মিনিট চারেক বিলম্ব হয় তার মাঠে প্রবেশ করতে, বাউন্ডারি সীমানা অতিক্রম করে উইকেটে আসার প্রাক্কালে ম্যাচে কর্তব্যরত আম্পায়ারদ্বয়কে অনুযোগ করেন সাসেক্স সেনাপ্রধান হার্বাট চ্যাপলিন। উদ্বিগ্নচিত্তে আলোচনারত দুই আম্পায়ার, ক্রিকেট সংবিধানের ৪৫ তম ধারা অনুযায়ী একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে পরবর্তী ব্যাটসম্যানের হাতে দুই মিনিট সময় থাকে মাঠে প্রবেশের।

সেখানে আরো লেখা আছে ইনিংস বিরতির ব্যবধান দশ মিনিট। উল্লেখিত সময় অতিক্রমণের পরে ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী দুই আম্পায়ার খেলা আরম্ভের নির্দেশ দিবেন, যে দল সময়মত উপস্থিত থাকবে না তার প্রতিপক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। কিন্তু স্মিথ তো চার মিনিট লেট, তাহলে উপায়? তাকে কি আউট ঘোষণা করা হবে, নাকি আপাত বিশ্রাম নিতে বাধ্য করা হবে? বিবেক বিবেচনা বিচারে রায় গেল স্মিথের পক্ষে, আম্পায়ারদ্বয় যতক্ষণে দিলেন সবুজ সংকেত স্মিথ ততক্ষণে হাটা ধরেছেন প্যাভিলিয়নের পথে কিন্তু নাটকের যে মোটে এক খন্ড মঞ্চস্থ হয়েছে, বাকি আরেক খন্ড যে আরো জমকালো রাগ-অভিমানে ভরপুর।

চ্যাপলিনের পিছু ডাকে সাড়া দিয়ে স্মিথ মাঠে ফিরলেন ঠিকই কিন্তু আত্নসম্মানের জায়গায় রইলেন‌ পরিষ্কার। আগে তিনি উইকেটে থাকা কাপ্তান বার্ডের সাথে সলা করলেন তারপরে তার পরামর্শে ব্যাটিং স্ট্যান্সে দাঁড়ালেন, তবে নামের প্রতি সুবিচারে ব্যর্থ হয়ে জ্যাপের শিকার হয়ে ফিরলেন মাত্র ১ রানেই। কার্যত সেইদিন কি চ্যাপলিন নিছক মজার ছলে এমনটা করেছিলেন নাকি সবই ছিলো লড়াইয়ের অংশ বিশেষ? এই প্রশ্নের উওর হয়তো স্বয়ং একমাত্র তারই জানা। তবে তিনি যদি সেদিন উচ্চবাচ্য করতেন আর তার আবেদনে আম্পায়ারদ্বয় সাড়া দিতেন তাহলে সেটা কি ধরনের আউট হতো? আপাদ দৃষ্টিতে দেখতে গেলে এটিই হয়তো সেদিনের সেই নাটকের অজানা ক্লাইম্যাক্স হিসেবে রয়ে গেলো!

লেখক : বিপ্রতীপ দাস

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে, বাড়ল অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা

আইপিএলের জন্য সিরিজ পেছাল ইংল্যান্ডও

আবারো সন্ত্রাসী হামলার শিকার পাকিস্তানের ক্রিকেট

শীঘ্রই দেশে ফিরছেন সাকিব

১১ নং ব্যাটসম্যানের নির্ভয় ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষেরও করতালি