Scores

টিকেটের জন্য হাহাকার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও

সচরাচর বাংলাদেশের খেলায় টিকেট পাওয়া যায় না। এবার একে তো এশিয়া কাপ টি-টিয়েন্টি ফরমেটে তার উপর বাংলাদেশ খেলছে ফাইনালে। ৬ তারিখ ফাইনালের জন্য টিকেটের জন্য যে হাহাকার শুরু হইছে, এমনটা আগে কখনোও দেখা যায় নি। মিরপুরের মাঠে ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার দর্শকের কিন্তু চাহিদা যেন তার থেকে কয়েক শো গুন বেশি। সব জায়গায় শুধু টিকেট চাই!
photo_1293960484849-1-0
অবাক হলেও সত্যি টিকিটের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। সাধারণত দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা টুর্ণামেন্ট হলে প্রতি ম্যাচেই চার-পাঁচটি করে সৌজন্য টিকিট পেয়ে থাকেন খেলোয়াড়েরা। এর বাইরেও প্রয়োজনে বিসিবির কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টিকিট কিনে নিতে পারেন তাঁরা। মুশফিকুর রহিম যেমন প্রতি ম্যাচেই ২৫-৩০টি টিকিট আলাদা করে বিসিবে থেকে কিনে থাকেন। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সবারই টিকেট যেমন চাই, পাশাপাশি প্রয়োজনটা একটু বেশিই। যেমন ফাইনালের জন্য মুশফিকুর রহিমের আরও বেশি টিকিটের চাহিদায় এখন টিকেট না পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় এই ব্যাটসম্যান, ‘ফাইনালে আমার অন্তত ৫০-৬০টি টিকিট দরকার। সে রকমই চেয়েছি। কিন্তু যে অবস্থা, পাব বলে মনে হয় না!’

Mushfiqur-Rahim
অন্যদিক মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইল থেকে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন না এলে বাড়তি টিকিট কিনেন না। কিন্তু তার দল খেলছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। তাই এবার আত্মীয় স্বজনের টিকেটের চাহিদায় মাশরাফিও আলাদা করে টিকেট চেয়েছেন বিসিবি থেকে, এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘কালকের ম্যাচের জন্য ২০-২৫টি টিকিট দরকার, ফাইনাল বলে একটু বেশি টিকিট চেয়েছি। কিন্তু পাব কি না কে জানে! কোথাও নাকি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।’

Mashrafe-Mortaza-of-Bangladesh-speaks-at-a-press-conference
দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের মাধ্যমেখেলোয়াড়দের টিকিটের চাহিদা বা প্রয়োজন বিসিবির কাছে যায় । কিন্তু তিনিও এবার কোনো আশা দিতে পারছেন না। টিকেটের চাহিদায় তিনি বলেন ‘আগের সব ম্যাচেই খেলোয়াড়দের চাহিদা অনুযায়ী টিকিট দিতে পেরেছি। কিন্তু ফাইনালের জন্য ওরা মোট ১ হাজার ৪০০ টিকিট চেয়েছে। এত টিকিট আমি কোথায় পাব?’

Also Read - শূন্য থেকে শুরু করতে চান তামিম


এমনকি একই অবস্থা চলছে বিসিবির পরিচালকদেরও। তারাও এখন পাচ্ছেন না কাঙ্খিত টিকেট। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে নাকি বিসিবির এক পরিচালক ১০০টি টিকিট চেয়ে মাত্র ৩০টি টিকিট কিনতে পেরেছিলেন। ফাইনালের জন্য চাহিদা তো আরো বেশি, তাই চাহিদার কথা বললেও কাল রাত পর্যন্ত সংশয়ে ছিলেন আদৌ টিকিট পাবেন কি না! টিকেট চাচ্ছেন পরিচিতরা, আত্মীয় স্বজনরা। যেহেতু বিসিবিতে তাদের চাকরী তাই আলাদা আশা নিয়েই টিকেট চাইছে। কিন্তু তা পূরণ করতে না পারায় একটু বিব্রতকর অবস্থাতেই আছেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

12769385_10205468452421655_651180260_n
বাংলাদেশের ক্রিকেটের চাহিদার তুলনায় ২৫ হাজার টিকেটে কখনোই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। ২০১১ এর বিশ্বকাপের সময় থেকে বাংলাদেশে এই হাহাকার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যদিও কারণটা এর আগে বিসিবির কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন। মোট টিকিটের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘সৌজন্য টিকিট’ হিসেবে চলে যায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার ‘সেবা’য়। কিন্তু এবার সংখ্যাটা দ্বিগুণের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বোর্ড সূত্র। ফলাফল ফাইনালের টিকিট সে কারণেই চলে গেছে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে।

তারপরেও টিকেট না পেলেও সবাই বসে যাবে টিভির পর্দায়। বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে সবাই কতোটা উদগ্রীব তারই প্রমাণ এই টিকেট শূন্যতা।

আরএনএ রাকিব, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম.

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ