Scores

টি-টোয়েন্টিতে বছরজুড়ে উত্থান-পতন

ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ টি-২০ পছন্দ করে ঘন ঘন রং বদলাতে। যেকোনো সময় ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ২০১৮ সালে  বাংলাদেশের টি-২০ পারফরম্যান্সেও ছিল নানান রং। ছিল হতাশা-বেদনার নীল, ছিল সাফল্যের আবির। কখনো চড়াই, কখনো উৎরাই। এরকম উত্থান-পতন ছিল বছরজুড়ে।

বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে অভিষেক হয়েছিল ছয় জনের। দুই ম্যাচের সিরিজে কোনোটিতেই পাত্তা পায়নি স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৫ রান করেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে ১৯৪ রানের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা টপকায় ৬ উইকেট আর ২০ বল হাতে রেখে।

টি-টোয়েন্টিতে বছরজুড়ে উত্থান-পতন

Also Read - নাঈমের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে পূর্বাঞ্চলের বিশাল জয়


মার্চে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে আয়োজিত নিদাহাস ট্রফিতে দেখা যায় বাংলাদেশের ভিন্ন রূপ। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-২০ তে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন মুশফিকুর রহিম।

এরপর ফের ভারতের কাছে ১৭ রানে হার। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে ছুঁড়ে দেয় ১৬০ রানের লক্ষ্য। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে নায়ক হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অনবদ্য ১৮ বলে ৪৩ রানের বীরত্বগাঁথা ইনিংস দলকে নিয়ে যায় ফাইনালে।

টি-টোয়েন্টিতে বছরজুড়ে উত্থান-পতন

ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ১৬৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে ভারতকে চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। দোদুল্যমান সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ডোবান ভারতের দীনেশ কার্তিক। ১২ বলে ৩৪ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। রুবেল হোসেনের করা ওভারে দুই ছক্কা আর দুই চার মারেন দীনেশ কার্তিক, রান হয় ২২। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৫ রান। সৌম্য সরকারের করা বলকে উড়িয়ে দীনেশ বাউন্ডারির বাইরে ফেললে ম্যাচ জিতে যায় ভারত। তার ৮ বলের ইনিংসে পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।

এরপর জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেই সিরিজটা হয়তো ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ। সিরিজ জয় যেখানে ছিল প্রত্যাশিত, সেখানে ফিরতে হয় খালি হাতে। বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করে রশিদ খানের আফগানিস্তান। প্রথম দুই টি-২০ তে নূন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। হারে যথাক্রমে ৪৫ রানে ও ৬ উইকেটে। শেষ বলে গড়ানো তৃতীয় ম্যাচে হেরে যায় ১ রানে।

টি-টোয়েন্টিতে বছরজুড়ে উত্থান-পতন
ছবি : এএফপি

 

উইন্ডিজ সফরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে উইন্ডিজরা হারায় ৭ উইকেটে। পরের দুই ম্যাচ হয় যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন মুলুকে প্রথমবার খেলতে নামার স্মৃতিটা সুখকর করে রাখতে সক্ষম হয় সাকিবরা। ১২ রানে দ্বিতীয় ম্যাচ ও ১৯ রানে তৃতীয় ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় সিরিজ।

সেই প্রতিশোধ যেন উইন্ডিজরা নিয়েছে বাংলাদেশ এসে। বিদেশ বিভুঁইয়ে সিরিজ জিতে আসা বাংলাদেশ ঘরের মাঠে সিরিজ হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের কাছে উড়েই যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেয়া ১৩০ রানের লক্ষ্য উইন্ডিজরা স্পর্শ করে ৬৫ বলে। পরের ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের নৈপুণ্যে ২১১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে উইন্ডিজ অলআউট হয় ১৭৫ রানে। ঐ ম্যাচে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক টি-২০ তে ব্যাট হাতে ৪০ বা তার বেশি রান এবং বল হাতে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন অলআউন্ডার সাকিব আল হাসান। পরের ম্যাচে উইন্ডিজের ১৯০ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৪০ রান করে। আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে বিতর্কিত ছিল ম্যাচটি।

২০১৮ সালে সর্বমোট ১৬ টি-২০ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জিতেছে পাঁচ ম্যাচে। হেরেছে বাকিগুলোতে। সাফল্যের হার ৩১.২৫ শতাংশ। সুখস্মৃতির ভাণ্ডার সমৃদ্ধের সুযোগ থাকলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। কিছু ম্যাচে জয়ের পথে থেকেও শেষে খুঁজে পায়নি দিশা। সামনের বছরে ভুলভ্রান্তি শুধরে টি-২০ তেও শক্ত ভিত গড়ার পালা।


আরো পড়ুন ঃ নিন্দুকদের পাত্তাই দিচ্ছেন না কোহলি!


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

টি-২০ সিরিজও দক্ষিণ আফ্রিকার

টি-২০ মর্যাদা পাচ্ছে সব সদস্য দেশ

টি-২০ কম বলেই বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত

টি-২০ সিরিজেও ধুঁকছে শ্রীলঙ্কা

নিজেকে টি-টোয়েন্টির স্রষ্টা দাবি গেইলের!