টেস্ট ক্রিকেটে স্বাগতম আয়ারল্যান্ড…

0
2385

টেস্ট ক্রিকেটে স্বাগতম আয়ারল্যান্ড...

উনিশ শতকে আয়ারল্যান্ডের কিকেনি ও ব্যালিনাস্লোতে ক্রিকেটের খেলাটি প্রচার করা হয়। এই শতকে বেশ কিছু ক্লাব গড়ে ওঠে। ১৮৫৫ সালে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রথম জাতীয় দল মুখোমুখি হয় দি জেন্টেলমেন অব ইংল্যান্ডের। ১৮৫৮ সালে মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে লড়ে আয়ারল্যান্ড। ১৮৮০ এর দিকে ক্রিকেট খেলাটি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে সে দেশে। ১৯০২ সালে প্রথমবার প্রথম-শ্রেণীর স্বীকৃতি নিয়ে লন্ডনের একটি কাউন্টির সাথে খেলে আয়ারল্যান্ড।

Advertisment

১৮৯৪ সালে সাউথ আফ্রিকানসদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে আইরিশরা, যেটাতে তারা হেরে যায়। ১৯০৪ সফরকারী এক দক্ষিণ আফ্রিকান দলকে হারায় তারা। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডাবলিনে একটি তিনদিনের ম্যাচে ৬০ রানে হারায় আয়ারল্যান্ড। ১৯৬৯ সালে এক ক্যারিবীয় দলকে মাত্র ২৫ রানে অলআউট করে ৯ উইকেটের জয় পায় আইরিশরা। সে দলে ছিলেন ক্লাইভ লয়েড-ক্লাইড ওয়ালকটরা।

১৯৯৩ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্যের স্বীকৃতি পায় আয়ারল্যান্ড। কাউন্টিতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এ দলের হয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন হ্যান্সি ক্রনিয়ে (১৯৯৭), জেসি রাইডাররা (২০০৭)।

২০০৪ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ চালু হলে নিয়মিত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় আয়ারল্যান্ড। ২০০৫ সালে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জিতে তারা এবং ওয়ানডে স্ট্যাটাসও লাভ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে এসেই বড় রকমের চমক দেখিয়ে বসে আয়ারল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে রীতিমতো ক্রিকেটবিশ্বকে অবাক করে দেয়। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টাই হয়। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে এসেই সুপার এইটের টিকিট পায় আইরিশরা। সেখানে বাংলাদেশকেও হারিয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ওঠে আয়ারল্যান্ড।

দুই বছর পর ইংল্যান্ডে ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নেয়। ২০১০ সালে ঘরের মাঠে এই বাংলাদেশের সাথেই ১-১ এ ওয়ানডে সিরিজ ড্র করে। ২০১১ বিশ্বকাপও নিশ্চিত হয় তাদের। ব্যাঙ্গালুরু চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামে ফুল ব্রিটিশ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় হাফ-ব্রিটিশ আয়ারল্যান্ড। ৩২৮ রানের টার্গেটে ৫০ বলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন কেভিন ও’ব্রায়েন। তবে সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা হয়নি তাদের।

প্রায় সব আইসিসি ইভেন্টেই দেখা পড়ে আয়ারল্যান্ডের উপস্থিতি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পায় উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের আয়ারল্যান্ড। দুই ম্যাচেই ৩০০+ স্কোর করে আয়ারল্যান্ড। তবে সেবারও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা হয় নি।

ওয়ানডে ক্রিকেট ও টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ১২৩ ওয়ানডেতে জয় ৫১ টিতে, টাই ৩। এর মধ্যে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর সাথে জয় ৮ টি ম্যাচে। ৬১ আন্তর্জাতিক টি২০তে জয় ২৬ টি ম্যাচে। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর সাথে জিতেছে ৩ টি ম্যাচে। ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত তারা।

আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে সর্বোচ্চ ৪ টি শিরোপা জিতেছে আয়ারল্যান্ড। সহযোগী দেশ হিসেবে এতো সাফল্য পাওয়া আয়ারল্যান্ড ২১ জুন ২০১৭ সালে লন্ডনের আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে আফগানিস্তানের সাথে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে আয়ারল্যান্ড। তাদের লক্ষ্য ছিলো ২০২০ সালের মধ্যে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া। সেটা ২০১৯ বিশ্বকাপের আগেই পেয়ে গেলো তারা।

এই টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন নিঃসন্দেহে আইরিশ ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অর্জন। অনেক অনেক অভিনন্দন আয়ারল্যান্ড! সাদা পোশাকে ঐতিহাসিক মূহুর্তগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম হবে প্রথম টেস্ট। সামনে মনে রাখার মতো আরো অনেক মূহুর্ত হবে।

-রাফিন, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম