Scores

ডিপিএল বন্ধ হওয়ায় শঙ্কায় কোচ-ক্রিকেটাররা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্থবির গোটা পৃথিবী। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও। দুনিয়াজুড়ে চলমান সকল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মতই বন্ধ হয়ে আছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। এই টুর্নামেন্ট খেলেই গোটা বছরের সংসার খরচ জোগান বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার। শেষপর্যন্ত কী লেখা আছে সেই ক্রিকেটারদের ভাগ্যে? চলতি বছর আবার মাঠে গড়াবে তো স্থগিত হয়ে থাকা ডিপিএলের চলমান আসর! এমন শঙ্কা নিয়ে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কোচরাও।

পুরো বিশ্বকেই যেন গ্রাস করে নিয়েছে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ এর জেরে থমকে গেছে সবকিছু। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে মরনঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৫০। আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজারের উপরে।

Also Read - পিএসএলের বাকি অংশ ৮ মাস পর


এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ বিশ্বের বড় বড় সব ইভেন্ট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। উপায় না পেয়ে একই পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে ডিপিএলের চলমান আসর।

বেশ ঘটা করে মাঠে গড়ানো এ টুর্নামেন্টে ১ রাউন্ডের খেলা হলেও পরবর্তী রাউন্ড আবার ঠিক কবে শুরু হবে তা নিয়ে আছে সংশয়। আদৌ চলতি বছর বা অন্তত আসন্ন রোজার ঈদের আগে ডিপিএল মাঠে ফিরবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে খোদ অংশগ্রহণকারী দলগুলো। কারণ মাস তিনেক পরই যে নির্ধারণ করা আছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সূচি।

এ প্রসঙ্গে ডিপিএলের দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হেড কোচ ও বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ বিডিক্রিকটাইমকে বলেন, ‘আপাতত কোনো সম্ভবনা দেখছি না। কারণ দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। পরিস্থিতি যা দেখছি তাতে আমার মনে হয় না এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে।’

‘লিগ মাঠে গড়াবে কিনা এ বিষয়ে এখনো তেমন কোনো আভাস পাইনি। আমার মনে হয় যে পরিস্থিতি সবাই জানেন দেশের কী অবস্থা। আমরা বাসার বাইরে বের হচ্ছি না, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও সেভাবে বের হচ্ছি না, সেখানে খেলার চিন্তা আপাতত মাথায় আনাটাও দূরের বিষয়।’- যোগ করেন তিনি।

একই ভাবনা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সহকারী কোচ রাজিন সালেহেরও, ‘এমুহূর্তে আসলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আমার মনে হয় ঈদের আগে আর শুরু হবে না। আমার মনে হচ্ছে ডিপিএল এক বছর শেষ হয়ে যাবে, মানে চলতি মৌসুমের খেলা আগামী বছর মাঠে গড়াবে।’

যদি এমনটা হয় তাহলে ডিপিএল নিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় শঙ্কা। একই সাথে সুপার লিগের দলগুলো নিয়ে এবার দ্বিতীয়বারের মত শুরু হবার কথা ছিল ডিপিএলের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ। সেই টুর্নামেন্টের ভাগ্যে শেষপর্যন্ত কী লেখা থাকবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ দলের সাবেক এ ক্রিকেটার বলেন, ‘টি-টোয়েন্টির যে ব্যাপারটা সেটার ভবিষ্যৎ আমি দেখছি জিরো। কারণ দেশের পরিস্থিতি কবে ভালো হবে আর কবে খেলা মাঠে গড়াবে সেটা আমরা কেউই জানি না। সব মিলিয়ে আসলে বলা মুশকিল টি-টোয়েন্টির ব্যাপারটা। এমন পরিস্থিতিতে আমি মনে করি টি-টোয়েন্টির থেকে পঞ্চাশ ওভারের ডিপিএল হওয়াটা খুব জরুরি।’

‘যেহেতু ডিপিএল শুরু হয়ে গেছে তো আমি অনে করি- বোর্ড অবশ্যই এটা শেষ করতে চাইবে। শেষপর্যন্ত দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো হলে কিছু খেলা কমিয়ে দিয়ে হলেও ডিপিএল চালানো উচিৎ। যদি সুপার লিগ না হয়, যদি সিঙ্গেল লিগও হয় তাহলে আমার মনে হয় টুর্নামেন্টটা তাড়াতাড়ি শেষ করা যাবে।’ সাথে আরও জানান তিনি।

এদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্ট ঘিরে জড়িয়ে আছে অধিকাংশ ক্রিকেটারের স্বার্থ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সারাবছর তাকিয়ে থাকেন ডিপিএলের দিকে। ডিপিএলের এক মৌসুম খেলে যে টাকা পান, সে টাকা দিয়েই গোটা বছর সংসার চলে অনেকের। শেষপর্যন্ত কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে এবারের ডিপিএল যদি আর আলোর মুখ না দেখে, তাহলে কি করবেন সেই ক্রিকেটাররা?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার জানান, ‘যদি ডিপিএল শেষপর্যন্ত না হয় তাহলে ম্যানেজমেন্টের সাথে বসতে হবে। তারা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেটার অপেক্ষায় থাকতে হবে। আমরা তো যতটুকু পারবো টাকার বিষয়ে কথা বলবো। শেষপর্যন্ত যদি না দিতে চায় তাহলে আসলে কিছু করারও থাকে না।’

‘যদি মানবিক দিক বিবেচনায় এনে আমাদেরকে অর্ধেক টাকা বা এমন কিছু দেয় তাহলে তো আমরা মোটামুটি চলতে পারবো। এখন যদি অর্ধেক টাকাও না আসে তাহলে পুরো বছরটা চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।’ সাথে যোগ করেন তিনি।

লিগ না হলে টাকা না পেলে কিভাবে চলবেন বছরের বাকিটা সময়, সে নিয়েও আছে সংশয়। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ভাবছে বর্তমানে নিজে নিরাপদে থাকা মানে সবকিছু ঠিক। তারা বলতেছে খেলা না হোক কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু তারা তো ভাবতেছে না যে, যারা শুধু ডিপিএল খেলেই সংসার চালায় বা মধ্যবিত্ত আছে তাদেরই বা কী হবে!’

একই ইস্যুতে রাজিন সালেহ বলেন, ‘খেলা যদি না হয়, টাকা না আসে তাহলে আসলে সবার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। খেলোয়াড়দের পরিবার চলে এখান থেকেই। ডিপিএলের উপর নির্ভর করে এখনো আমার সংসার চলে। এ টুর্নামেন্টের জন্যই সারাবছর বসে থাকি। এখন প্রিমিয়ার লিগটা হলে আমার পরিবারটা ভালোভাবে চলবে। এখন যদি আর না হয় তাহলে জানি না আসলে কি হবে!’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

বাংলা টাইগার্সের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা জানালেন আফতাব-নাফিসরা

আত্মসম্মানের কথা ভেবেই অবসর নেন আফতাব

আইসিএল খেলতে যাওয়ার কারণ জানালেন আফতাব

ইতিহাস গড়ার দিনে নিজেই অবাক হয়েছিলেন আফতাব

ক্রিকেটার হবার ইচ্ছা ছিল না আফতাবের