ডি কককে নয়, নিজেকেই দুষছেন ফখর

আরেকটু হলেই দ্বিশতকের দেখা পেয়ে যেতেন। অবিস্মরণীয় ইনিংসে দলকে জেতাতে পারেননি, তবে দ্বিশতক পেলে নিশ্চয়ই আরও একটু তাৎপর্যপূর্ণ হত ইনিংসটা। অবশ্য ফখর জামানকে ৭ রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে কুইন্টন ডি ককের অভিনয়ের সহায়তায় করা বিতর্কিত রান আউটে।

ডি কককে নয়, নিজেকেই দুষছেন ফখর
ডি কক প্রতারণা করেছিলেন কি না, উঠছে প্রশ্ন।

রবিবার (৪ এপ্রিল) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ খেলতে থাকা ফখর জামানকে ফেক ফিল্ডিংয়ের সহায়তা নিয়ে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের অন্যরা ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ফখর একাই লড়ছিলেন প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। ১৫৫ বলে ১৯৩ রান করেছিলেন ১৮টি চার ও ১০টি ছক্কার সাহায্যে। শেষ ওভারে জয় থেকে দূরে সরে গেলেও দ্বিশতকের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু ডি কক ফেক ফিল্ডিং করলে তার সহায়তায় অ্যাইডেন মারক্রাম রান আউট করে সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন।

Advertisment

লুঙ্গি এনগিডির বল লং অফে ঠেলে দুই রানের জন্য দৌড়াচ্ছিলেন স্ট্রাইকে থাকা ফখর। এমন সময় ডি কক বোলারের দিকে এমন ইঙ্গিত করে, যাতে মনে হয় বল বোলারের দিকে যাচ্ছে। অথচ মারক্রাম বল ছুঁড়ছিলেন ডি ককের দিকে থাকা স্ট্যাম্পে। দ্বিধাগ্রস্ত ফখর দৌড়ের গতি কমিয়ে পেছনে তাকাতেই মারক্রাম সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেন।

ম্যাচ শেষে প্রশ্ন জোরালো হয়- ডি ককের এই আচরণ খেলোয়াড়সুলভ ছিল কি না। ফেক ফিল্ডিংয়ের জন্য আছে ৫ রান শাস্তির বিধানও। সাথে দৌড়ে নেওয়া ২ রান পেত পাকিস্তান, আর ব্যাটসম্যানরা বেছে নিতে পারতেন পরের বলে কে যাবেন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। কিন্তু ডি ককের কাণ্ডে মাঠে কোনো ব্যবস্থা নেননি আম্পায়াররা।

ম্যাচ শেষে অবশ্য ফখর জানান, তার আউটে ডি ককের কোনো ‘প্রতারণা’ নেই, বরং ফখর নিজেকেই দাঁড় করছেন কাঠগড়ায়। তিনি বলেন, ‘দোষ আমারই। অপর প্রান্তে হারিস রউফ আউট হয়ে গেল কি না এটা দেখায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল সে একটু পিছিয়ে ছিল দৌড়ে। ভাবছিলাম বিপদে পড়ল কি না। বাকিটা ম্যাচ রেফারির হাতে। তবে আমি মনে করি না এখানে ডি ককের দোষ আছে।’

ক্রিকেটের আইন প্রণেতা হিসেবে পরিচিত এমসিসিও অবশ্য বল ঠেলছে আম্পায়ারদের কোর্টে। এমসিসির মতে, ডি ককের এই আচরণ ফেক ফিল্ডিংয়ের আওতায় পড়ে কি না তা নির্ধারণ করতে হবে ম্যাচ অফিসিয়ালদেরই।