তবুও শিরোপার দাবিদার ভারত

ভারতীয় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের নাম নিঃসন্দেহে বিরাট কোহলি। দলের অধিনায়ক তিনি। দলের অপরিহার্য ব্যাটসম্যান। তাকে বিশ্রামে রেখেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আসন্ন এশিয়া কাপে নামবে ভারত। দলে নেই আরো বেশ কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবু শিরোপার দাবিদার থাকবে ভারত।

যেকোনো টুর্নামেন্টেই ফেভারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নামে ভারত। এবারের এশিয়া কাপের স্কোয়াডে নেই নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, উমেশ যাদবরা। এমন বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়াই দল সাজিয়েছে ভারত। পূর্ণশক্তির ভারত না হলেও এ দলেরও রয়েছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামর্থ্য। জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও প্রত্যেকেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন আইপিএলসহ অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে।

Also Read - খুলনায় নয়, পাকিস্তান সিরিজের সবকয়টি ম্যাচ কক্সবাজারে

ব্যাটিংয়ে ভারতের টপ অর্ডার সামলাবেন রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান আর লোকেশ রাহুল। কোহলি-রাহানে না থাকায় নিয়মিত ওপেনিং জুটি রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ানের ওপর ভার যেন এবার একটু বেশিই। মিডল অর্ডারে থাকছেন আম্বাতি রাইদু, কেদার যাদব, মনিশ পান্ডে। মিডল অর্ডারে দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও। শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া আর দীনেশ কার্তিকের সামর্থ্য রয়েছেন দারুণ ফিনিশিংয়ের। তাই ভারতের ভাবনাটা যেন ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডার নিয়েই বেশি।

স্পিন আক্রমণে নেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবিন্দ্র জাদেজা। দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব ও যুযবেন্দ্র চাহাল নেতৃত্ব দিবেন স্পিন আক্রমণের। সাথে আছেন অক্ষর প্যাটেল।  পেস আক্রমণে রয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, শার্দুল ঠাকুর, হার্দিক পান্ডিয়া ও খলিল আহমেদ।

বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিবেন রোহিত শর্মা। তার নেতৃত্বে এ বছর নিদাহাস ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সাথে মহেন্দ্র সিং ধোনি তো আছেনই। অধিনায়ক না হলেও তিনি যে এক ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’।

ভারতের বোলিং আক্রমণে দুই স্পিনার যাদব-চাহাল আর দুই পেসার বুমরাহ-ভুবনেশ্বরকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের সঙ্গে বোলিংয়ে দেখা যাবে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকে। আছেন অকেশনাল স্পিনার কেদার যাদবও। দলের প্রয়োজনে তাকেও ব্যবহার করতে পারবেন রোহিত শর্মা।

দেশের বাইরে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন কুলদীপ যাদব। এ চায়নাম্যান বোলার ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচে নিয়েছেন নয় উইকেট। দক্ষিন আফ্রিকার সফরে ছয় ম্যাচে শিকার করেছেন ১৭ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দারুণ ছন্দে ছিলেন চাহালও। তিনি শিকার করেছিলেন ১৬ উইকেট। এ দুই স্পিনারকে তাই সতর্কতার সাথেই খেলতে হবে ব্যাটসম্যান। মাঝের ওভারগুলোতে বোলিংয়ে এসে রানের চাকা আটকে রাখার পাশাপাশি এ দুই স্পিনার গুঁড়িয়ে দিতে পারেন যেকোনো দলের মিডল অর্ডার।

পেস আক্রমণের দুই মূল বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ এবং ভুবনেশ্বর কুমার। স্কোয়াডের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বেশিভ অভিজ্ঞ। তাই এদের ওপরেই ভরসা করবে ভারত। এছাড়া কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন হার্দিক পান্ডিয়াও।

১৮ সেপ্টেম্বর হং কংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে ভারত। ঐ ম্যাচে ভারতের সহজ ও বড় জয়ই প্রত্যাশিত। পরের দিনই চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে মোকাবেলা করবে ভারত। টানা দুই দিন ম্যাচ পড়ে যাওয়ায় বিসিসিআই সূচি পরিবর্তনের আবেদন করলেও তাতে কাজ হয়নি। তবে গ্রুপ পর্ব নিয়ে ভারতের তেমন দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে। সুপার ফোরে ভারতের জায়গা অনেকটাই নিশ্চিত।

এশিয়া কাপে ভারতের স্কোয়াডঃ রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান (সহ-অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, আম্বাতি রাইডু, মনিশ পান্ডে, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেট রক্ষক), দীনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদীপ যাদব, যুযবেন্দ্র চাহাল, অক্ষর প্যাটেল, ভুবেনশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ, শার্দুল ঠাকুর, খলিল আহমেদ।

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর সূচি-

১৫ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা – দুবাই
১৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তান বনাম হং কং – দুবাই
১৭ সেপ্টেম্বর – শ্রীলংকা বনাম আফগানিস্তান – আবুধাবি
১৮ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম হং কং  – দুবাই 
১৯ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম পাকিস্তান – দুবাই
২০ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, আবুধাবি

[আরও  পড়ুনঃ এশিয়া কাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী হাথুরুর]

Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’