তামিমকে তাঁদেরও স্যালুট

১৩ মার্চ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজ উদ্বোধনী ওয়ানডের পরপরই ঘটেছিল ‘ধারাবাহিকতার বিচ্ছেদ’। এই সিরিজের বাকি অংশের মত একে একে স্থগিতাদেশ পেতে থাকে সবগুলো সিরিজ-টুর্নামেন্ট। ১৫ এপ্রিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটেও স্থগিতাদেশ আসা শুরু হয়। করোনা মহামারী থমকে দেয় গোটা বিশ্বকেই। স্বভাবতই অচলাবস্থা দেখা দেয় ক্রিকেট অঙ্গনে। শুধু ক্রিকেট নিয়েই যেসব গণমাধ্যমের যাত্রা, মহামারীর এই ক্রিকেটহীনতায় কীভাবে চলছে তাদের কার্যক্রম?

তামিমকে তাঁদের স্যালুট

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ক্রিকেট বিষয়ক পোর্টাল ডেইলি ক্রিকেট একটি ফেসবুক লাইভের আয়োজন করে, যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ডেইলি ক্রিকেট এর সিইও রবিউল আলম, বিডিক্রিকটাইম এর সিইও মো. জাবেদ আলী শাওন, ক্রিকফ্রেঞ্জির সিইও কামাল হোসেন রনি এবং সমর্থকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) এর সভাপতি জুনায়েদ পাইকার।

Also Read - ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠক শেষে কোয়াবের ‘দুই’ আর্জি






ক্রিকেট বন্ধ হওয়ার পর অনলাইন ক্রিকেট পোর্টালের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে খবর সরবরাহ করা। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও এখনই ‘পুরোদমে ক্রিকেট ফিরেছে’ বলার সুযোগ নেই। করোনা প্রাদুর্ভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কমবেশি সব প্রতিষ্ঠানই। এতে আগ্রহ হারিয়েছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্রিকেট গণমাধ্যমের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে লাইভ ক্রিকেট শো, যার শুরু হয়েছিল জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাত ধরে।

দেশ-বিদেশের তারকাদের সাথে লাইভ শো আয়োজন করে তামিম মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা ক্রিকেট অঙ্গনকে। কোহলি-রোহিত-উইলিয়ামসন-মাশরাফিদের নিয়ে তার সেসব শো ছিল দর্শক-পাঠকদের বিনোদনের খোরাক। আর ক্রিকেট গণমাধ্যমের কাছে ‘মরুভূমির সুপেয় জল’। তামিমের লাইভ শো থেকে ধারণা নিয়েই পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিয়ে লাইভ শো শুরু হয়, যা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।






তামিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডেইলি ক্রিকেট এর সিইও রবিউল আলম বলেন, ‘তামিমকে ধন্যবাদ। তামিম লাইভ শো-গুলোকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছেন। তামিমের শো-গুলোর পেছনে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। ক্রিকেটাররা কোথাও কথা বললে সেটা আমাদের খাবারের মত। আমাদের কনটেন্ট তো আসে ক্রিকেটারদের কাছ থেকেই। তামিমের পরও যে ক্রিকেটাররা এসেছেন, কথা বলেছেন, আমাদের জন্য তা অনেক মূল্যবান ছিল।’ রবিউল আরও বলেন, ‘খেলা পুরোদমে শুরু হয়ে গেলে আমরা হয়ত আগের প্যাটার্নে চলে যাব।’

ক্রিকফ্রেঞ্জির সিইও কামাল হোসেন রনি জানান, কঠিন এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের কার্যক্রম সচল রেখেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘তামিম শুরু করার পর লাইভ একটা বিপ্লবের মত হয়ে গেল। তখন দেখলাম মানুষ খুব উপভোগ করছে। ক্রিকেটাররাও উপভোগ করা শুরু করল। আমাদের জন্যও এটা দারুণ যাত্রা ছিল। ক্রিকেটার, দর্শকরা ভালো সমর্থন দিয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে কাজ করা যায় এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সেটার উপর নির্ভর করে যা যা করা দরকার আমরা করবো। যতদিন বাংলাদেশে ক্রিকেট মাঠে ফিরবে না ততদিন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় থাকবেই, যেহেতু আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়েই কাজ করছি।’

তবে লাইভ শো-গুলোর প্রতিও দর্শক-পাঠকদের আগ্রহ কমেছে স্বভাবতই। ক্রীড়া সাংবাদিকদের তাই ভাবতে হচ্ছে নতুন কিছু নিয়ে। এতে চিন্তিত প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও। সমর্থকরাও ভাবছেন এ নিয়ে। তবে ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিবেদনে মুগ্ধ তারা। বিসিএসএর সভাপতি জুনায়েদ পাইকার বলেন, ‘স্টোরিও তো শেষ হয়ে যাচ্ছে! একজন খেলোয়াড় আর কত স্টোরি শোনাবে? গল্পেরও তো শেষ আছে! আর আমরা যারা কাজ করি বা যা কাজ করে, আমরা কিন্তু করোনা আসার পর আরও বেশি সময় দিচ্ছি। কারও নিবেদনের কমতি নেই- এটা অমূল্য। যারা কাজ করে তারাও বুঝতে পারছে এটা কঠিন সময়। হ্যাঁ এটা কঠিন সময়, তবে আমাদের টিকে থাকতে হবে যেকোনো মূল্যে।’

তামিমের লাইভ শো থেকেই প্রেরণা নিয়ে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের সাথে লাইভ আড্ডা শুরু করে বিডিক্রিকটাইম, যা ইতোমধ্যে অনলাইন ক্রিকেট অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। তবে করোনা মহামারীতে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বেশ লড়াই করতে হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ২০১১ সাল থেকে কাজ করা এই অনলাইন গণমাধ্যমকে।

বিডিক্রিকটাইম এর সিইও মো. জাবেদ আলী শাওন বলেন, ‘তামিম ইকবালকে স্যালুট। তামিমের শো-গুলোর জন্যই আমরা এখন পর্যন্ত টিকে আছি। অন্যান্য সব দেশের ক্রিকেটারদের থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অনেক সাপোর্টিভ। তাদের সবাইকেই ধন্যবাদ জানাই।’

ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যমের ধারণা অন্যান্য দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক আগেই। তবে চার প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাই জানালেন, বাংলাদেশি গণমাধ্যম হিসেবে এখনো কতটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। পাঠক-দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মহামারীর এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে নিত্যনতুন পরিকল্পনা করে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যমগুলো।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন