Score

তামিমনামা

লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প, বা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল এর কথা মনে আছে? বিলাস বহুল জীবনের সমস্ত উপকরণ থাকা স্বত্বেও দীপশিখা নিয়ে ছুটে চলে যেতেন যুদ্ধে সেনাদের শুশ্রুষা করতে। মানবতা আর দেশপ্রেমের এক বিরল নজীর ছিলেন তিনি।

 

তামিমের সাহসী সিদ্ধান্তে অবাক ম্যাথুজওমাত্র ২ ঘন্টা আগের কথা। ডাক্তার বললেন বাম হাতের কব্জিতে ফ্রাকচার ৬ সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে। কিন্তু চিত্রনাট্য বদলে গেল সেই ২ ঘন্টা পর। হাতে ব্যাথা ছিল তারপর ও নেমে গেলেন দেশের প্রয়োজনে। তামিম কে পেয়ে জ্বলে উঠলেন মুশফিক। পাজরের ব্যাথা সত্বেও তামিম কে পেয়ে হয়ে উঠলেন আর ও ভয়ংকর। মুশফিক আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত এলো আর ও ৩২ রান। কী রুপকথা ময় এক জুটি।

Also Read - ‘ডানহাতে হৃদয় জিতেছো’, তামিমকে মাশরাফি

সুরাঙ্গা লাকমলের বলে আঘাত পেয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন তখন নিশ্চয় জানতেন না কি হতে চলেছে ২ ঘন্টা পর। হাসপাতালে স্ক্যান করার পর ডাক্তার যখন বললেন ৬ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তখন তার মনের অবস্থা কি? কেউ আঁচ করতে পারেন?

কিন্তু তামিম তো তামিম ডেডিকেশন,দেশপ্রেম আর অন্তরের তাগিদ যেটা প্রত্যেকটা দেশপ্রেমী মানুষ অন্তরে লালন করেন সেই তাগিদ থেকেই সবাই কে অবাক করে দিয়ে নেমে গেলেন ভাঙা হাত নিয়ে! কি ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল এর সাথে তুলনা না মোটেই না। কিন্তু সেই তাগিদ, আর ভালোবাসাটা একই।

“ইউ ব্রোক ইউর লেফট হ্যান্ড বাট উইথ রাইট হ্যান্ড ইউ উইন মিলিয়ন্স অফ হার্ট”
“ক্রিকেট ইস জাস্ট এ গেম
সামটাইমস ইটস নট তামিম”

অধিনায়ক মাশরাফির এই উক্তি গুলো জানান দেয় ক্রিকেটের প্রতি কতটা গভীর ভালোবাসা তামিমের।

২০১৫ সালে কঠিন সময় পার করছিলেন তামিম। সবার চক্ষুশূল তিনি। খেলা পারেন না,ম্যাগী নুডুলস,চাচার জোরে দলে খেলেন না জানি আর ও কত তকমা ছিল তার নামের পাশে। সাময়িক কিছু ব্যর্থতার বলি হতে হচ্ছিল তাকে প্রতিনিয়তই।

কিন্তু সব ব্যর্থতায় দলের সবাই ছিলেন পাশে আর অনুপ্রেরণা আর ভালোবাসার পরশপাথর মাশরাফি ছিলেন একি সাথে নেতা,প্রেরনাদাতা বড় ভাই হিসেবে। তাইতো হোমারের ইলিয়াড আর অডিসির মতো মহাকাব্য রচনা করতে তার সময় লাগেনি বেশিদিন। ঘুরে দাড়িয়েছিলেন নিজের মতো করেই।

 

‘ডানহাতে হৃদয় জিতেছো’, তামিমকে মাশরাফি

অনিল কুম্বলের কথা মনে পড়ে? মারভিন ডিলনের বলে ভেঙে যায় চোয়াল কিন্তু ভাঙা চোয়াল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন ম্যাচ যদিও ড্র হয়েছিল কিন্তু কুম্বলের চেষ্টার কোন কমতি ছিলনা। ব্রায়ান লারাকে আউট করেছিলেন আর সাথে জিতে নিয়েছিলেন সবার হৃদয়।

অস্ট্রেলিয়া সাউথ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজে গ্রায়েম স্মিথ নেমেছিলেন ম্যাচ বাঁচাতে। যে মিচেল জনসনের বলে আঘাত পেয়েছিলেন তার বিধ্বংসী বলগুলো সামলে যাচ্ছিলেন অনেক ব্যাথা নিয়েই। হাতে ছিল ৯ ওভার কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি অল্পের জন্য তাতে কি স্মিথ চিরস্মরনীয় হয়ে গিয়েছিলেন তখনই।

“চাটগাঁইয়া পোয়া মেডিত পইরলে লুআ”(চট্টগ্রামেরআঞ্চলিক প্রবাদ)

প্রবাদের যথার্থতা তামিমের কাজেই প্রকাশ পেল। তিনি ইঞ্জুরি নিয়ে খেললেন, সবাইকে দেখালেন,শিখালেন,ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে দেশকে নিয়ে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়। এই আদর্শ,এই ত্যাগ,এই প্রেরণা আর দেশের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে এমন এক বার্তা দিলেন যেটা শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।ব্যাখা করা যায়না। তামিম তোমায় সালাম…

-ফারহান ইহসান

Related Articles

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি