Scores

এলিমিনেটরে ১ রানে জিতলো স্যামি-তামিমদের পেশোয়ার

পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ ( পিএসএল ) এর প্রথম এলিমেনেটরের স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে তামিমের পেশোয়ার এক রানে হারিয়েছে রিয়াদের কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে।

টস জিতে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স কাপ্তান সারফরাজ আহমেদ ব্যাট তুলে দেন পেশোয়ার জালমির ব্যাটসম্যানদের হাতে। শুরুটা ভালো হয় নি পেশোয়ার জালমির। শূন্য রানে ফিরে যান চমৎকার ফর্মে থাকা কামরান আকমল। রাহাত আলির বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন এই পাকিস্তানি অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

Also Read - ফর্ম ধরে রেখেছেন সাব্বির


এরপরের ওভারে আউট হয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রিক্রুট আন্দ্রে ফ্লেচার। মিস টাইমিং করে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয়া তাঁর ক্যাচ চমৎকারভাবে তালুবন্দি করেন থিসারা পেরেরা। তিন বলে এক রান করে ফিরে যান তিনি।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সাথে তাল মেলান মোহাম্মদ হাফিজ। নেমেই আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন হাফিজ। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে পেশোয়ার জালমি ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান জমা করে বোর্ডে।

 

অসাধারণ খেলতে থাকা মোহাম্মদ হাফিজকে ফেরান সদ্য নিদাহাস ট্রফিতে ভালো খেলা অসাধারাণ ফর্মে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের বলে সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন হাফিজ। যাওয়ার আগে এক ছয় আর  চার চারে ১৪ বলে ২৫ রান করেন হাফিজ।

পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন আরেক সঙ্গী বাংলাদেশের দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নাওয়াজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সীমানা রেখায়। ব্যাট হাতে বেশি সুবিধা করতে পারেন নি তিনি। ২৯ বলে পাঁচ চারে ২৭ রান করেন।

এরপর একপাশ আগলে বিস্ফোরক ব্যাটিং শুরু করেন লিয়াম ডওসন। অন্যপাশে ব্যাটম্যানরা আসা যাওয়ার মিছিলে থাকলেও ডওসন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ব্যাটে যেন কালবৈশাখী ঝড় উঠেছিল তাঁর। দলীয় ৮৬ রানে ফিরে যান সাদ নাসিম। ১৩ বলে নয় রান করেন তিনি।

১৪ তম ওভারে ১০০ পার করে পেশোয়ার। উমাইদ আসিম নামলেও বেশি সুবিধা করতে পারেন নি। ৬ বলে এক চারে সাত রান করে দলীয় ১১২ রানে আউট হন তিনি।

এরপর স্যামি নামলেও দর্শক হয়েই ছিলেন। ডওসন চালাচ্ছিলেন বুল্ডোজার। সতেরতম ওভারে ৫ বলে দুই করে আউট হন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক স্যামি। একই ওভারে আউট হন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬২ রান করা ডওসন।  ৩৫ বলে ছয় চার আর চার ছয়ে এই রান সংগ্রহ করেন তিনি।

শেষদিকে ওয়াহাব রিয়াজের ১৫ রানের ক্যামিওতে ১৫০ এর কোঠা পার করে জালমি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৭ রানে অলআউট হয় তারা। চার ওভারে ১৬ রান দিয়ে চার উইকেট নেন রাহাত আলী। ২ ওভারে ২০ রান দিয়ে এক উইকেট নেন রিয়াদ।

১৫৮ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় কোয়েটা। হাসান আলীর বলে স্লিপে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির ক্যাচ হয়ে ফিরে যান আসাদ শফিক। তৃতীয় ওভারের শুরুর বলে আবার আঘাত হানেন হাসান আলী। এবারের শিকার ক্যাডমোর। ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন তিনি। আউটসাইডেজ হয়ে কিপারের হাতে ধরা পড়েন এই ব্যাটসম্যান।

এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠেন মোহাম্মদ নেওয়াজ ও অধিনায়ক সরফরাজ। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তোলে কোয়েটা। বেশ ভালোভাবেই জয়ের দিকে এগোচ্ছিল তারা।

দুইজনের ৬৩ রানের জুটি ভাঙ্গেন সামিন গুল। এগিয়ে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৩২ বলে ৩৫ করে আউট হন। পাঁচ চার আর এক ছয় আসে তাঁর ব্যাট থেকে। পরের বলেই আউট হন সামনে থেকে সরফরাজ আহমেদ। ২১ বলে দুই ছয় আর তিন চারে ৩৫ রান করেন সরফরাজ।

এরপর ব্যাট করতে নামেন রিয়াদ। নিজের ফর্মের ইঙ্গিত দেখা দিলেই আউট হন জলদি। ২০ বলে তিন চারে করেন ১৯ রান। উমাইদ আসিফের বলে রিয়াদ বোল্ড হয়ে ফেরার পর আর কেউই হাল ধরতে পারেন নি। শেষ ওভারে জমে ওঠে নাটক। ২৫ রান দরকার হয় ডওসন এর করা শেষ ওভারে। প্রথম দুই বলে দশ নেন আনোয়ার আলি। তিন নাম্বার বল ডট গেলেও চতুর্থ আর পঞ্চম বলে দুই ছয় মারেন তিনি। শেষ বলে তিন রানের দরকার থাকলেও এক রানের বেশি করতে পারে নি তারা। হারে এক রানে।

দুটি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ, সামিন গুল, উমাইদ আসিফ ও হাসান আলি।

 

স্কোরঃ

পেশোয়ারঃ ১৫৭/১০ ( ২০ ওভার )

ডওসন ৬২, তামিম ২৭

রাহাত আলি ৪/১৬

কোয়েটাঃ

সরফরাজ ৩৫, নাওয়াজ ৩৫

হাসান আলি ২/২১ , সামিন গুল ২/২১

ফলাফলঃ পেশোয়ার রানে জয়ী

 

আরো পড়ুনঃ

ডিপিএলের সুপার সিক্সে উঠল যারা

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

তামিমের অনুপস্থিতির সুযোগ নিতে চান জহুরুল

ক্যাম্প থেকে খোঁজা হবে তামিমের বিকল্প

ক্রিকেটারদের ঈদ

আফগান সিরিজে তামিমকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ

বিশ্রাম চেয়েছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা