তামিমের সাহসী সিদ্ধান্তে অবাক ম্যাথুসও

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক হাত নিয়ে ব্যাট করায় ক্রিকেট বিশ্বে দৃষ্টান্ত নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তার সাহস দেখে মুগ্ধ পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তেমনি মুগ্ধ হয়েছেন শ্রীলঙ্কার দলের অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসও। সেই সাথে মুশফিকের ব্যাটিংয়ের প্রশংসার পঞ্চমুখ তিনি।

তামিমের সাহসী সিদ্ধান্তে অবাক ম্যাথুজও
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আঙুলে চোট পান তামিম। ছবিঃ গেটি

বাংলাদেশের ইনিংসটা থেমে যেত ২২৯ রানেই। মুস্তাফিজের রান আউটের পর সবাই ভেবেছিল এখানেই ইনিংস শেষ বাংলাদেশের। তবে সবাইকে অবাক করে ব্যাট হাতে নামেন তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লাকমলের করা বলে আঙুলে চোট পাওয়া তামিমকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। শেষ সময় তামিমের ক্রিজে আসাতে মুশফিক স্কোরবোর্ডে যোগ করেছেন আরও ৩২ রান।

তামিমের এমন সাহসিকতার পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে তাকে ঘিরে বন্দনা তৈরি হয়েছে। মূলত সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন তামিম নিজেই। তবে যদি মুশফিক ক্রিজে থাকেন তবেই মাঠে নামবেন তিনি। তামিমের এমন সাহসিকতায় অবাক হয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ম্যাথুসও। ম্যাচ শেষ সংবাদ সম্মেলনে সেটিই জানালেন তিনি।

“ও (তামিম) অসম্ভব সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এমন অবস্থায় ব্যাট করতে আসা অনেক কঠিন কাজ। এক হাতে ব্যাট করেছে। এটা অনেক বড় ব্যাপার।”

Also Read - তামিম বীরত্বের পেছনের গল্প

তামিম ২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়লে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুই জনের শতরানের জুটিতে ১০০ পার করলেও মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেকের বিদায়ে আবারো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে দলকে একাই টেনে নিয়ে গেলেন মুশফিক। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরিও। সেই সাথে করেছেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস। দলের এই জয়ে মুশফিকই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মনে করেন ম্যাথুস।

“পুরোটা সময় মুশি (মুশফিক) অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। দলকে একাই টেনে নিয়ে গিয়েছে ও। দুই দলের মধ্যে ওর ইনিংসই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। শেষ দিকে তামিমের অন্তর্ভুক্তিতে ৩০-৩২ রান বেশি হয়েছে। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানদেরও দায় দেখছি আমি। এই পিচে ২৬২ রান তাড়া করা সম্ভব ছিল।”

তামিম যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেটা এক কথায় বড় সাহসিকতার পরিচয়। দলের প্রয়োজনে এর আগে একহাতে ব্যাট করতে দেখা গিয়েছিল উইন্ডিজের ম্যালকল মার্শাল (১৯৮৪, বনাম ইংল্যান্ড) সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ ও শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা।

আরও পড়ুনঃ তামিম বীরত্বের পেছনের গল্প

Related Articles

হাথুরুসিংহে চাওয়ায় আবারও অধিনায়ক ম্যাথিউস

জিম্বাবুয়ের কাছে হারের লজ্জায় হতাশ ম্যাথুস

২০১৯ বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস