তামিম-সাকিবের দৃঢ়তা ও মুশফিকের ঝড়ে লড়াকু সংগ্রহ

গায়ানায় স্বাগতিক উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচে তামিম ইকবালের শতক, সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকের পর মুশফিকুর রহিমের ঝড়ে ৪ উইকেটে ২৭৯ রানের পুঁজি পেয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৩০* রান এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। তাছাড়া সাকিব ৯৭ ও মুশফিক শেষ দিকে খেলেছেন ১১ বলের ঝড়ো ৩০ রানের ইনিংস।


এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে জেসন হোল্ডারের ফাঁদে পরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। শুরুর ধাক্কার পর ক্রিজে তামিম অইকবালের সাথে যোগ দেন সাকিব আল হাসান।

শুরু থেকে ধীরগতিতে সাবধানতার সাথে ব্যাট করতে থাকেন উভয় ব্যাটসম্যান। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলীয় স্কোরবোর্ডের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি দু’দলের মধ্যকার ওয়ানডে লড়াইয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গড়েন সবচেয়ে বেশি রানের জুটির নতুন রেকর্ড। এই রেকর্ড গড়ার পথে তারা ভাঙ্গেন মারলন স্যামুয়েলস ও লেন্ডল স্যামুয়েলসের ১১১ রানের রানের জুটির রেকর্ডটি।

Also Read - রেকর্ড জুটিতে বাংলাদেশের দুইশো পার

এই রেকর্ড ভাঙ্গার পর নতুন আরও একটি জুটির জন্ম দেন তারা। ইমরুল কায়েস ও জুনায়েদ সিদ্দিকির পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়া দ্বিতীয় উইকেটে ১৬০ রানের জুটিকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন সাকিব-তামিম।

একাধিক রেকর্ড ভেঙ্গে যখন নতুন আরও রেকর্ডের দিকে এগোতে থাকা তারা ঠিক তখন ইনিংসের ৪৫তম ওভারে এসে বাধ সাজেন ইয়ান বিশু। কাঙ্খিত শতক থেকে মাত্র ৩ রানে দূরে থাকা সাকিবকে হেয়াটমায়ারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরের পথ ধরানোর মধ্য দিয়ে তিনি ভাঙ্গেন সাকিব ও তামিমের মধ্যকার ২৫৮ বলে ২০৭ রানের রেকর্ড গড়া জুটিটির।

সাকিব ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত সংগ্রহকে তিন অংকের ঘরে নিতে ভুল করেননি তামিম ইকবাল ১৪৫তম বল মোকাবেলায় এক রান নিয়ে ক্যারিয়ারের দশম ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন তিনি। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ৩ রান করে সাব্বির ফিরে গেলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে তামিমের সাথে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম।

ক্রিজে এসেই মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। তার দূর্দান্ত মারমুখী ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ঘুরে যায় ম্যাচের চিত্র। ১১ বল খেলে ৩ চার ও ২ ছয়ে দ্রুতগতিতে ৩০ রান করে দলকে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেতের বিনিময়ে ২৭৯ রানের পুঁজি পেতে বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত তার ৩০ রানের বিপরীতে ১৬০ বল খেলে ১৩০ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। ১০ চার ও ৩ ছয়ের মারে ইনিংসটি সাজান তিনি।

উইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে বিশু দুটি, রাসেল ও হোল্ডার একটি করে উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-

আরও পড়ুনঃ নিজভূমে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে