Scores

তিনি কেঁদেছিলেন বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য-ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ দক্ষিণ আফ্রিকার এডি বারলোর কথা।

তিনি কেঁদেছিলেন বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য
বাংলাদেশ থেকে বিদায়ের সময় বারলো।

 

Also Read - তিন শতাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়াল সাকিবের ফাউন্ডেশন


বর্তমান প্রজন্মের খুব কম ভক্তই হয়তো শুনেছেন এডি বারলোর কথা। গর্ডন গ্রিনিজের হঠাৎ বিদায়ের পর ১৯৯৯ সালে বাংংলাদেশে দলের বোর্ড অব ডিরেক্টর হয়ে আসেন এডি বারলো। সাবের হোসেনের প্রচেষ্টাতেই তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকান এই খেলোয়াড় তার সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন।

যদি লিজেন্ড গ্যারি সোবার্স না থাকতেন তাহলে হয়তো তাকেই গণ্য করা হতো তার সময়ের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে । তবে এই অলরাউন্ডারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ হয়নি বেশি। বর্ণবাদের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বেশিদিন খেলা হয়নি এডির। দারুণ একজন ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ভালো একজন বোলারও ছিলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশে আসেন বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে। তাই কাজের ক্ষেত্র ছিল ব্যাপক। এডির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের উন্নয়ন করা। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের উন্নয়নে এডি বারলো বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার বলিষ্ঠ পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ দল টেস্ট স্ট্যাটাস পায় আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে। দলের খেলোয়াড়দের কাছে তিনি ছিলেন একজন বাবার মতো।

তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন তার স্ত্রী কেলি বারলোকে নিয়ে। খুব অল্প সময়েই এডি ও তার স্ত্রী এখানকার জনগণের সাথে ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেন। বাংলাদেশেড় জনগণকে ও ক্রিকেটকে আপন করে নেন। দেশকে ও দেশের ক্রিকেটকে অনেক ভালোবাসতেন এডি। তবে তার সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্ট্রোক করার ফলে ২০০০ সালে তার হাঁটাচলা পরবর্তীতে সীমিত হয়ে যায়। বোঝা যাচ্ছিল তার বাংলাদেশে থাকা হচ্ছেনা বেশি দিন। সেই সময় হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে হতো তাকে।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট হুইলচেয়ারে করেই দেখতে আসেন এডি, সাথে ছিলেন তার স্ত্রী। তার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে ৫ বছর মেয়াদী। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি তার। যখন তিনি আসেন তখন বাংলাদেশে তেমন পরিকল্পনা ছিলনা কীভাবে একটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ হওয়ার পথে আগানো যায়। তবে এডি বারলো জানতেন কোথায় কি করতে হবে ও কি প্রয়োজন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত স্ট্রোক তার সময় বাংলাদেশে ছোট করে দেয়। এডি শারীরিকভাবে সক্ষম না হলেও তার যথেষ্ট মেধা বুদ্ধি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এই ব্যাপারে তার স্ত্রী কেলি বারলো কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ” বাংলাদেশ বোর্ডের কেউ কেউ তখন ভেবেছিলেন তাদের খুব সচল কোন ব্যক্তিকে দরকার সেই সময়ে। তাই এডিকে চলে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ থেকে এসে পরি দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে কোন চাকুরি না পাওয়ায় আমরা ওয়েলসে চলে যাই। সেখানে এডি ক্রিকেট কোচিংয়ের সাথে পুনরায় যুক্ত হন।”

বাংলাদেশ ছাড়ার সময় এডি বারলোর কান্না এখনো অনেকের চোখে ভাসে। তিনি ছাড়তে না চাইলেও পরিস্থিতি ও ভাগ্যের স্বীকার হয়ে তাকে তার প্রিয় বাংলাদেশ ছাড়তে হয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও হাবিবুল বাশার তার প্রিয় ছাত্র ছিলেন।

বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও এডি বারলো বাংলাদেশকে ভুলতে পারেননি। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে যান লর্ডসে। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক সমালোচনা হতো টেস্ট খেলার যোগ্যতা নিয়ে ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে। তবে এডি বারলো বারবার বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন ইংল্যান্ডে। বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ডে খেলতে গেলেই বারলো খেলায় উপস্থিত থাকতেন। ২০০৫ সালে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পরও তার স্ত্রী কেলি বারলো বাংলাদেশকে ভুলেননি। ২০১০ সালে বাংলাদেশে আসেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দেখতে। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের সময়ও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন কেলি বারলো পুরো এশিয়া কাপে ভালো খেলায়। বাংলাদেশ দল তার স্বামীর খুব ভালোবাসার ছিলো। তাই স্বামীর মৃত্যুর পরও মনে রেখেছিলেন বাংলাদেশ দলকে। দলের সাফল্যে খুশি হতেন। বারলোর মতো এমন কোচ হয়তো খুব কমই পাবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দল।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

জাতীয় দলের কোচ হতে চান বুলবুল

ইডেনে যাচ্ছেন না বুলবুল ও রোকন

ইডেন গার্ডেনসে বুলবুল-বাশারদের সংবর্ধনা দিবেন গাঙ্গুলি

বাংলাদেশের সঙ্গে ৯৬’র শ্রীলঙ্কার মিল খুঁজে পান আমিনুল

বুলবুলের বিশ্বকাপ দলে ইমরুল-তাইজুল, নেই সৌম্য