Scores

তিন পেসারের নৈপুণ্যে জিতল রাজশাহী

চতুর্থ দিনের শুরুতে নিজেদের প্রথম ইনিংসের শেষ উইকেট নিয়ে খেলতে নামে রাজশাহী বিভাগ। শেষদিনে মাত্র দুই দলের প্রথম ইনিংস সমাপ্ত হওয়ার পর ড্র ছিল অনুমেয় ফলাফল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিল রাজশাহী বিভাগের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনা বিভাগকে মাত্র ১৫৮ রানে গুটিয়ে দেয় রাজশাহী বিভাগ। ৩৭ রানের অতি সহজ লক্ষ্য রাজশাহী বিভাগ টপকে যায় আট উইকেট হাতে রেখে।

তিন পেসারের নৈপুণ্যে জিতল রাজশাহী
চার উইকেট শিকার করেন ফরহাদ রেজা।

নয় উইকেটে ৪১৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে রাজশাহী বিভাগ। শেষদিন শেষ উইকেটে আরো ১৩ রান যোগ করে রাজশাহী বিভাগ। ৮ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে সাকলাইন সজীব বিদায় নিলে রাজশাহী বিভাগের প্রথম ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটে। ৪৩১ রান করে রাজশাহী বিভাগ।

Also Read - রংপুরের রোমাঞ্চকর জয়

প্রথম ইনিংসে ৩০৯ রান করে খুলনা বিভাগ। ১২২ রানের বড় লিড পায় রাজশাহী বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ৬৬ রান করা সৌম্য সরকার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় মাঝপথে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছেন। তার পরিবর্তে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামেন রবিউল ইসলাম রবি।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি খুলনা বিভাগের। দলীয় ১১ রানের মাথায় শফিউল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হন এনামুল হক। ৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান এনামুল। মেহেদি হাসান ও রবিউল ইসলাম রবি দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪০ রান। তাদের জুটি ভাঙেন ফরহাদ রেজা। ১৯ রান করে মেহেদি হাসান বোল্ড হন ফরহাদ রেজার বলে।

এরপর ওপেনার রবিউল ইসলাম রবিকেও বোল্ড করেন ফরহাদ রেজা। ২৪ রান করে ফিরে যান রবি। ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় খুলনা বিভাগ। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৪ চারে ২৪ বলে ২২ রান করা নুরুল হাসান ফিরে যান শফিউল ইসলামের বলে। জিয়াউর রহমানকেও টিকতে দেননি শফিউল। এ ডানহাতি পেসারের বলে ১ রান করে বোল্ড হন জিয়াউর।

৮৪ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে রংপুর বিভাগের ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা জাগে। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় আফিফ হোসেনকে (২) ফরহাদ রেজা সাজঘরে ফেরালে সেই শঙ্কা ঘনীভূত হয়। তুষার ইমরানকেও সাজঘরের পথ দেখান ফরহাদ। তুষারকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করেন ফরহাদ। ১৯ রান করেন তুষার। তখনো ১৫ রান পিছিয়ে রংপুর বিভাগ। হাতে আছে তিন উইকেট।

অষ্টম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন নাহিদুল ইসলাম এবং মইনুল ইসলাম। তাদের জুটিতে ভর করে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে সমর্থ হয় রংপুর বিভাগ। তাদের ৪৮ রানের জুটি ভাঙেন মুক্তার আলি। মুক্তারের বলে ২৩ রান করে ফিরে যান মইনুল ইসলাম। শেষ দুই উইকেটও দ্রুত তুলে নেন মুক্তার আলি। রবিউল ইসলাম (০) এবং আল-আমিন হোসেনকে (১) সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মুক্তার। ১৫৮ রান করে অলআউট হয়ে যায় রংপুর বিভাগ। ৩০ রান করে অপরাজিত ছিলেন নাহিদুল ইসলাম।

ফরহাদ রেজা, শফিউল ইসলাম এবং মুক্তার আলি- এ তিন পেসার মিলেই শিকার করেন দশ উইকেট। চার উইকেট শিকার করেন ফরহাদ রেজা। তিনটি করে উইকেট নেন শফিউল ইসলাম ও মুক্তার আলি।

৩৭ রানের লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে অদলীয় ১১ রানের মাথায় ফিরে যান মিজানুর রহমান। প্রথম ইনিংসে ৯৯ রান করা সাব্বির রহমান দ্বিতীয় ইনিংসে বোল্ড হন ৬ রান করে। ১৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জহুরুল ইসলাম ও মাইশুকুর মিলে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ খুলনা বিভাগ ৩০৯/১০, প্রথম ইনিংস  (৯১ ওভার)
সৌম্য ৬৬, এনামুল ৫৬, জিয়াউর ৪৩
ফরহাদ রেজা ৩/৫৪, শফিউল ৩/৬১, সাঞ্জামুল ৩/৭৩

রাজশাহী বিভাগ ৪৩১/১০, প্রথম ইনিংস (১৫৫.৩ ওভার)
সাব্বির ৯৯ , সানজামুল ৬৪, ফরহাদ হোসেন ৫৬,
সৌম্য ২/৫৬, মইনুল ২/৬৩, আল-আমিন ২/৭৭

খুলনা বিভাগ ১৫৮/১০, দ্বিতীয় ইনিংস (৬১ ওভার)
নাহিদুল ৩০*, রবি ২৪, মইনুল ২৩
ফরহাদ রেজা ৪/২৬, মুক্তার ৩/১৩, শফিউল ৩/৫৯

রাজশাহী বিভাগ ৩৭/২, দ্বিতীয় ইনিংস (৪.৪ ওভার) লক্ষ্য ৩৭ রান
জহুরুল ১৫*, মাইশুকুর ৭*, মিজানুর ৭
আল-আমিন ২/১৭


আরো পড়ুনঃ  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট দলে চার নতুন মুখ


Related Articles

রানার্স আপ হলো রংপুর বিভাগ

সৌম্য-সোহানের অর্ধশতক, বিবর্ণ তুষার

সাব্বিরের ‘১’ রানের আক্ষেপ

ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সাব্বির

এগারো হাজারি ক্লাবে তুষার ইমরান