দল নিয়ে স্বস্তিতে মাশরাফি

ম্যাচের আগে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল একাদশ নিয়ে। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। ছন্দে রয়েছেন ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার আর লিটন দাসও। এ চার ওপেনারের মধ্যে বাদ পড়বেন কে,  কে একাদশে থাকবেন- তা নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে চার ওপেনারকেই জায়গা দেওয়া হয়েছে একাদশে। বাদ পড়তে হয়েছে ছন্দে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে। এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাশরাফি। দল বর্তমানে বেশ গোছানো আছে বলে মনে করেন তিনি।

দল নিয়ে স্বস্তিতে মাশরাফি

Advertisment

এর আগেও ছয়ে বা সাতে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে সৌম্য সরকারের। একই জায়গায় মোহাম্মদ মিঠুন থাকলেও সবকিছু বিবেচনার পর বেছে নেয়া হয়েছে সৌম্যকে। মূলত বোলিংয়ে সহায়তা পাওয়ার জন্যই সৌম্যকে নেওয়া বলে জানান মাশরাফি।

মাশরাফি বলেন,  “মিঠুনও খুব ভালো ফর্মে আছে। শিশিরের জন্য স্পিনাররা যদি সমস্যায় পড়ে সেক্ষেত্রে সৌম্যর কাছ থেকে কিছু ওভার পাওয়া যায় কিনা। এসব চিন্তা করে সৌম্যকে খেলানো। এর সাথে সৌম্যও ফর্মে আছে।” 

তিনি বলেন,  “টপ অর্ডারে তিনে পর্যন্ত ইমরুল আছে। সাকিব পাঁচে নেমে এসেছে। ছয়ে-সাথে যারা নামবে তাদের শটস খেলার সামর্থ্য থাকতে হবে। মিঠুনের যে নেই তা না। কিছুটা সহজ হয়েছে সাকিব পাঁচে ব্যাটিং করাতে যেহেতু মিঠুন পাঁচে ব্যাটিং করছিল। মিঠুন ও সৌম্যর মধ্যে হয়তো সামর্থ্য একই। সৌম্যর কাছ থেকে যদি কিছু ওভার পাওয়া যায় এ কারণে সৌম্যকে ছয়ে বা সাতে। ওখানে একটা লেফট-রাইট কম্বিনেশন করে রেখেছিলাম। সাকিব থাকলে রিয়াদ যেত।”

চারজন যখন ওপেনার তখন ব্যাটিং অর্ডার সাজানোটাও চ্যালেঞ্জিং। সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস- দুজনই ছিলেন তিনে নামার মতো।  সৌম্যকে ছয়ে নামানো নিয়ে মাশরাফি বলেন, “সৌম্যের আসলে ছয়ে-সাতে ব্যাটিং করার অভ্যাস আছে। ইমরুলের ক্ষেত্রে রেয়ার।  কিন্তু সৌম্য অনেক সময় ব্যাটিং করেছে। সৌম্য সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে।  ছয়ে-সাতে যে শটস খেলার সামর্থ্য লাগে পেস বলে, এটা ওর আছে। ৫০ ওভারের ম্যাচে আগের তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি ছিল, যদিও এর দুইটা ছিল আনঅফিসিয়াল ম্যাচে।”

ভালো ফর্মেই ছিলেন মিঠুন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তিন ম্যাচে করেন ৬৮ রান। দুইটিতে ছিলেন অপরাজিত। এশিয়া কাপে হাঁকান দুইটি অর্ধশতক।

মিঠুনের সঙ্গে কথা তার হয়েছে বলে জানান মাশরাফি। মাশরাফি বলেন, “মিঠুনের সাথে আমি কথা বলেছি। যে ফর্মে ছিল সেখান থেকে খেলতে না পারায় আমি বলব ওর ভাগ্য অনেক খারাপ। ও পাঁচে ব্যাটিং করেছে, ছয়ে পারবে না তাও না। সাকিব পাঁচে থাকলে ওখানে দুইজন হেভি ব্যাটসম্যান থাকলে সুবিধা হয়। কিন্তু কোনো কিছুই আসলে নিশ্চিত না। তবে প্রথম তিনে এ চারজনের তিন খেলার সম্ভাবনাই বেশি। যেহেতু বাইরের কেউ নেইও।”

মিঠুনকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন মাশরাফি। মাশরাফি বলেন, “কোনোভাবেই ওকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই। ও এশিয়া কাপে খুব ভালো কয়েকটি ইনিংস খেলেছে। জিম্বাবুয়ের সাথেও ও ভালো খেলেছে। ও তো দলের সাথে আছেই। ওকে আমরা এমনভাবে রাখতে চাই যেন ও নিজের জায়গায় ফিরে আসতে পারে।” 

সবাই ছন্দে থাকায় মাশরাফির হাতে এখন বিকল্প পথও বেশি। চারজন ওপেনার থাকলেও দলের প্রয়োজনে নিচে ব্যাটিং করার সামর্থ্য থাকাটা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন মাশরাফি। সব মিলিয়ে একটি কম্বিনেশন দাঁড় করানো আছে বলে মনে করছেন তিনি।

মাশরাফি বলেন, “আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যাপার একটা কম্বিনেশন দাঁড় করানো আছে। এটা টিমের জন্য স্বস্তিদায়ক। চারজন ওপেনার খেললেও অন্তত এক বা দুজনের সামর্থ্য আছে ছয়ে-সাতে খেলার। লিটনও ছয়ে খেলেছে, হয়তো টেস্ট ম্যাচে। এটা টিমকে আরো ফ্লেক্সিবল করে। মিঠুন তো আছেই। মিঠুন মানসিকভাবে ঠিকও আছে। আমার কাছে মনে হয় সব কিছু গোছানো আছে।”



আরো পড়ুনঃ  স্পিন দিয়ে শুরু করার কারণ জানালেন মাশরাফি