দিন বদলের যাত্রার নেপথ্য নায়ক মাশরাফির জন্মদিন আজ

মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের মানুষের প্রাণপ্রিয়দের তালিকার অন্যতম একনাম। বিশ্ব কাপানো এ ক্রিকেটারের শুভ জন্মদিন আজ ।একে একে জীবনের ৩৫টি বসন্ত পেরিয়ে এবার ৩৬তম বছরে পদার্পন করল মাশরাফি। ১৯৮৩ সালের এই দিনেই নড়াইলে জন্ম হয় তার।

দেশের মানুষের কাছে ম্যাশ, কৌশিক ইত্যাদি নানা নামে পরিচিত মাশরাফি। কিন্তু জন্মস্থানে নড়াইল এক্সপ্রেস নামেই তাকে বেশি চেনে মানুষ।

Also Read - শুভেচ্ছা-বৃষ্টিতে ভিজছেন মাশরাফি

ডানহাতি এই মিডিয়াম ফাষ্ট বোলারের বিশ্ব কাপানো অভিযান শুরু হয় ২০০১ সালে। তবে ছোট বেলা থেকেই মাশরাফি ছিলো দুরন্ত। বাধাধরা পড়াশোনার পরিবর্তে ফুটবল, ব্যাটমিন্টন, সাঁতার কাটা ইত্যদিতেই তার অাগ্রহ ছিলো বেশি। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, ছেলে বেলায় ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ ছিল কম।  কিশোর বয়সে পদার্পনের পর ব্যাটিং এ আগ্রহ বাড়তে থাকে তার।

কিন্তু আক্রমনাত্বক গতিময় বোলিং এর জন্য এখন বোলার হিসেবেই বাংলার মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে সে। ঠিক একই কারনে অনুর্ধ্ব-১৯ দলে থাকার সময় ওয়েষ্টইন্ডিজের সাবেক পেসার এবং ঐ সময়কালীন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচং অ্যান্ডি রবার্টসেরও নজর কাড়ে সে। এমনকি তার পরামর্শেই মাশরাফি স্থান পায় বাংলাদেশ এ-দলে।

তবে ভাগ্যের পরিহাসে মাশরাফির অভিষেক ম্যাচটি বৃষ্টির কারনে অমিমাংসিতই থেকে যায়। তার এই অভিষেক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা। ছবি : ফেসবুক থেকে

২০০৯ সাল পর্যন্ত মোট ৩৬টি টেস্ট খেলেন মাশরাফি। এ ফরম্যাটে তার উইকেটসংখ্যা ৭৮টি। এ সংস্করণ থেকে এখনও অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। তবে আর ফিরবেন বলে মনে হয় না। একই বছর ওয়ানডেতে অভিষেক ঘটে এ গতিতারকার। সবশেষ এশিয়া কাপের ফাইনাল পর্যন্ত ১৯৬টি ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে শিকার করেছেন ২৫০ উইকেট (২৫১টি)। গেল বছর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ৫৪ ম্যাচে এ ফরম্যাটে তা শিকার ৪২ উইকেট।

তবে তার এই যাত্রায় বহুবার দু:খ জর্জরিত সময় পার করতে হয়েছে তাকে। জীবনে অধিনায়ক হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হবার পর প্রথম ম্যাচেই হাটুতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। একবার দুবার নয় সাত-সাতবার ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হয়েছে তাকে। সে সময় শুধু নিজ দেশের খেলা দেখা ছাড়া কোন গতিই ছিলো না তার। নিজ দলের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিরুপায় হয়ে ঘরে বসে থাকতে হয় তাকে। আদৌ কখনও ফিরবেন কিনা মাঠে তা নিয়েও ছিল সংশয়। তবে তার  অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয় তার হাটু। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারীতে আবারো দেশের জার্সি শরীরে জড়ায় মাশরাফি।

বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ান্ডে ইন্টারন্যাশনাল দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বরত এ ক্রিকেটারের ওডিআই অভিষেক হয় ২৩ নভেম্বর ২০০১ সালে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচ দিয়েই। দলের নেতৃত্বের ভার কাঁধে নেওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। তার হাত ধরেই শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের দিনবদলের যাত্রা। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় পৌছে দেওয়ার নেপথ্য নায়ক এই মাশরাফিই। তার নেতৃত্বেই টাইগাররা শিখেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, কখন হুঙ্কার ছুড়তে হয়, চোখ রাঙাতে হয়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে পরাশক্তি।

শুধুই যে জাতীয় দলের হয়েই সফলতা পেয়েছে তাই নয়।  ঘরোয়া ক্রিকেট লীগেও খেলেছেন এই ক্রিকেটার। অনেক সফলতাও এসেছে তার হাত দিয়েই।

মাশরাফির ছেলে সাহেল মর্তুজারও জন্মদিন আজ। ২০১৪ সালের এদিনে স্ত্রী সুমনা হক সুমির কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে আসে সাহেল। বাবা ও ছেলের একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

টুইটারের মাধ্যমে দেশ বিদেশ থেকেও ভক্তরা জানিয়েছেন শুভেচ্ছা। নিচে দেখুন উল্লেখযোগ্য টুইটগুলো।

 

 

সর্বশেষে দেশের এই কিংবদন্তী ক্রিকেটারকে বিডিক্রিকটাইম পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

Related Articles

বাংলাদেশকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন কোহলি

ফাইনাল হারের পরও টুইটারে বাংলাদেশ ‘বন্দনা’

বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়ে প্রশংসার ঝড় টুইটারে

ভারত-আফগানিস্তান ‘টাই’ নিয়ে টুইটার প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়ে টুইটারে ঝড়