দুর্জয়ের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেদিন উড়ে যায় আর্জেন্টিনা!

ফুটবলে বাংলাদেশি ভক্তদের কাছে বিদেশি দলগুলোর মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইটি দল হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিপক্ষে না খেললেও বাংলাদেশে এসে খেলে গেছেন লিওনেল মেসিরা। তবে ফুটবলে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার দেখা না হলেও ক্রিকেটে ঠিকই হয়েছে!

Advertisment

হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন ক্রিকেটে দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার। সেটা একবার না একাধিকবার। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মুখোমুখি হয় ম্যারাডোনা, মেসিদের দেশের ক্রিকেট দল। সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ঐবার আইসিসি ট্রফিতে মালেয়শিয়ায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ দলে ছিলেন আজকের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিরা।

৫০ ওভারের সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের বোলিং তোপে মাত্র ১৩৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। আর্জেন্টিনার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ইরিগয়েন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন বর্তমানে সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয় ও এনামুল হক।  এছাড়া হাসিবুল হোসেন ২টি ও মোহাম্মদ রফিক নেন ১টি করে উইকেট।

ছোট রান তাড়া করতে নেমে ভাল শুরু করেন দুই ওপেনার – বর্তমান ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান ও নাইমুর রহমান দুর্জয়। আতহার আলী ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে সফল হওয়ার পর ব্যাট হাতেও নৈপুণ্য দেখান দুর্জয়। তিনি করেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৩ রান। তবে তার আউটের পরে সুবিধা করতে পারেননি আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আমিনুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেনরা। দ্রুত কিছু উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা হন নাইমুর রহমান দুর্জয়। মালেয়শিয়াতেই সেইবার আইসিসি ট্রফির সাফল্যের ফলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ দল। এরপর আর্জেন্টিনার সাথে আর দেখা হয়নি বাংলাদেশের।

আর্জেন্টিনায় এখনো ক্রিকেট খেলা হয় বেশ ভালোভাবেই। তাদের পুরুষ ও নারী দল নিয়মিত দক্ষিণ আমেরিকার ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়।

তবে সামনে কখনো বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার খেলতে হলে পাড়ি দিতে হবে তাদের লম্বা পথ, উন্নতি করতে হবে আরো অনেক বেশি।