দুশ্চিন্তার নাম টপ অর্ডার

দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে ইনিংসের শুরুতেই চাপে পড়ে যাওয়া যেন এখন বাংলাদেশের ইনিংসের নিয়মিত চিত্র। বাংলাদেশের যেন এখন বড় দুশ্চিন্তার নাম টপ অর্ডার।

দুশ্চিন্তার নাম টপ অর্ডার

টপ অর্ডারের হতশ্রী অবস্থা, নিউজিল্যান্ডের পেসারদের সুইংয়ের ছোবল সামলাতে গিয়ে হাঁসফাঁস, মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুনের ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হওয়া, মুশফিকের আউট হওয়ার ধরণ, মার্টিন গাপটিলের শতক, নিউজিল্যান্ডের আট উইকেটের জয়- প্রথম ওয়ানডের মত দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একই অবস্থা। সব মিলিয়ে যেন নেপিয়ারের দৃশ্য যেন  মঞ্চস্থ হল ক্রাইস্টচার্চে।

Also Read - ডিপিএলের ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকছেন যারা


সিরিজের আগেই চোটের কারণে সাকিব আল হাসান তার তাসকিন আহমেদকে না পাওয়া বড় ধাক্কা। ত সাকিব আল হাসানের ঘাটতি পূরণটা বড্ড কঠিন। তবে হাতে থাকা অস্ত্রকেও কাজে লাগানো হচ্ছে না সঠিকভাবে।

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যেখানে গতি আর সুইং দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে পেসাররা সেখানে স্কোয়াডের সবচেয়ে দ্রুততম রুবেল হোসেন দুই ম্যাচের একাদশে ব্রাত্য। একাদশে প্রচুর ব্যাটসম্যান, বোলিংয়ে পঞ্চম বোলার নেই। এরকম আজব কম্বিনেশন নিয়ে টানা দুইটি ম্যাচ খেলা দেখে অনেকেই তাজ্জব বনে গিয়েছেন। চারটা বোলার নিয়ে ৩০০ রানের পুঁজি থাকলেও মনে হয় না জেতা কষ্টসাধ্যই বটে।

এত ব্যাটসম্যান দিয়ে কি হবে সেটাও একটা প্রশ্ন। দুই ম্যাচে টপ অর্ডার যেন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম টানা দুই ম্যাচে আউট হলেন প্রায় একই ভাবে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল টেনে আনলেন স্ট্যাম্পে।  সেই এশিয়া কাপ থেকেই টপ অর্ডারে বিপর্যয় প্রায়ই ঘটছে। টপ অর্ডার যদি নতুন বলে এভাবে দ্রুত আউট হয়ে যায় তাহলে বড় স্কোরের সম্ভাবনা শুরুতেই বিলীন হয়ে যায়।

শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানোর পর মিডল অর্ডারের মোহাম্মদ মিঠুনের মতো কেউ দায়িত্ব নিলে রানটা হয়তো ২০০ বা এর চেয়ে একটু বেশি হয়। কিংবা সেই অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান খেলানোর কল্যাণে হয়তো ২৫০ পর্যন্তই গেল। কিন্তু এ সংগ্রহ কতটা নিরাপদ? নিউজিল্যান্ড সফরেও দেখা গিয়েছে একই চিত্র।

হয়তো এশিয়া কাপকে অনেকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করাতে পারেন তবে খেয়াল রাখতে হবে এশিয়া কাপ হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আর বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডে প্রায়ই রান তিনশ এর চৌকাঠ ছাড়িয়ে যায়। রান-প্রসবা উইকেটে ২৫০ রানের পুঁজি যে পর্যাপ্ত নয় সেটা সবার জানা। রানের ফোয়ারা ছোটাতে চাই টপ অর্ডারের দৃঢ়তা।

টপ অর্ডারে তামিম ইকবাল হতাশ করলে ভুগতে হবে বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের সঙ্গী নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজটাও সরেনি এখনো। লিটন কুমার দাস কতটা হতাশ করেছেন সবাইকে তার জন্য তার গড়টাই বড় সাক্ষী, ২৬ ম্যাচ শেষে ২০.২৮। নিউজিল্যান্ড সফরে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন দুই রান।

সৌম্য সরকার তিন নম্বরে নেমে দুই ম্যাচেই করেছিলেন সম্ভাবনাময় সূচনা। সেই সম্ভাবনাময় অপমৃত্যু ঘটিয়েছেন দুইবারই। বড় স্কোর গড়তে পারেননি ক্রিজে থিতু হয়েও। স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু করছেন, সাবলীল ব্যাটিং করছেন তবু বড় করতে পারছেন না ইনিংস। নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। দুই জায়গাতেই বোলারদের মধ্যে সুবিধা পাবেন পেসাররা। নিউজিল্যান্ড সফরে যে যে চিত্র এখন পর্যন্ত দেখা গিয়েছে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিশ্বকাপে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে না বাংলাদেশের জন্য।

ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলীয় সংগ্রহে অতিরিক্ত খাতের অবদান ছিল ২৩ রান। এক ওভারে পাঁচটি ওয়াইড দেন কলিন ডি গ্রান্ডহোম। ফিল্ডিংয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা হলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ে ছিল ভুলের মহড়া। একের পর এক ক্যাচ ছেড়েছে তারা।  আমাদের ব্যাটসম্যানদের দশা এতই মলিন ছিল এত কিছুর পরে সর্বসাকুল্যে রান হয়েছে ২২৬। আজকের ক্রিকেটে এ লক্ষ্য যেকোনো দলই হেসেখেলে তাড়া করবে।

তাই বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বড় দুশ্চিন্তাটা টপ অর্ডার নিয়েই। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড সফরের মত চোটের ধাক্কা লাগলেও সমস্যা।
ফিটনেসের দিকেও নজর রাখা চাই সবার।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন