Scores

দেশপ্রেমের জন্য টেস্ট খেলার সুযোগ বিসর্জন দেন রকিবুল

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছে পাকিস্তানের হয়ে সুযোগ পাওয়া একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটারের কথা।

দেশপ্রেমের জন্য টেস্ট খেলার সুযোগ বিসর্জন দেন রকিবুল

রকিবুল হাসান ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান একটি সৌজন্য ম্যাচে। তৎকালীন পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের বিপক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে বৈষম্য অজানা নয় পাঠকদের। ২৪ বছরে মাত্র একজন খেলোয়াড় পাকিস্তানের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সেটাও কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ম্যাচ ছিল না। বিশেষ একটি আন্তর্জাতিক একাদশের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে ১৯৭১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামের মাঠে নামেন রকিবুল হাসান।

Also Read - ভুয়া বিডিংয়ে বন্ধ হয়ে গেল মুশফিকের ব্যাটের নিলাম


সেই ম্যাচের একাদশে দশজনই ছিলেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের। সেখানে ১৮ বছর বয়স্ক রকিবুল প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশের ( তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের)। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৬৯ সালে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে সুযোগ পান আন্তর্জাতিক ম্যাচে।

১৯৭১ সালের সেই ম্যাচে রকিবুল হাসান তার ব্যাটে পিপিপির তলোয়ার স্টিকারের বদলে তৎকালীন সময়ের আন্দোলনের জয় বাংলা স্লোগান লাগিয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। ঢাকার দর্শক তাকে বিপুল উৎসাহে স্বাগত জানায় গ্যালারি থেকে। আন্দোলনের ফলে পুরো ম্যাচটি হয়নি। বিদেশী খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা করেন।

পাকিস্তানের খেলোয়াড় জহির আব্বাস পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার আগে রকিবুলকে বলেন দেখা হবে করাচিতে। সেই বছর মে মাসে ইংল্যান্ডের- পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিল। সেখানে রকিবুলের অভিষেক হতে যাবে তা হয়তো প্রায় নিশ্চিত ছিলেন জহির আব্বাস। তবে কিছু একটা ভেবে রকিবুল জহির আব্বাসকে বলেন, “আমার মনে হয় ভবিষ্যতে করাচি বা লাহোর আসতে হলে হয়তো আমাকে পাসপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।”

তার কথা শুনে অবাক হয়ে যান জহির আব্বাস। একটি ইংরেজি পত্রিকার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত বছর এমন তথ্যই জানান রকিবুল হাসান। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই এমন বক্তব্য পরিচয় দেয় রকিবুল হাসানের সাহসিকতার।

পরিস্থিতি এরপর আরো উত্তাল হয়ে গেলে রকিবুল যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দলও গঠন করেন রকিবুলরা কলকাতায় বাংলাদেশের জন্য ফান্ড জমা করার জন্য। দলটির ম্যাচ খেলার কথা ছিল ডিসেম্বরে। তবে ততদিনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়ে যাওয়ায় তা দরকার হয়নি।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত টেস্ট খেলার সুযোগ ভবিষ্যতে হয়ে উঠেনি রকিবুল হাসানের। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গঠিত হয়। লম্বা সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলেন রকিবুল এবং অধিনায়কত্বও করেন। ১৯৮৬ সালে অবসর গ্রহন করেন দেশের এই সাহসী ক্রিকেটার। দেশের জন্য তার এই অবদান দেশবাসী সবসময় শ্রদ্ধাবোধের সাথেই স্মরন করবে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

জুনাইদ খানকে দেখলেই তেড়েফুঁড়ে মারতে চান ইমরুল

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

পাকিস্তানের জার্সিতে আফ্রিদির ফাউন্ডেশনের লোগো

শচীন শোয়েবকে ভয় পেত : আফ্রিদি

তৃতীয় দফায় দলে যোগ দিবেন আরও তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার