দোলেশ্বরের স্পিনত্রয়ীর আক্রমণে এলোমেলো রিয়াদ-মুমিনুলরা

অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শরিফুল্লাহ ও  এনামুল হক জুনিয়রের সাথে তরুণ শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এ স্পিনত্রয়ীর ঘূর্ণির রহস্য ভেদ করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকলে  ১০৮ রানে অলআউট হয় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

দোলেশ্বরের স্পিনত্রয়ীর আক্রমণে এলোমেলো রিয়াদ-মুমিনুলরা '

লক্ষ্য তেমন বড় ছিল না। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে ১৪৪ রানে আটকে দেয় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। তাড়া করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন এবং সৌম্য সরকার। তৃতীয় ওভারে তাদের ২২ রানের জুটি ভাঙেন শামীম হোসেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল লং অফের ওপর গিয়ে হাঁকাতে গিয়ে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ দেন শাহাদাত। ১০ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন তিনি।

Advertisment

পরেরো ভারেই সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। ডাউন দ্য উইকেটে এসে কাভারের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে রেজাউর রহমানের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। তিনি করেন ১০ বলে ৯ রান। এক বল পরেই বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন, খুলতে পারেননি রানের খাতা।

বিনা উইকেটে ২২ রান থেকে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে গাজী গ্রুপ। মুমিনুল হক আর জাকির হাসান পাহাড়সম চাপ সামলে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। রিয়াদের মতো মুমিনুলও এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন, বোলার ছিলেন শামীম। ১৪ রান করা জাকির ফিরেছেন ফরহাদ রেজার ডিরেক্ট থ্রোতে। দলীয় অর্ধশত পূরণ হওয়ার আগেই ৫ উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ।

এরপর উইকেট অনেকটা বিলিয়ে দিয়ে আসেন আকবর আলী। এনামুল হক জুনিয়রের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন শরীফুল্লাহর হাতে। নিজের পরের ওভারে এসে এনামুল ফেরান মেহেদী হাসানকে। ৩ রান করা মেহেদী বল আকাশে তুলে দেন, অসাধারণ এক ক্যাচ নেন তৌফিক খান। তিন স্পিনার দুইটি করে উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন গাজী গ্রুপকে।

লোয়ার অর্ডারে নাসুম আহমেদ ফিরেন রেজাউর রহমানের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে। এক প্রান্ত আগলে রাখেন আরিফুল হক। নবম উইকেট জুটিতে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে সাথে নিয়ে ৩৫ রান যোগ করেন তিনি। ১৯ তম ওভারে ফরহাদের বলে বিদায় নেয়া আরিফুল করেন ৩৪ বলে ৩৭ রান। ঐ ওভারেই নাহিদ হাসান রান আউট হলে ১০৮ রানেই গাজী গ্রুপের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাইম দোলেশ্বর। দুই ওপেনার ইমরান উজজামান আর তৌফিক খান তুষারের কেউ বড় স্কোর না গড়তে পারলে খানিকটা চাপে পড়ে প্রাইম দোলেশ্বর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বাহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে উইকেটরক্ষক আকবর আলীর হাতে ক্যাচ দেন ইমরান উজজামান। ৮ বলে ১০ রান করেন তিনি।

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে ফের উইকেট পান নাসুম। ১৭ বলে ১৫ রান করে আউট হন তৌফিক। তবে এরপর আর আক্রমণে আনা হয়নি নাসুমকে।  কোটার দুই ওভার বাকি থাকে তার।

তৃতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও ফজলে মাহমুদ। তারা ৬৫ রানের জুটি গড়লেও রানের গতিটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বোলাররা।

সময়ের সাথে সাথে দুই ব্যাটসম্যান চেষ্টা করেন রানের গতি বাড়াতে। ফজলে মাহমুদ রিয়াদের ১৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকালেও ঐ ওভারেই ভাঙে সাইফ ও ফজলের জুটি। শেষ বলে তুলে মারতে গিয়ে শাহাদাত হোসেন দীপুর হাতে ক্যাচ দেন সাইফ। ২ চারে সাজানো ৩৭ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন সাইফ। রিয়াদের পরের ওভারে ফজলে মাহমুদও বিদায় নেন। তিনিও  ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সৌম্য সরকারের হাতে। ৩১ বলে ৩৯ রান করেন ফজলে।

দুই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানের কেউ ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পারায় প্রাইম দোলেশ্বরের জন্য বড় পুঁজি গড়া কঠিন হয়ে যায়। সাইফ ও ফজলের বিদায়ের পর দ্রুত রান তোলার চেষ্টা চালান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। তার ১৮ বলে ২৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৪৪ রানের পুঁজি পায় প্রাইম দোলেশ্বর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

প্রাইম দোলেশ্বর ১৪৪/৬, ২০ ওভার
ফজলে ৩৯, সাইফ ৩৭, শামীম ২৫
নাসুম ২/১১, মুগ্ধ ২/২৩, রিয়াদ ২/২৯

এনামুল ২/১০, শামীম ২/১৭, শরিফুল্লাহ ২/২১