Scores

নাইম শেখের বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও লক্ষ্য

বাংলাদেশ দলের বেশ প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার হিসেবে ধরা হয় নাইম শেখকে। বর্তমানে টাইগারদের রঙিন জার্সি গায়ে চাপালেও নাইম স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই প্রতিনিধিত্ব করার। তবে আপাতত সাদা বলেই ধ্যানজ্ঞান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের।

 

সৌম্য-নাইমে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা
নাইম শেখ। ফাইল ছবি

 

Also Read - লকডাউন না মানায় ক্রিকেটারের জরিমানা


বন্ধ ক্রিকেট, লম্বা ছুটি। তবে এমন ছুটি কেইবা চাইবে! দেশের আর দশটা ক্রিকেটারের মতই করোনাকালে গৃহবন্দি সময় কাটছে নাইমের। সেই সময়ের বেশিরভাগই ব্যয় করছেন পরিবারের সাথে। গল্পে গল্পে সময় যাচ্ছে চলে। সন্ধ্যা থেকে রাত গড়িয়ে মধ্যরাত। বাবা-মায়ের সাথে কাটানো সময়ে রাতের খাবারের কথাও অনেকসময় ভুলে যাচ্ছেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।

তবুও আক্ষেপ নাইমের। টানা এমন গৃহবন্দি জীবন কাটাননি কোনদিনও। এতো দীর্ঘসময় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার কথা ভাবতেও পারছেন না ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। কিন্ত বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে। এরই ফাঁকে মুঠোফোনে সময় দিয়েছেন বিডিক্রিকটাইমকে। যেখানে কথার ঝাঁপি খুলে বসেছেন নাইম। বলেছেন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও লক্ষ্য নিয়ে। নাইমের সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

প্রশ্ন: ক্রিকেট থেকে লম্বা বিরতি। গৃহবন্দি এই সময়টা কেমন কাটছে আপনার?

নাইম: বাসায় মানসিক একটা চাপে আছি। আব্বু-আম্মু বাসা থেকে একেবারেই বের হতে দেয় না। বাসা থেকে কেন! রুমের বাহিরে বের হতে দিতে চাচ্ছেন না। সবেমিলে মানসিক একটা চাপে আছি।

প্রশ্ন: চলতি মৌসুমে আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন। তবে এক রাউন্ড পরেই বন্ধ হয়ে গেছে এবারের ডিপিএল। গতবার রূপগঞ্জের হয়ে অল্পের জন্য শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ। শেষপর্যন্ত ডিপিএল আবার মাঠে গড়ালে লক্ষ্য কী থাকবে?

নাইম: এবারের আসরে আমার শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচের প্রথম বলেই আউট হয়েছি। ব্যক্তিগত একটা পরিকল্পনা তো থাকেই। ডিপিএলে আমার প্রথম আসরে আমি ওভাবে বুঝে খেলতে পারিনি। দলের জন্য যেভাবে খেলতে হয় ওভাবেই খেলেছি। পরেরবারও মানে গতবারও একই। এবার উপরের দিকে যত সাজানো-গোছানো খেলা হবে, আমাদের দল তত ভালো একটা স্কোর পাবে। আর আমাদের টপ-অর্ডাররা যদি একটু ভালো খেলে দিতে পারে তো দলের জন্য ভালো। আমাদের অধিনায়ক মুশফিক ভাই বলেছেন, ব্যক্তিগত সবার একটা লক্ষ্য থাকবে, তবে সবার পরিকল্পনা থাকবে ম্যাচ কিভাবে জেতানো যায়।

প্রশ্ন: গত আসরে আটশোর উপর রান করেছেন। তবে ৭ রান বেশি করে আপনাকে টপকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন সাইফ হাসান। এবার যদি ডিপিএল হয়, তবে ব্যক্তিগত এমন কোনো লক্ষ্য থাকবে কীনা?

নাইম: আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলতে আমি ভালো কিছু করতে চাই। যেমন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বা সেরা পাঁচে থাকবো ব্যক্তিগত এমন কোনো ইচ্ছে নাই। একদম শুরু থেকেই আমার ইচ্ছে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করবো। যেই কটা ম্যাচই খেলতে পারি, সবই দলের জন্য খেলবো।

ডিপিএলের দুর্দান্ত মোহাম্মদ নাইম।
নাইম শেখ। ফাইল ছবি

প্রশ্ন: দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এই ফরম্যাটে আপনাকে নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনাও আছে বোর্ডের। এটা কিভাবে দেখেন?

নাইম: সত্যি বলতে সাদা বলের ক্রিকেটটা খুব সহজ আমার জন্য। এই বলে মনেহয় আমি খুব ভালো খেলি। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট আমি সবসময় পছন্দ করি। তো আমার যদি লাল বল খেলতে হয় তো আমার আরও অনেক অনুশীলন করতে হবে, লাল বলের উপর কাজ করত হবে। আমি সাদা বলে যত অনুশীলন করেছি, আসলে লাল বলে অতো অনুশীলন করা হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমি কিছু ম্যাচ খেলেছিলাম, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান এ দলের সাথে। তো খুব ভালো ফালাফল পাইনি লাল বলে। কিন্তু সাদা বলে আমি কিন্তু খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছি।

প্রশ্ন: তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় টেস্ট বাদ দিয়ে শুধু সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট নিয়েই ধ্যানজ্ঞান নাইমের?

নাইম: সত্যি বলতে এখন আসলে লাল বলে নিয়ে আমার কোনো প্রস্তুতি নেই। এখন সাদা বল যতটা ফোকাস করা যায়। সাদা বলে এখন আমি ক্লিন পারফরম্যান্স করতে পারি তার উপরেই ফোকাস। লাল বল নিয়ে আমি আপাতত ভাবতে চাচ্ছি না। এখন লাল বল নিয়ে সেভাবে চিন্তাই করছি না। যেমন সবশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে একটা-দুইটা ম্যাচ খেললাম, সেখানে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা আসলে ছিল না। আসলে আমার সবকিছুর জন্যই অনুশীলন দরকার। আমি যদি ঠিকঠাক অনুশীলন না করি তাহলে আমার কোনো কিছুই ঠিক থাকে না।

প্রশ্ন: চলমান পরিস্থিতিতেও আইসিসি এবং আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া আশাবাদী আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে। যদি তেমনটা হয়, তবে বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার আলাদা কোনো ভাবনা আছে কীনা?

নাইম: সত্যি বলতে বিশ্বকাপ নিয়ে আমি এখনো ওভাবে চিন্তা করিনি। চিন্তা করছি সামনে যত খেলা আছে, আমার কোচ আমাকে যেভাবে চাচ্ছে, মানে কোচ আমাকে নিয়ে একটা পরিকল্পনা করছে। তো দলের সবাইকে আলাদা করে একটা একটা পরিকল্পনা দিয়েছে। যেমন আমার একটা কাজ, লিটন ভাইয়ের একটা কাজ, আফিফের একটা কাজ। তো সবাইকে একটা করে কাজ দিছে, এই কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারছি কীনা এটার উপর এখন কোচ ফোকাস দিচ্ছে। এই কাজটা যদি আমরা এখন থেকে ঠিকঠাক করতে পারি তো বড় একটা ইভেন্টে গিয়ে আমাদের জন্য সহজ হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই আমাদের এগুলো শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনেক কিছুই পরিবর্তন এসেছে ড্রেসিংরুমে। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে, কোচদের মধ্যে, যে আমরা বড় কিছু একটা পাইতে গেলে ধৈর্যর একটা ব্যাপার আছে। একটা জিনিস হুট করে হয় না। তো কোচ আমাকে কিছু কাজ দিছে সেই কাজগুলো একটু একটু করে শেষ করার চেষ্টা করছি।

আফিফ, নাইম, বিপ্লবের প্রশংসায় অধিনায়ক

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিকে অনেকেই বলেন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের খেলা। সেখানে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হয়েও শেষ কয়েকম্যাচ আপনার স্ট্রাইকরেট প্রশ্নবিদ্ধ। এই বিষয়টা আপনাকে ভাবায়?

নাইম: আমাদের আসলে দুই ওভারের একটা পরিকল্পনা আছে যে এই দুই ওভারে ১০ রান, ১২ রান, ১৫ রান যাই হোক না কেনো সেটা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু উইকেট হারানো যাবে না। আর সত্যি কথা বলতে দল থেকে আমার উপরে ওরকম কোনো চাপ নেই। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নিজে আমাকে চাপ মুক্ত থাকতে বলেছে। আমি একশো স্ট্রাইক রেট বা আশি স্ট্রাইক রেটে খেললে আমার কোনো সমস্যা নাই। আমি পরে কিন্তু পুষিয়ে দিবো। স্ট্রাইক রেটটা আমি চাচ্ছি একটু বাড়ানোর জন্য। আর পাওয়ার-প্লেতে সিঙ্গেলসগুলো যেন আরও একটু বেশি খেলতে পারি এটার উপর কোচ এখন আমাকে নিয়ে কাজ করছেন। ওভাবে বেশি কিছু চিন্তা করছি না। আসলে এই জিনিসটা নিয়ে আমার কাজ চলছে। দুইটা ম্যাচে ওরকমভাবে সফল হতে পারিনি। তবে কোচরা বলছে তুমি একদম সঠিক পন্থায় আছো। এটা আসলে দলগত পরিকল্পনাও আছে আমাদের।

প্রশ্ন: প্রথমবারের মত বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সুযোগ পেলেন। এতে আত্মবিশ্বাসটা আরেকটু মজবুত হলো কী?

নাইম: ভালো একটা প্রসঙ্গ তুলেছেন। মনেহয় টিম ম্যানেজমেন্টের একটা পরিকল্পনা আছে আমাকে নিয়ে বা ভালো কিছু চিন্তা করতেছে। কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ের সাথে যখন অনুশীলন ম্যাচ খেলছিলাম, তখন নান্নু (প্রধান নির্বাচক) স্যার আমাকে লাল বল নিয়ে বলেছে। বলেছে তোর তো লাল বল নিয়ে কজ করা বাকি, এখন সাদা বল নিয়ে যেভাবে খেলতেছিস, সেভাবেই খেলতে থাক। যে যাই বলুক পরিবর্তনের বেশি দরকার নাই। তবুও আমি বলেছিলাম স্যার, আমারতো লাল বলে অনুশীলন করা দরকার। স্যার বলে, দরকার নাই। এখন সামনে এই ফরম্যাটের এমন কোনো খেলাও নাই। সাদা বলে বেশি মনোযোগ দে। তো ক্রিকেট বোর্ড অবশ্যই কোনো পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনায় রাখছে এজন্য মনেহয় কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখতে পারে।

প্রশ্ন: মাত্র একটা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। সিলেটে অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ। তবুও ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি। তামিম, লিটন, সৌম্য থাকাতে এই ফরম্যাটে নিজের সুযোগ কতটুকু দেখছেন?

নাইম: সুযোগ নিয়ে আসলে এখন চিন্তা করছি না। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে যে আমাকে টিমে রাখা প্রয়োজন তাহলে রাখবে। আমার ব্যক্তিগত একটা পরিকল্পনা আছে, আমি যেভাবে খেলি আমার সেই ধরণের তো বাইরে আমি যেতে পারবো না। আমাকে যে যা শেখাক, আমার ধরণের মধ্যে থেকেই একশো শতাংশ দিতে পারলে ভালো কিছু হবে। কিন্তু আপনি যে তিনটা নাম বললেন, এই তিনটা নামের সাথে আমি কখনো নিজেকে তুলনা করিনি। আমি তাদের থেকে অনেক ছোট, তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ। তো এখন দলের সাথে থাকছি, একটা-দুইটা ম্যাচ খেলছি, ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতাটা আমার জন্য অনেক গুরত্বপূর্ণ আমি মনেকরি। নির্বাচকরা দলের সাথে থাকার জন্য যে সুযোগ দিচ্ছে, আমি আশা করছি এটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে নিজের ভবিষ্যৎ কিভাবে লিখতে চান?

নাইম: সত্যি বলতে ভবিষ্যৎ নিয়ে সেভাবে কখনো চিন্তা করিনি। আসল কথা হলো যদি ফিট থাকতে পারি, যতদিন ক্রিকেট খেলবো মনে রাখার মতই ক্রিকেট খেলতে চাই। এখন কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কথা হলেই ৫ জনের (মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল) কথা হয়। বর্তমানে আমাদের একটা ব্যাচ আছে এরকম, তো ভবিষ্যতে এমন একটা ইচ্ছে আছে। ফিট থাকলে আস্তে আস্তে সামনের দিকে আগাতে থাকি।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

শ্রীলঙ্কা সফরে কমছে টেস্ট, যোগ হচ্ছে টি-২০!

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করবে বিসিবি

শনিবার থেকে অনুশীলন, কোয়ারেন্টিন শেষে ফিরবেন তামিম

চিকিৎসার জন্য ইংল্যান্ড গেলেন তামিম

দুই কন্যা বদলে দিয়েছে সাকিবের জীবন