Scores

নাটকীয় ম্যাচে এক রানের জয় দোলেশ্বরের

জয়ের জন্য রান প্রয়োজন ১০০। বল বাকি এখনো ১৫২ টি। সবচেয়ে বড় কথা হাতে উইকেট আছে আটটি। হঠাৎ ব্যাটিং ধসের কারণে এমন শক্ত অবস্থানে থেকেও প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে এক রানে হেরেছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।

নাটকীয়তায় ভরা এ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে প্রাইম দোলেশ্বর। শুরুটা ভালো হয়নি দোলেশ্বরের। ১৬ রান তুলেই থামে ওপেনিং জুটি। ১১ রান করে মুক্তার আলির বলে তুষার ইমরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ইমতিয়াজ হোসেন। রানের চাকাটাও মন্থর ছিল দোলেশ্বরের। পনেরো তম ওভারে আশরাফুল বোল্ড করেন আবদুল মজিদকে। ৩৬ বলে ৬ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলেন তিনি। দলের রান তখন ৩৪।

পুনিত বিশতকে নিয়ে ৪৬ রান যোগ করেন শাহরিয়ার নাফিস। দলীয় ৮০ রানের মাথায় সঞ্জিত সাহার বলে এলবিডব্লিউ হন পুনিত (২৩)। শাহরিয়ার নাফীসের ইনিংসটিও ছিল ধীরলয়ের। ৩৯ রান করতে গিয়ে খরচ করেন ৯৩ বল। ১০৬ রানের সময় নাবিল সামাদের শিকার হন নাফীস। অধিনায়ক ফরহাদ রেজা (১০) ফিরে যান নাহিদ হাসানের বলে। তবে ব্যাট হাতে কোনো বাউন্ডারি না মারলেও ৪০ বলে ৩১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মার্শাল আইয়ুব। শেষদিকে জাকের আলির অপরাজিত ৪৪ বলে ৩৮ (৩ চার ও ১ ছক্কা) এবং শরীফুল্লাহর ১৫ বলে ১৫ রানে ভর করে ২০০ রান পার করে দোলেশ্বর। শরীফুল্লাহ, আরাফাত সানি ও রাহাতুল ফেরদৌসকে ফিরিয়ে দিয়ে দোলশ্বরের লেজ গুটিয়ে দেন সঞ্জিত। চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। আশরাফুল লাভ করেন দুই উইকেট।

Also Read - ভারতকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে রাজি দলগুলোঃ পিসিবি প্রধান


জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা এনে দেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র ও তাসামুল হক। তাদের ৬২ রানের জুটিতে জয়ের পথে এগিয়ে যায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।  মেহরাবকে (২৯) বোল্ড করে এ জুটি ভাঙেন শরিফুল্লাহ। এক প্রান্ত আগলে রাখেন তাসামুল। তুষার ইমরানকে নিয়ে যোগ করেন ৪০ রান। ১৭ রান করে রাহাতুলের শিকার হন তুষার।

তুষারের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান মোহাম্মদ আশরাফুল। ৭ রান করে ফরহাদের বলে ক্যাচ দেন দেলোয়ারকে। এরপর তাসামুলকে সঙ্গ দেন জসিমউদ্দিন। ১২৬ বলে ৮৯ রান করে আরাফাত সানির বলে আউট হন তাসামুল। দলীয় রান তখন ১৬২।

কলাবাগানের রান দরকার তখন ৪০। হাতে উইকেট ছয়টি। কিন্তু ৩৮ রানেই ছয় উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ধসের শুরুটা হয় হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে দিয়ে।  ১ রান করে আরাফাত সানির বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। পরের ওভারে জসিমউদ্দিনকে ফেরান শরীফুল্লাহ। ক্যাচ তালুবন্দী করেন পুনিত। নিজের পরের ওভারে শরিফুল্লাহ আউট করেন মুক্তার আলিকে। এবার ক্যাচ ধরেন মার্শাল। এক ওভার পরে ফরহাদ রেজা বোল্ড করেন রাকিবুল হাসানকে। নিজের পরের ওভারে সঞ্জিত সাহাকেও বোল্ড করেন ফরহাদ। ফরহাদ রেজার তোপে পড়ে ছিটকে যায় কলাবাগান।

শেষ উইকেটে ১৭ বলে ১৮ রান দরকার ছিল কলাবাগানের। ফরহাদ রেজার করা ৪৮তম ওভারে ৩ রান নেন নাবিল ও নাহিদ। খেলার মোড় ঘুরে যায় পরের ওভারে। দেলোয়ার হোসেনের করা ওভারে ১১ রান নেয় কলাবাগান। নো বল ও ফ্রি হিটে নাহিদ হাসানের হাঁকানো ছক্কার সুবাদে জয়ের কাছাকাছি চলে যায় কলাবাগ্ন। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দূরে ছিল কলাবাগান।

ফরহাদ রেজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন নাবিল সামাদ। কিন্তু পরের বলেই রান আউট হন নাহিদ হাসান। শ্বাসরূদ্ধকর এ ম্যাচ প্রাইম দোলেশ্বর জিতে যায় ১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ প্রাইম দোলেশ্বর ২০২/৯, ৫০ ওভার
নাফীস ৩৯, জাকের ৩৮* মার্শাল ৩১
সঞ্জিত ৪/২৮, আশরাফুল ২/৩৪

কলাবাগান ক্রীরা চক্র ২০১/১০, ৪৯.২ ওভার
তাসামুল ৮৯, মেহরাব ২৯, তুষার ১৭
রেহা ৩/৩২, শরীফুল্লাহ ৩/৩৬

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

পারিশ্রমিক না পেয়ে বিসিবির শরণাপন্ন কলাবাগানের ক্রিকেটাররা

কলাবাগানের তিন ক্রিকেটারকে পারিশ্রমিক না দেয়ার অভিযোগ

মিজানুরে ম্লান আশরাফুলের ‘রেকর্ড’ শতক

আশরাফুলের ‘বিরল’ রেকর্ড

আশরাফুলের টানা তৃতীয় শতক