না ফেরার দেশে সাবেক কোচ আলতাফ হোসেন

বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সৈয়দ আলতাফ হোসেন। মঙ্গলবার রাতে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক কোচ ও ক্রিকেটার সৈয়দ আলতাফ হোসেন। জীবনজুড়ে ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

না ফেরার দেশে সাবেক কোচ আলতাফ হোসেন

১৯৩৮ সালে হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশভাগের পর চলে আসেন বাংলায়। তখন তার বয়স মাত্র আট।  ১৯৫৪ সালে কায়েদে আজম ক্লাবে শুরু করেন ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার।  খেলেছেন মোহামেডান,  ইস্ট পাকিস্তান জিমখানা ওয়ান্ডার্স, পিডব্লিউডি ক্লাবের হয়েও। ১৯৭০ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বও পালন করেছেন । এরপর কাজ করেছেন কোচ হিসেবে।

Also Read - আবাহনীর স্বপ্নভঙ্গ, সেমিতে প্রাইম ব্যাংক


১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলেও ডাক পান আলতাফ হোসেন। পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তান দলে ডাক পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলে থাকলেও একাদশে নামানো হয়নি তাকে।

লম্বা গড়নের এ ক্রিকেটার ছিলেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার। এরপর হয়ে উঠেছেন অলরাউন্ডার। ব্যাটিং করতেন মিডল অর্ডারে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর নিজেকে কোচিংয়ের সাথে যুক্ত করেন তিনি। ১৯৭৬ থেকে ২০০১- দীর্ঘ ২৫ পছর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রথম ক্রিকেট কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচিংয়ের পথিকৃৎ বলা হয় তাকে।

না ফেরার দেশে সাবেক কোচ আলতাফ হোসেন
ছবি কৃতজ্ঞতা : আলতাফ হোসেনের পরিবার।

১৯৯৯ সালে পান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার।  ২০০১ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচের পদ থেকে অবসর নেন। এরপর কোচিংয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন পাঁচ বছর। ২০০৬ সালে শারীরিক কারণে কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।

পুরুষ জাতীয় দল ও প্রমীলা জাতীয় দল-দুই দলেরই কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘এ’ দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচও ছিলেন। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে সূর্যতরুণ,  বাংলাদেশ বিমান, সিটি ক্লাব সহ বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ের  পিতা তিনি।  দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন বার্ধক্যজনিত নানান অসুস্থতায়।


আরো পড়ুন : তিন ক্রিকেটারের পাওনা পরিশোধ করতে হবে মোহামেডানকে

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন