Scores

র‍য় ঝড়ে বিধ্বস্ত নিউ জিল্যান্ড

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে নিউ জিল্যান্ড ছিল অপ্রতিরোধ্য। গ্রুপ পর্বে কিউইরা ছিল অপরাজিত। তাদের জয়ের রথ থামালো ইংল্যান্ড। উইলিয়ামসনের ৭ উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরগানরা। আর এ জয়ের নায়ক হলেন জেসন রয়।

ছবিঃ আইসিসি
ছবিঃ আইসিসি

টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার মার্টিন গাপটিল মারকুটে ব্যাটিং করেন। তবে নিজের ইনিংস লম্বা করতে পারেননি গাপটিল। দলীয় ১৭ রানের মাথায় উইলির বলে উইকেট রক্ষক বাটলারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান গাপটিল (১৫)।  তারপর হাল ধরেন কলিন মুনরো। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আর কলিন মুনরো খেলতে থাকেন আধিপত্য বিস্তার করে।

নিয়মিত প্রান্ত বদলের পাশাপাশি বাউন্ডারির পশরাও যেন সাজিয়েছিলেন দুজন। তাদের  ৭৪ রানের জুটিতে নিউ জিল্যান্ড দেখে বড় স্কোরের স্বপ্ন। তাদের জুটি ভাঙেন মঈন আলি। নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে ফেরান উইলিয়ামসনকে। ২৮ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডকে পরের ধাক্কাটা দেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৬ রান করা মুনরো প্লাঙ্কেটের বলে ধরা পড়েন থার্ড ম্যানে।

Also Read - আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্মিথের হতাশা


রস টেলরকে নিয়ে ২৭ রান যোগ করেন কোরি অ্যান্ডারসন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন অ্যান্ডারসন। ৬ রান করে জর্ডানের বলে টেলর সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর হঠাৎ ভেঙে যায় নিউ জিল্যান্ড। পরের ওভারে বেন স্টোকস লুক রঞ্চি আর অ্যান্ডারসনকে সাজঘরে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে খেলায় ফেরান। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ২৮ রান করেন অ্যান্ডারসন। রানের গতিও হয়ে আসে কিছুটা মন্থর। শেষ দিকে চমৎকার বোলিং করে ইংল্যান্ডের বোলাররা। শেষ ওভারে কিউইরা মাত্র ৩ রান সংগ্রহ করে, হারায় দুই উইকেট।

ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি উইকেট লাভ করেন বেন স্টোকস। বড় স্কোর দাঁড় করাতে না পারলেও ১৫৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে এসেই ঝড় তুলেন জেসন রয়। প্রথম ওভারেই হাঁকান চারটি চার। পাওয়ারপ্লেতে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বোলিং দিয়ে পূর্বের ম্যাচগুলোতে বল হাতে প্রতিপক্ষে কিউইরা কাবু করলেও এদিন যেন ছিল নখদন্তহীন। পাওয়ারপ্লে শেষে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে ৬৭ রান জমা হলে খেলা নিউ জিল্যান্ডের হাত থেকে অনেকটাই ফসকে যায়।

একের পর এক দুর্দান্ত শটে বল সীমানাছাড়া করছিলেন জেসন রয়। কিউই ফিল্ডার বাধ্য করেন নীরব দর্শকে রূপ নিতে। রয়-হেলসের ৮২ রানের অসাধারণ এ জুটি ভাঙেন স্যান্টনার। ১৯ বলে ২০ রান করে ফিরে যান হেলস। তারপর রুটকে নিয়ে আরো ২৮ রান যোগ করেন রয়। দলীয় ১১০ রানের মাথায় লেগ স্পিনার সোধির বলে বোল্ড হন রয়। ৪৪ বল মোকাবেলা করে ৭৮ রান করেন রয়। হাঁকান ১১ চার ও ১ ছক্কা। পরের বলেই মরগানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে যেন নিউ জিল্যান্ডের আশার আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রাখেন সোধি। রানের গতিটাও কমাতে পেরেছিল কিউই বোলাররা। কিন্তু তাতে যেন পানি ঢেলে দিলেন রুট ও বাটলার।

সোধির করা ১৭ তম ওভারে রুট ও বাটলার ২২ রান সংগ্রহ করলে খেলায় ইংল্যান্ড জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। ঐ ওভারে ছিল ২ চার ও ২ ছয়ের মার। পরের ওভারে প্রথম বলে স্যান্টনারকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বাটলার ছক্কা হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। ২ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে ১৭ বলে ৩২ রান করেন বাটলার।

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে মাশরাফি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ

দুদকের শুভেচ্ছাদূত হলেন সাকিব