Scores

নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়ঃ মিরাজ

miraj
আজমল তানজীম সাকির

কিছুদিন পর তাদের কাঁধেই থাকবে জাতীয় দলের ভার। বুঝতেই পারছেন, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কথা বলছি। আর সে দল যার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে তিনি হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিডিক্রিকটিম ডট কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন পথচলা, আদর্শ আর ভাবনার কথা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আজমল তানজীম সাকির ।

-একসময় আপনারা জাতীয় দলের হাল ধরবেন। বর্তমান দলের অনেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে কিংবা আলোচনায় এসেছে। জাতীয় দলে খেলা নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

Also Read - প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা


মিরাজঃ জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা সবারই থাকে। আমারও আছে। সত্যি বলতে, অ-১৯ দলটা হলো উঠতি ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। আমিও চাই এ প্ল্যাটফর্মে ভালো পারফরম্যান্স করতে। এখানে ভালো ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা সহজ হয়ে উঠবে। আর জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারেও আমি বেশ আশাবাদী। আমি চাই ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে।

আমাদের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে অ-১৯ দলকে শক্তিশালী করতে হবে। কেননা যখন জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়রা খেলে ছেড়ে দিবেন তখন অ-১৯ দলের ক্রিকেটাররাই কিন্তু হাল ধরবে জাতীয় দলের। তাই ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে শক্তিশালী রাখলে হলে অ-১৯ দলের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

-অ-১৯ দলে খেলছেন।  দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিষয়টি কেমন লাগে?

মিরাজঃ আমি দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটি ভাবলে  নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।

-কোনো খেলোয়াড়কে আদর্শ হিসেবে নিয়েছেন?

মিরাজঃ জাতীয় দলের অনেককেই বেশ ভালো লাগে। ব্যাটিংয়ে আইকন মুশফিক ভাই। এছাড়া লিটন দাসের ব্যাটিংও আমার দারুণ লাগে। সৌম্য সরকারের ব্যাটিংও উপভোগ করি। বোলিংয়ের ক্ষেত্রে আমার আদর্শ ভারতের রমেশ পাওয়ার।

– আপনি তো অলরাউন্ডার। ব্যাটিং,বোলিং দুটোই করেন। কোনটিতে প্রাধান্য দেন বেশি?

মিরাজঃ ব্যাটিং,বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আমি ভালো খেলতে চাই। সবগুলো ডিপার্টমেন্টেই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে ব্যাটিংটাকে প্রাধান্য দেই বেশি।

– সাধারণত আপনি মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করে থাকেন। কত নম্বরে ব্যাটিং করতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

মিরাজঃ চার, পাঁচ কিংবা ছয়, এই তিন জায়গাতেই অধিকাংশ সময় ব্যাটিং করে থাকি। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তবে আমি যেখানেই ব্যাটিং করতে নামি না কেন, আমি চাই ব্যাটিংটা উপভোগ করতে ও ভালো খেলতে।

– কিছুদিন আগে আপনারা খুলনায় একটি ক্যাম্প করেছেন। আপনাদের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ল যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কেমন লাগল?

মিরাজঃ ল খুব অভিজ্ঞ। জাতীয় দলেরও কোচ ছিলেন তিনি। তিনি টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন। আমাদের ছোট ছোট সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তার সাথে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে । আর খুলনায় করা বারো দিনের ক্যাম্পটিতে আমরা বিগত সিরিজের ভুলগুলো শুধরে নেবার চেষ্টা করেছি। কোচরাও আমাদের বেশ সাহায্য করেছেন।

-সামনে অ-১৯ বিশ্বকাপ। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলবেন, কোনো  বাড়তি চাপ থাকবে কি?

মিরাজঃ চাপ তো থাকবে অবশ্যই। ক্রিকেট চাপের খেলা। ভালো পারফরম্যান্স করতে হলে সেই চাপটা সামাল দিতে হবে। চাপ সামাল দিতে না পারলে ভালো পারফর্ম করা  নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিজ দেশে বিশ্বকাপ খেলব। চাপ সামলে ভালো খেলতে পারলে দলকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

– চাপ সামাল দেয়ার জন্য অভিজ্ঞতা কতটুকু প্রয়োজন? খেলোয়াড়দের কি চাপ সামাল দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে?


মিরাজঃ আমরা প্রস্তুত। শেষ সিরিজগুলো বেশ ভালো কেটেছে আমাদের। এগুলো আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।  আর দলের ১০-১২ জন ক্রিকেটার এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কিংবা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছে। এর ফলে তাদের অভিজ্ঞতা কিন্তু বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। এছাড়া অনেক সিনিয়ার ক্রিকেটারের সাথে মতবিনিময় কিংবা তাদের পরামর্শও বেশ প্রভাব ফেলে।

-বিশ্বকাপের মতো বড় একটি আসরে ভালো খেলতে হলে অবশ্যই দলের সবার মধ্যে সমোঝোতা প্রয়োজন। সেটি কি দলে সবার মধ্যে আছে?

মিরাজঃ অবশ্যই।  একের সাথে অন্যের সম্পর্ক খুবই ভালো। প্রত্যেকের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ এটি একটি ইতিবাচক দিক।  বোঝাপোড়া ভালো থাকলে টিমওয়ার্ক ভালো হয়।

-নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি কি চাপ হিসেবে নেন?

মিরাজঃ মোটেই না। আমি অধিনায়কত্ব করতে উপভোগ করি। ছোট থাকতেই বিভিন্ন দলের অধিনায়কত্ব করেছি। আর অ-১৯ দলে মাঠে সতীর্থরা সবসময় সমর্থন দেয়। এছাড়া আমার অধিনায়কত্বে দল জিতলে দারুণ লাগে।

-“ভবিষ্যতের নায়ক” কিংবা ” তরুণ বাঘ”- এমন বিশেষণেও বিশেষিত করা হয় আপনাদের। এই সমর্থণ চাপের সৃষ্টি করে না প্রেরণা জোগায়?

মিরাজঃ এটি আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যখন ভালো পারফর্ম করি তখন এমন মন্তব্যগুলো সত্যি ভালো লাগে। ম্যানেজমেন্টের সবাই আমাদের উৎসাহ দেয়,  সমর্থণ করে এ ব্যাপারটিও দারুণ। জাতীয় দলের তারকারাও আমাদের নিয়ে বেশ ভালো মন্তব্য করেছেন। এটি সত্যি খুব উৎসাহ দেয়।

-আপনার ক্রিকেটে হাতেখড়ি সম্পর্কে কিছু বলুন।

মিরাজঃ আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি ২০০৭ সালে। তখন স্থানীয় মাঠে প্র্যাকটিস করতাম না। কিন্তু পরিবারের কেউ ব্যাপারটাতে সমর্থন দিত না। আমি কোচকে সব খুলে বলি। তিনি আমাকে নিয়মিত প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে বলেন। এভাবেই শুরু হয়।

-কোনো ঘটনা কি এখনও অনুপ্রেরণা দেয়?

মিরাজঃ আমি একবার অ-১৫ দল থেকে বাদ পড়ি। বাদ পড়ে মন খুব খারাপ হয়ে যায়। কোচ সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, বলেছিলেন তুমি খুব ছোট। হাতে অনেক সময়। প্র্যাকটিস চালিয়ে যাও। আমি নিয়মিত প্র্যাকটিস চালিয়ে যাই আর তার সাথে যোগাযোগ রাখি। পরের বছর তিনি আমায় অ-১৫ দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এ ঘটনাটি আজও মনে পড়ে।

-অবসরে কি করেন? 

মিরাজঃ অবসর সময়ে ক্রিকেট নিয়েই থাকি। গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে মাঠে চলে যাই। সেখানে প্র্যাকটিস করি।

-সময় দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

মিরাজঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ