Scores

নিজেকে সংযত রেখেই উন্মাদনা উপভোগ করছেন শুক্কুর

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে আলো ছড়িয়েছেন যে কজন ক্রিকেটার‍, তার মধ্যে অন্যতম ইরফান শুক্কুর। ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। শুক্কুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিসিবি সভাপতি থেকে শুরু করে, পরিচালক, নির্বাচকরা। তাকে নিয়ে মিডিয়া, সমর্থকদের মাতামাতিটাও নেহায়েত কম নয়। তবে এসব উপভোগ করলেও নিজেকে সংযত রাখছেন শুক্কুর।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ শুক্কুর। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলেছেন এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, নুরুল হাসান সোহানদের সাথে। তবে যুব দলের বেশ কয়েকজন সতীর্থ জাতীয় দলে খেললেও এখনো সুযোগ মেলেনি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। কিন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন শুক্কুর।

Also Read - ডিসেম্বরেই দর্শক ফিরবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে!


সেখানে ভালো করাতেই তার উপর আলাদা নজর আছে টাইগার বোর্ডের। এবার সুযোগ পেয়েছিলেন নিজেকে প্রমাণের। সদ্য শেষ হওয়া বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বাজিমাত করেছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।

৬ রানের জন্য মুশফিককে টপকিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে না পারলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন শুক্কুর। তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ সমর্থকররা। অনেকেই বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে বাছছেন শুক্কুরকে। তাকে দিয়েই ফিনিশারের অভাবটা ঘোচানোর পক্ষে মত অনেকের।

নিজেকে নিয়ে এমন মাতামাতিটা বেশ উপভোগ করছেন শুক্কুর নিজেও। তবে গা ভাসিয়ে দিতে নারাজ তিনি। বিডিক্রিকটাইমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় প্রেসিডেন্ট কাপে নিজের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পাঠকদের জন্য তার একটি অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর ফিরে ক্রিকেট কেমন উপভোগ করলেন?

শুক্কুর: সব ক্রিকেটাররাই অপেক্ষা ছিল ক্রিকেটে ফেরার জন্য। মানসিকভাবে সবাই একটু পিছিয়ে পড়েছিল এই ছয়-সাত মাসে। আবার ফিরতে পেরে তো খুব ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: চলতি মৌসুমের ডিপিএল স্থগিত হয়ে আছে। প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেলেন। এই টুর্নামেন্টের জন্য কি পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন?

শুক্কুর: যখন আমি নির্বাচিত হই, একটু তো সময় পেয়েছি। টিম কম্বিনেশন দেখে যেটুকু বুঝেছি, একদশে আমার সুযোগ কম হতে পারে। আমার টার্গেট ছিল, আমি যখনই সুযোগ পাই নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করবো।

প্রশ্ন: দল বিপদে পড়লেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। কয়েকটি ভালো ইনিংস উপহার দিয়েছেন। দলীয় পারফরম্যান্সও শুরুতে ভালো ছিল। তবুও শিরোপা জেতা হলো না…

শুক্কুর: আমার প্রথম দুই-তিনটি ইনিংস ভালো ছিল। কিন্তু আমার শুধু আক্ষেপ হলো, ফাইনালে যদি আমি আরেকটা পার্টনার পেতাম! আমার দলের ইনিংসটাকে যদি আমি ২২০-২৩০ পর্যন্ত নিতে পারতাম, তাহলে গল্পটা অন্যরকম হতো। তাহলে প্রতিপক্ষ দল এতো সহজে ম্যাচটা বের করতে পারতো না। রানটা কম হয়েছে জন্যই তারা আমাদের উপর চাপ তৈরি করতে পেরেছে।

প্রশ্ন: ৫ ম্যাচে ২১৪ রান। ৬ রানের জন্য সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারলেন না। এজন্য হয়তো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটা হাতছাড়া হলো। এনিয়ে আক্ষেপ হয়?

শুক্কুর: সত্যি বলতে আমার এনিয়ে কোন আক্ষেপ নেই। আমার আক্ষেপ একখানে, আমার দলটা চ্যাম্পিয়ন হলো না। আসলে আপনি যখন বাইশ গজে নামেন, তখন সেরা ব্যাটসম্যান বা টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের বিষয়টা কারো মাথায় থাকে না। সবাই চায় দলকে যতটুকু দেওয়া যায়।

প্রশ্ন: পুরো টুর্নামেন্টে ইনিংস বড় করার তেমন সুযোগ হয়নি। শেষ ম্যাচে যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে সেঞ্চুরি পেয়ে যেতে পারতেন। তবে শেষ পর্যন্ত হলো না…

শুক্কুর: আসলে এনিয়ে আমার কোন আক্ষেপ নেই। দল যদি চ্যাম্পিয়ন হতো সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু দলকেই তো চ্যাম্পিয়ন করতে পারলাম না। আমার যদি সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি হতো, আর ম্যাচটা এভাবে হেরে যেতাম, তবে আমার একইরকম খারাপ লাগা কাজ করতো। আক্ষেপ শুধু পুরো টুর্নামেন্টে আমরা অসাধারণ খেললেও ফাইনালে হেরে গেছি।

প্রতি ম্যাচে খেলতে পারবে এক দলের ১২ জন!

প্রশ্ন: প্রেসিডেন্টস কাপে নিয়মিত সাত নম্বরে খেলেছেন। আরেকটু উপরে সুযোগ পেলে ইনিংসগুলো বড় করা যেত, এমন ভাবা এসেছে কখনো?

শুক্কুর: আসলে আমাদের যে টিম কম্বিনেশন ছিল, সেখানে বেশিরভাগই জাতীয় দলের ক্রিকেটার। এই কম্বিনেশনে আমার উপরে খুব একটা সুযোগ পাওয়ার উপায়ও ছিল না। ছয়-সাত নম্বরটাই ফাঁকা ছিল, যেখানে আমি খেলতে পারবো। যেখানেই নামি, আমার পরিকল্পনা ছিল সেরাটা দেওয়ার। তবে এই জায়গায় একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। আপনি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করার মত সময় পাবেন না। সবসময়ই আপনাকে দলের প্রয়োজন বুঝে খেলতে হবে। আমার পরিকল্পনা ছিল দলের জন্য যতটুকু কন্ট্রিবিউট করা যায়। জিনিসটা আমার আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে। প্রেসিডেন্টস কাপে আমি বুঝতে পেরেছি, যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারবো।

প্রশ্ন: এর আগে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত ছিলেন। মাঝে খানিক ছন্দপতন। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে আবার ভালোভাবে আলোচনায় আসলেন। আপনাকে নিয়ে রীতিমত মাতামাতি শুরু হলো…

শুক্কুর: এই জিনিসটা আমাকে বেশ রোমাঞ্চিত করছে। গত বিপিএলের সময় তো একটু…। এখন তো অনেক বেশি ফোকাস পাচ্ছি। একটু বেশিই। যদিও অনেক ভালো লাগছে, তবুও আমি এদিকে লক্ষ্য না রেখে সামনে যে ট্রেনিং আছে, সেদিকে মনোযোগ দিতে চাচ্ছি। উপভোগ তো করবোই, তবে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে নয়।

প্রশ্ন: জাতীয় দলের দলের অংশ নিজের পরিকল্পনা?

শুক্কুর: জাতীয় দলের বিষয়টা যদি পরিকল্পনায় রাখি, তাহকে মানসিকভাবে অনেক চাপ তৈরি হবে। আমি শুধু একটা পরিকল্পনায় করতেছি, আমি যদি সামনে এক-দুই বছর আমার কাজটা করতে থাকি, কঠোর পরিশ্রম করতে থাকি, তবে পরিস্থিতি বুঝে সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবো। আমি এখন শুধু ধাপে ধাপে এগুতে চাচ্ছি। সামনে যে খেলাটা আছে সেখানেই মনোযোগ দিতে চাচ্ছি। যদি এভাবে ভালো করতে পারি, তবে বাকিটা নির্বাচকদের ইচ্ছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলে একজন ফিনিশারের আকাল। সেখানে ৭ নম্বরে ব্যাট করে আস্থা জুগিয়েছেন। নিজে কীভাবে ভাবছেন?

শুক্কুর: যদি জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হয়, নির্বাচকরা, টিম ম্যানেজম্যান্ট আমাকে যে জায়গার জন্য উপযুক্ত মনে করবে আমি সেখানের জন্যই লড়াই করবো। আমি নাজমুল একাদশের হয়ে খেলেছি বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে। সেখানে এই ফিনিশারের রোলটা আমার জন্য পুরোপুরিই নতুন ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি সাধারণত উপরের দিকে ব্যাট করি। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, যেকোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে পারবো।

প্রশ্ন: আপনি মূলত উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্রেসিডেন্টস কাপে কিপিং করার সেভাবে সুযোগ আসেনি। তবুও ব্যাট হাতে ভালো করেছেন। শুধু ব্যাটসম্যান নাকি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান, কোনটাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

শুক্কুর: উইকেট কিপিংটা করলে আপনার সামনে ব্যাটিংটা খুবই সহজ হয়ে যায়। এটা এমন এক দায়িত্ব, যেখানে থাকলে উইকেটটা বোঝা সহজ হয়। কিপিং আর ব্যাটিং, দুই রোল একসাথে প্লে করলে ভালো হয়। আমি এই দুইটা কাজ একসাথে করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

প্রশ্ন: আপনার ফিটনেস নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

শুক্কুর: সত্যি বলতে আমি ডায়েট নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করি। ডায়েট নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করি। আমি বলবো যে ডায়েটটা ফিটনেসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা আপনার ফিটনেসকে ধরে রাখতে অনেক সাহায্য করবে।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

Related Articles

পরিশ্রম আর পারফরম্যান্সকে পুঁজি করছেন শুক্কুর

তামিমের অধীনে খেলতে মুখিয়ে আছেন আত্মবিশ্বাসী শুক্কুর

অর্ধশতক হাঁকিয়ে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের পথে ইরফান

মুশফিকের দেওয়া ‘ক্যারেক্টার শো’ এর মন্ত্রে বিভোর শুক্কুর

‘ট্র্যাকে ফিরে’ শুক্কুরের মনোযোগ দলের চাহিদা পূরণে